![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
দুই দশকের বেশি সময় ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করার পর জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ফাইনালের পর দীর্ঘ ভাবনা-চিন্তার পর সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানান ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা।
নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মেসি লিখেছেন, ‘ফাইনালের পর থেকে যে সময়টা কেটেছে, অনেক ভেবেচিন্তে আমি সবাইকে জানাতে চাই—আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি!’
জাতীয় দল থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে হৃদয়ে কষ্ট হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মেসি। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করছেন, এটাই সঠিক সময়।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২১ বছর আগে। দীর্ঘ এই যাত্রায় ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল ও ৬৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দেশের হয়েও পূর্ণ করেছেন নিজের বড় স্বপ্ন।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি টানা দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মেসি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ফাইনালে একের পর এক ব্যর্থতা ও তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হলেও শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে ওঠেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ফুটবল-গর্বের প্রতীক।
বিদায়ী বার্তায় দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেসি বলেন, তাদের আনন্দ দেওয়াই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য। ফুটবলের মাধ্যমে যেন মানুষ আর্জেন্টাইন হওয়ার গর্ব অনুভব করতে পারে, সেটিই তিনি চেয়েছেন।
মেসি আরও জানান, জাতীয় দলে তাঁর পেছনে উঠে আসা তরুণদের জন্য এখন জায়গা করে দেওয়ার সময় এসেছে। তবে দল থেকে সরে গেলেও আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে তিনি পাশে থাকবেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাশে থাকার জন্য পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও দলের কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে পাওয়া স্মৃতিগুলো আজীবন সঙ্গে রাখার কথা বলেছেন।
বিদায়ী বার্তার শেষ দিকে আবেগঘন মেসি বলেন, সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আর্জেন্টাইনদের স্বপ্নের মতো কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছেন—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় শান্তি ও গর্ব। এরপর পরিচিত সেই আহ্বান, ‘চলো আর্জেন্টিনা!’
আর্জেন্টিনার জার্সি আর পরবেন না মেসি। তবে ১০ নম্বর জার্সির সঙ্গে তাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকবে ফুটবল ইতিহাসে। বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকার শিরোপা, ব্যর্থতার কান্না এবং অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি তুলে ধরার মুহূর্ত—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা ও মেসির দুই দশকের গল্প এখন ফুটবল ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ক্লাব ফুটবলে অবশ্য এখনো তাঁর পথচলা শেষ হয়নি। ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। কিন্তু জাতীয় দলের ক্ষেত্রে শেষ হলো সেই অধ্যায়, যেখানে একটি শিশুর স্বপ্ন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছিল একটি দেশের সবচেয়ে বড় ফুটবল-গর্বে।
মেসির বিদায়ের পর এখন বড় প্রশ্ন—আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সির পরবর্তী গল্পটি কে লিখবেন? সেই উত্তর সময়ই দেবে। তবে মেসির মতো আরেকটি অধ্যায় লেখা যে অত্যন্ত কঠিন হবে, তা হয়তো ফুটবল বিশ্ব এখনই বুঝতে পারছে।