![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
দেশের ব্যাংকিং খাতে উপশাখার মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন- এই তিন মাসে উপশাখাগুলোতে সংগৃহীত মোট আমানত বেড়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সময়ে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক আমানত বৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ।
ফলে ব্যাংকিং সেবাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উপশাখা ব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়ছে।
বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর উপশাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৩টিতে। মার্চ ২০২৬ শেষে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৯৯২টি। অর্থাৎ তিন মাসে নিট ৪১টি উপশাখা বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এপ্রিল-জুন সময়ে নতুন করে ৩০টি গ্রামীণ ও ১৯টি শহুরে উপশাখা চালু হয়েছে। বিপরীতে ৮টি উপশাখা বন্ধ অথবা অন্য শাখা কিংবা উপশাখার সঙ্গে একীভূত হয়েছে। ফলে মোট উপশাখার সংখ্যা বেড়েছে।
উপশাখা বিস্তারে গ্রামীণ এলাকার অংশও সামান্য বেড়েছে। মার্চে মোট উপশাখার ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল গ্রামীণ এলাকায়। জুন শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, উপশাখাগুলোতে সংগৃহীত আমানতের পরিমাণে বেশ বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। মার্চ শেষে উপশাখাগুলোতে মোট আমানতের স্থিতি ছিল ৭৯ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে আমানত বেড়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
ব্যাংক খাতের মোট আমানতের তুলনায় উপশাখার আমানতের অংশও সামান্য বেড়েছে। মার্চে মোট ব্যাংক আমানতের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল উপশাখাগুলোতে। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে।
উপশাখার আমানতের ক্ষেত্রেও গ্রামীণ এলাকার অংশ বেড়েছে। মার্চে মোট উপশাখা আমানতের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল গ্রামীণ এলাকার। জুন শেষে এ হার বেড়ে হয়েছে ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও উপশাখার মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ বাড়ছে।
যদিও নারী গ্রাহকদের আমানতের অংশে সামান্য পতন হয়েছে। মার্চে উপশাখায় থাকা মোট আমানতের ২৬ দশমিক ২ শতাংশ ছিল নারীদের হিসাবের বিপরীতে। জুন শেষে তা কমে হয়েছে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, উপশাখায় আমানত হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মার্চ শেষে এসব উপশাখায় মোট আমানত হিসাব ছিল ৮৪ লাখ ৭০ হাজার। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ লাখ ৭০ হাজারে। অর্থাৎ তিন মাসে হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫ লাখ বা ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
নারীদের নামে খোলা আমানত হিসাবের অংশ অবশ্য কিছুটা বেড়েছে। মার্চে মোট আমানত হিসাবের ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ ছিল নারীদের। জুন শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে উপশাখার মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবের মালিকানায় নারীদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৮ সালে ‘ব্যাংকিং বুথ’ পরিচালনার নীতিমালা জারি করে। পরের বছর এসব বুথকে উপশাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপর ২০২৩ সালে উপশাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার শর্ত ও নিয়মাবলী নির্ধারণ করা হয়। এরপর থেকে উপশাখাগুলোর আমানত, ঋণ ও অবস্থানভিত্তিক তথ্য নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ।
বাংলাদেশ মনে করছে, অপেক্ষাকৃত কম খরচে ব্যাংকিং সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপশাখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় উপশাখার বিস্তার বাড়ার ফলে ব্যাংকিং সেবার আওতা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগের জেলা ভিত্তিক হিসাব দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে রয়েছে সবচেয়ে বেশি ১০০৭টি উপশাখা। চট্টগ্রাম ৪৭০টি, কুমিল্লায় ২১৮টি, নারায়ণগঞ্জে ১৭০টি, গাজীপুরে ১৬৮টি, সিলেটে ১১০টি, নোয়াখালীতে ১০৬টি, বগুড়ায় ১০৩টি, খুলনায় ৯৫টি, টাঙ্গাইলে ৯২টি, ময়মনসিংহে ৯০টি, দিনাজপুরে ৮৮ টি, চাঁদপুরে ৮৬টি বরিশালে ৮২টি যশোরে ৮০টি ফেনীতে ৭৯, কক্সবাজারে ৭৯, রাজশাহীতে ৭৮, রংপুরে ৭৭, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭৭, কিশোরগঞ্জে ৭১, ফরিদপুর ৬৭, নরসিংদীতে ৬৪, সিরাজগঞ্জ ৬৩, পাবনা ৬১, মুন্সিগঞ্জে ৬১, গাইবান্ধায় ৫৫, মৌলভীবাজারে ৫৩, লক্ষ্মীপুরে ৫৩, বাগেরহাট ৫২, সাতক্ষীরা ৫১, কুষ্টিয়া ৫১, নওগাঁ ৪৯, হবিগঞ্জ ৪৮, ঝিনাইদহ ৪২, ভোলা ৪২, মানিকগঞ্জে ৪১, শরিয়াতপুর ৪০, পটুয়াখালী ৩৯, নেত্রকোণা ৩৯, নাটোর ৩৯, জামালপুর ৩৮, নিলফামারী ৩৭, মাদারীপুর ৩৭, ঠাকুরগাঁও ৩৬, পিরোজপুর ৩৫, গাজীপুর ৩৫, রাজবাড়ী ৩০, কুড়িগ্রাম ২৯, চুয়াডাঙ্গা ২৯, নড়াইল ২৮, লালমনিরহাট ২৭, পঞ্চগড় ২৬, মাগুরা ২৬, জয়পুরহাট ২৪, শেরপুর ২৩, সুনামগঞ্জ ২১, বরগুনা ২০, মেহেরপুর ১৮, ঝালকাঠি, ১৩, খাগড়াছড়ি ১২, রাঙ্গামাটিতে ১১ বান্দারবানে ৭টি উপশাখা রয়েছে। উপশাখার দিক দিয়ে দেশে শীর্ষস্থানে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক দ্বিতীয় এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক।