সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঝুঁকিতে ব্যাংকের ১১ লাখ কোটি টাকার ঋণ, বাড়ছে চাপ

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

দেশের ব্যাংক খাতে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকার ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এই ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

সাধারণত খেলাপি, অবলোপনকৃত এবং পুনঃতফসিল করা ঋণকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে; যা আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকারের চেয়েও বেশি।

কেবল ২০২৫ সালেই ব্যাংক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ২০২৪ সালে এ ধরনের ঋণ বেড়েছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। ওই বছর শেষে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের আকার ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।

এই বিপুল পরিমাণ ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণই রয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া অবলোপন করা ঋণের পরিমাণ ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা এবং পুনঃতফসিলকৃত ঋণ ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা।

শুধু ২০২৫ সালেই রেকর্ড ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এর আগের বছর যার পরিমাণ ছিল ৮৫ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে করপোরেট ঋণই ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এছাড়া মোট ঋণের ৩১ দশমিক ১৬ শতাংশই বৃহৎ ঋণ।

অন্যদিকে, উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিতাদেশ থাকায় আরও ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকার ঋণকে খেলাপি হিসেবে দেখানো যাচ্ছে না।

ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বেড়ে যাওয়ার ফলে এক বছরের ব্যবধানে গত ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততা ও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ অনুপাত (সিআরএআর) ৩ শতাংশ থেকে কমে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এর মানে হল, ব্যাংক খাতে ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা কমেছে।

বিপুল এই খেলাপি ও ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে ব্যাংক খাতে প্রয়োজনীয় ৪ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার নিরাপত্তা সঞ্চিতির (প্রভিশন) বিপরীতে রাখা সম্ভব হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা। ফলে প্রভিশন ঘাটতি থেকে গেছে প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকা।

এদিকে, গত ডিসেম্বরের পর খেলাপি ঋণের অঙ্ক আরও বেড়ে এখন ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে (মার্চ পর্যন্ত) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। এতে ব্যাংক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ সামনে আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: