![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ-পিসিপি।
শুক্রবার রাতে উপজেলার বাবু পাড়া এলাকার ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী।
তবে এ ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি, দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।
এ ঘটনায় শনিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এন্টন চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, উপজেলার বাবু পাড়া এলাকায় নির্মিত ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলার তথ্য ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তবে কে বা কারা এবং কখন এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ভাষ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনের অনুপ্রেরণার প্রতীক ভরদ্বাজ মুনি চাকমার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ ভেঙে ফেলার ঘটনা শুধু একটি স্থাপনা ধ্বংস নয়; এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনের ইতিহাসের ওপর আঘাত। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ জানিয়েছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা জুপিটার চাকমা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মণি চাকমার স্মৃতিবেদী ভেঙে দেওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।”
পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় ও অধিকার রক্ষার সংগ্রামের ইতিহাসে শহীদ ভরদ্বাজ মণি চাকমা জুম্ম সমাজে এক অবিস্মরণীয় নাম। তার আত্মত্যাগ পাহাড়ের নিপীড়িত মানুষের ন্যায় সংগত অধিকার অর্জনের লড়াইয়ে সবসময় প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
“অত্যন্ত দুঃখজনক ও ক্ষোভের বিষয় হলো, দীঘিনালার বাবুপাড়াতে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত শোক বেদীকে অসম্মানজনকভাবে কে বা কারা ভেঙে দিয়েছে”, বলেন জুপিটার চাকমা।
তিনি বলেন, ‘‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজে ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু শহীদ ভরদ্বাজ মণি চাকমার শোক বেদী ভেঙে ফেলার মতো অপকর্ম প্রমাণ করে যে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পাহাড়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসকে মুছে ফেলতে চায় এবং জুম্ম জনগণের মৌলিক আবেগ ও অধিকারের ওপর আঘাত হানতে চায়।’’
ঐতিহাসিক স্মারক ধ্বংস করে কোনো জাতির বা অঞ্চলের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই এবং চেতনাকে স্তব্ধ করা যায় না বলে মনে করেন জনসংহতি সমিতির নেতা জুপিটার চাকমা।