সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি পরিশোধে অগ্রাধিকার

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

বীমা খাতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা গ্রাহকদের বকেয়া পলিসি দাবি (ক্লেইম) পরিশোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নতুন চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধারকে সামনে রেখে বকেয়া দাবি পরিশোধ, অতিরিক্ত কমিশন বাণিজ্য বন্ধ, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি চালু, ইউনিক পলিসি হোল্ডার আইডি কার্যকর, দুর্বল বীমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে পর্যায়ক্রমে দাবি নিষ্পত্তি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মতিঝিলে আইডিআরএ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “যে কোম্পানি যত দুর্বল, তাদের পরিচালন ব্যয় তত বেশি। যেসব কোম্পানি ঠিকমতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না, তাদের পরিচালন ব্যয়ও বেশি। এর সুরাহা করতে হবে।’’

এ বিষয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেন আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনাকে বীমা খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রথম কাজ হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া দাবি পরিশোধ শুরু করা। দাবি পরিশোধ শুরু হলে ধীরে ধীরে গ্রাহকের আস্থা ফিরে আসবে এবং তখন পুরো খাতকে স্থিতিশীল করা সহজ হবে।”

তিনি জানান, দেশের ৮২টি বীমা কোম্পানির কাছে গ্রাহকদের মোট প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র সাতটি কোম্পানির কাছেই গ্রাহকদের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার দাবি আটকে আছে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, “প্রথম পর্যায়ে এই সাতটি কোম্পানির বকেয়া দাবি পরিশোধে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”

নাদিয়া নিভিন বলেন, “কোম্পানির জমি বিক্রি, এফডিআর ভাঙানো, বিভিন্ন বিনিয়োগ থেকে অর্থ তুলে আনা এবং ট্রেজারি বন্ডে থাকা অর্থ ব্যবহার করে দাবি পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রয়োজনে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও তিনি বলেন।

চেয়ারম্যান বলছেন, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর জমি, ট্রেজারি বন্ড, বিভিন্ন বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদ ধাপে ধাপে বিক্রি করে পাওয়া অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষণ করা হবে। প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা হিসাব থাকবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় নিরীক্ষক (অডিটর) যুক্ত থাকবেন।

এরপর ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট (এফআইএফও)’ পদ্ধতিতে, অর্থাৎ যাদের দাবি আগে জমা পড়েছে, তাদের আগে অর্থ পরিশোধ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নাদিয়া নিভিন বলেন, বীমা খাতে অতিরিক্ত কমিশন দেওয়ার প্রবণতা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে বেতনের আড়ালে বা বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে কমিশন দেওয়া হচ্ছে।

“আমরা বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছি। কিছু কিছু অনিয়মের প্রমাণও পেয়েছি। যেগুলোর প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গ্রাহক সুরক্ষা জোরদারে ‘ইউনিক পলিসি হোল্ডার আইডি’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান আইডিআরএ চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, গ্রাহকের মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে প্রতিটি বৈধ বীমা পলিসির জন্য একটি স্বতন্ত্র আইডি তৈরি করা হবে।

“একটি বৈধ বীমা পলিসির বিপরীতে গ্রাহকের মোবাইল নম্বরে ইউনিক আইডি চলে আসবে। ভবিষ্যতে কোনো গ্রাহক যদি এই আইডি না পান, তাহলে তিনি যেন ওই পলিসিতে প্রিমিয়াম পরিশোধ না করেন—এ বিষয়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, “বীমা খাতের কয়েকজন প্রধান নির্বাহীর শিক্ষাগত বা পেশাগত সনদ জাল হওয়ার অভিযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে এসেছে।”

এ ছাড়া পরিচালকদের অনিয়ম, দুর্নীতিতে জড়িত হওয়ার মত ঘটনাগুলো প্রমাণ হওয়ার পর আইডিআরএ জরিমানা আদায় করে; সেটি কোম্পানি পরিশোধ করে।

জরিমানার অর্থ ব্যক্তিগতভাবে দায়ী ব্যক্তির কাছ থেকে আদায়ের সুযোগ তৈরি করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিদ্যমান আইনে এটি করার সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি, কীভাবে নীতিগতভাবে এর সমাধান করা যায়।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: