সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অবশেষে রিপন মিয়ার নামে ধর্ষণ মামলা

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

সালিশিতে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হলেও মামলার হাত থেকে রেহাই পেলেন না আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া।

মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা-বাবা নেত্রকোনা সদর থানায় গিয়ে ধর্ষণ মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আল-মামুন সরকার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কালবেলা অনলাইনকে জানিয়েছেন, ‘মেয়েটির মা-বাবা এখন থানায় অবস্থান করছেন। ৩০ মিনিটের মধ্যে মামলার কার্যক্রম শেষ হবে।’

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সকাল থেকে রিপন মিয়া পলাতক রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ানোর অভিযোগে রিপন মিয়াকে রোববার (২ আগস্ট) রাতে আটক করেন তার গ্রামবাসী। আটকের একাধিক ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে নিয়ে সালিশ বসতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার রিপনের একাধিক প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা সবাই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, ‘এই কাজ করে তো ধরা পড়ছে। কিন্তু যারা দরবার (সালিশ) করছিল, তারাই পরে বিপদে পড়ছে। পুলিশ তাদের খুঁজেছে। এসবের তো দরবার হয় না।’

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে বসা ওই সালিশে বিবাহিত রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রামছাড়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি টাকা দিয়েছেন কি না, সেটি অবশ্য জানা যায়নি। রিপন মিয়ার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

কিছুদিন আগে রিপন মিয়া পাশের নন্দুরা গ্রামে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন এবং পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানেই ওই কিশোরীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়ান। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, রিপন মিয়া আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি। পরে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান রিপন মিয়া। বিষয়টি জানাজানি হলে রোববার রাতে নন্দুরা বাজারে বিএনপির কার্যালয়ে সালিশ বসে।

২০১৬ সালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ফেসবুকে যাত্রা শুরু করেন রিপন মিয়া। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার সহজ-সরল উপস্থাপনা আর ঘরোয়া ভিডিওগুলো দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। বিশেষ করে, তার মুখে শোনা ‘হাই আই অ্যাম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’-সংলাপ দুটি নেটিজেনদের মাঝে দ্রুত ভাইরাল হয়।

এসব ছোট ভিডিও দেশ-বিদেশে ভাইরাল হলেও রিপন করপোরেট দুনিয়ার দেখা পান বছর দুয়েক আগে। ঢাকাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান তার পেজ ম্যানেজমেন্ট করার দায়িত্ব নিলে রাতারাতি ভাগ্য বদলে যায়। বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ডাক পড়ার পাশাপাশি টিভি বিজ্ঞাপনেও নাম লিখিয়ে ফেলেন।

দ্রুত উত্থানের মতো, দ্রুতই পতনের পথে এই রিপন মিয়া। কিছুদিন আগে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তারই মা। মাকে দেখভাল না করার অভিযোগে সে সময় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে অবশ্য তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তার মা-ও নিজের কথা ফিরিয়ে নেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: