সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে’ হামলার ঘটনায় জড়িতদের ছাড় নয়

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে উল্লেখ করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে ঢাকার পুলিশপ্রধান বলেছেন, কোনো দল বা মত দেখা হবে না, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে। যারা এসব করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথাগুলো বলেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।

ঘটনাস্থলের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে শাহ আলী থানা অবস্থিত। সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতেই ভাঙচুর চালানো হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাত পৌনে দুইটার দিকে ঘটনাটি ঘটেছিল। খবর পাওয়ার পর পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না এবং কারও কোনো অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ জন্য দারুসসালাম অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনারকে (এডিসি) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, কমিটিকে আজকের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে পুলিশের কোনো সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঘটনাটি আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টায় ঘটানো সম্ভব নয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাঁর কাছে মনে হয়েছে, এটি সময় নিয়ে করা হয়েছে। বিশেষ করে ভবনের দুই পাশের টিনশেড ক্ষতিগ্রস্ত ও ভাঙচুর করা হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন জায়গায়ও ভাঙচুরের আলামত পাওয়া গেছে।

মোসলেহ্‌ উদ্দিন আহমদ বলেন, ভবনের ভেতরে থাকা বিভিন্ন ডেটা-সংক্রান্ত সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির অনেকগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির লোকজন জানিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারকে (ডিসি) নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারে নাম উল্লেখ থাকা একজনসহ আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি বা কোনো সংসদ সদস্যের ইন্ধন থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট—কোনো দল বা মত দেখা হবে না, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে। কোনো ধরনের দখল, বেআইনি বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কেউ করতে পারবে না। যারা এসব করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও নগদ অর্থ লুট করে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেয়।

‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: