সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিব্রতকর বিদায় বাংলাদেশের

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

জিতলেই চলত না, জিততে হতো অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে। ফাইনালে ওঠার এমন সমীকরণ সামনে রেখে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল মাত্র ১৬০ রানে। এরপরও কাগজে-কলমে টিকে থাকা আশাটুকু শেষ হলো আফগানিস্তান ১১৯ রান পেরোতেই। বাকি ছিল শুধু ম্যাচের ফল নির্ধারণ। সেখানেও সান্ত্বনা মিলল না। ৭ উইকেটের হারে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে বিদায় নিল তাওহিদ হৃদয়ের দল।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ১৬১ রানের লক্ষ্য ৩৫.৩ ওভারেই পেরিয়ে যায় আফগানিস্তান। রহমত শাহ অপরাজিত থাকেন ৬৭ রানে। এ নিয়ে আফগানদের কাছে টানা পাঁচ ওয়ানডেতে হারল বাংলাদেশ। আগামী ২৩ অক্টোবর শারজায় ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান।
বাংলাদেশের বিদায়ের ভিতটা তৈরি হয়েছিল নিজেদের ব্যাটিংয়েই। টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নেওয়ার পর ২৮ রানেই নেই ৪ উইকেট। সেখান থেকে পারভেজ হোসেন ও সাইফ হাসানের ৯২ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। কিন্তু সেই জুটি ভাঙতেই আবার ধস। ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

৯৬ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন পারভেজ। সাইফের ব্যাট থেকে আসে ৮২ বলে ৪১। এই দুজনের বাইরে দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পেরেছেন শুধু নাজমুল হোসেন, ২৩ বলে করেছেন ১৫ রান। সৌম্য সরকার, অধিনায়ক হৃদয়, আলিস আল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান ফেরেন শূন্য হাতে।

শুরুতেই বাংলাদেশকে ধাক্কা দেন ইয়ামিন আহমেদজাই। দ্বিতীয় ওভারে পরপর দুই বলে ফেরান তানজিদ হাসান ও সৌম্যকে। তানজিদ উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ১ রান করে। পরের বলে কাট করতে গিয়ে বল স্টাম্পে টেনে আনেন সৌম্য। দলীয় ৮ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

শান্ত কিছুটা প্রতিরোধের আভাস দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তিনিও ফেরেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। এরপর হৃদয়কে নিজের বলেই ক্যাচ নেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ২৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে তখন বড় বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ।

সেখান থেকে সাইফ ও পারভেজের লড়াই। উইকেট পতন থামিয়ে ধীরে ধীরে দলকে এগিয়ে নেন দুজন। তবে রান তোলার গতি বাড়াতে পারেননি। বাংলাদেশের একশ রান পূর্ণ করতেই লেগে যায় ২৬ ওভার।

লিটন দাসের বদলি হিসেবে সুযোগ পাওয়া পারভেজ ৭৪ বলে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। কিন্তু তার এই মাইলফলকের পরের বলেই ভাঙে জুটি। মোহাম্মদ নবীকে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন সাইফ। দলীয় ১২১ রানে তার বিদায়ের পর আর দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং।

মেহেদী হাসান মিরাজ ফেরেন ২ রানে। শরীফুল ইসলাম কিছুক্ষণ পারভেজকে সঙ্গ দিলেও ৭ রানে তাকে বোল্ড করেন রশিদ খান। এক প্রান্ত আগলে রাখা পারভেজও শেষ পর্যন্ত রশিদের বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়েন। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি।

শেষটাও হয় রশিদের টানা দুই আঘাতে। আলিসকে স্লিপে ক্যাচ দেওয়ানোর পরের বলেই মোস্তাফিজকে বোল্ড করেন এই লেগ স্পিনার। ৩১ রানে ৪ উইকেট নেন রশিদ। ইয়ামিনের শিকার ২১ রানে ২ উইকেট।

ফাইনালে ওঠার জন্য আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল বাংলাদেশের সামনে। অথচ রান তাড়ার প্রথম ১৬ বলেই ২৬ রান পেয়ে যায় আফগানরা, যার ১০ রান আসে অতিরিক্ত খাত থেকে।

এর মধ্যেই তাসকিন আহমেদ কিছুটা আশা জাগান। তৃতীয় ওভারে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে বোল্ড করার পর সপ্তম ওভারে একইভাবে ফেরান সেদিকউল্লাহ আতালকে। ৩৯ রানে দুই উইকেট হারায় আফগানিস্তান।

কিন্তু রহমত শাহ ও ইব্রাহিম জাদরানের জুটিতে ক্রমেই ফিকে হতে থাকে বাংলাদেশের আশা। দলীয় রান একশ ছোঁয়ার আগে ইব্রাহিমকে ফেরান মোস্তাফিজ। ২০ ওভার শেষে আফগানিস্তানের স্কোর ছিল ৯৫ রানে ৩ উইকেট। এরপর আর কোনো উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। রহমতের অপরাজিত ৬৭ রানে আফগানিস্তান পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: