![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
আগের কয়েকটি ঈদযাত্রায় উত্তরের পথে সিরাজগঞ্জ অংশ তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক ছিল। এবারো স্বস্তির করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যে ঢাকা-রংপুরগামী যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হাটিকুমরুল মোড়ে নির্মাণাধীন ‘ইন্টারচেঞ্জ ফ্লাইওভার’ খুলে দিয়েছে সড়ক বিভাগ।
ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ হয়ে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার যানবাহন চলাচল করে। স্বাভাবিক সময়ে এ মহাসড়ক দিয়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদে তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগের চেয়ে বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে পুলিশ বিভাগ। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরাও সড়কে দায়িত্ব পালন করবেন।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ‘‘ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’’
ঢাকা থেকে উত্তরের পথে চলাচল করা যানবাহনগুলো যমুনা সেতু অতিক্রম করার পর ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাটিকুমরুল মোড়ে পৌঁছায়। সেখান থেকে পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুরমুখী মহাসড়কে বিভক্ত হয়ে যায়।
রংপুরগামী বাস চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের আগে ইন্টারচেঞ্জের ফ্লাইওভার খুলে দেওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তির আশা করছি। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ থাকলেও আগের মতো যানজটে আটকে থাকতে হবে না।”
গরুবাহী ট্রাকের চালক শওকত হোসেন বলেন, ‘‘ঈদের সময় পশুবাহী গাড়ির চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। নতুন এ পথে চালু হওয়ায় মালবাহী যানবাহন দ্রুত চলাচল করতে পারবে এবং সময়ও কম লাগবে।’’
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘‘কোরবানির ঈদকে ঘিরে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে যানবাহনের দ্বি-মুখী চাপ তৈরি হবে। বিশেষ করে পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের অতিরিক্ত চলাচল বাড়বে। ইন্টারচেঞ্জের ফ্লাইওভারের নতুন পথ খুলে দেওয়ায় সেই চাপ কমাতে ভূমিকা রাখবে।’’
দক্ষিণ এশীয় উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা কার্যক্রম-২ (সাসেক) প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক সরফরাজ হোসাইন বলেন, ‘‘উত্তরাঞ্চলগামী প্রায় ৬০ শতাংশ যানবাহন বগুড়া-রংপুরমুখী মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে নির্মাণাধীন ইন্টারচেঞ্জের ফ্লাইওভার খুলে দেওয়া হয়েছে। এ মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ অংশে কোথাও নির্মাণ কাজ চলামান নেই।’’
প্রায় ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
শনিবার যমুনা সেতু সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘‘শুক্রবার বিকাল থেকে সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ঈদযাত্রায় যানবাহনের চাপ সামলাতে ও দ্রুত টোল আদায়ে শনিবার সকাল থেকে আরও চারটি বুথ বাড়িয়ে মোট ১৮টি টোল বুথ চালু করা হয়েছে।’’
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৩৪ হাজার ৯৬৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে; যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৪০০ টাকা।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ‘‘ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষ ও গরু ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা নিরাপত্তাহীনতায় না পড়েন, সেজন্য পুলিশ দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করছে।’’
তিনি বলেন, ‘গত ঈদের চেয়ে ১৫ জন সদস্য বাড়িয়ে এবার ছয় শতাধিক করা হয়েছে। এসব পুলিশ সদস্যরা মাঠে থেকে দিনরাত মহাসড়কের নিরাপত্তা দেবে। এ ছাড়া যমুনা সেতুর পশ্চিম গোলচত্বরে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।’’
পাশাপাশি মহাসড়কের পরিস্থিতি নজরদারি করতে ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করার কথা বলেছেন জেলা পুলিশ প্রধান।