![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকার একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত তরুণের নাম অনিক চন্দ্র পাল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাঁনখারপুলের পি কে গাঙ্গুলি লেনের একটি ভবনের চারতলার মেস থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান সহপাঠীরা। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অনিকের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হলেও তাঁর পরিবার বর্তমানে সিলেটের শিবগঞ্জ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে।
সহপাঠীদের বরাতে জানা যায়, অনিক স্বভাবগতভাবে বেশ চুপচাপ ছিলেন এবং প্রায়ই কানে হেডফোন লাগিয়ে নিজের কক্ষের ভেতর দীর্ঘ সময় কাটাতেন। ঘটনার সময় তাঁর রুমমেট ভারতে থাকায় তিনি কক্ষটিতে একাই ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেলেও মেসের অন্য সদস্যরা বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নেন।
পরে রাতে তাঁর এক বান্ধবী ফোনে না পেয়ে মেসমেটদের জানালে সন্দেহ তৈরি হয়। দীর্ঘক্ষণ দরজায় কড়া নেড়েও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে একপর্যায়ে মেসের জানালা ভেঙে ফ্যানের রডের সঙ্গে কাপড় পেঁচানো অবস্থায় অনিকের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান তাঁরা।
সহপাঠী ও মেস সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার দুই দিন আগে অনিকের প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি অনেকটা চুপচাপ থাকতেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলেও তারা জানান।
খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিমাত্রিক ও নকশা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল। তিনি জানান, অনিকের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহ সৎকারের জন্য গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হবে।
এদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি এখনো আমরা জানি না। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে বলতে পারব।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে অনিকের মৃত্যুর পেছনে প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।