সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তুরাগ থেকে দুইজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ‘দেখছেন না’ ঢাকার এসপি

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

ঢাকার অদূরে সাভার ও আশুলিয়ায় তুরাগ নদী থেকে দুইজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট নেই বলে দাবি করেছেন ঢাকার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন। এছাড়া সাতজনের মরদেহ উদ্ধারের যে ‘গুজব’ ছড়ানো হয়েছে, তাতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

তুরাগ নদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ ভাসছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলার পর রোববার ঢাকার এসপি সংবাদ সম্মেলনে আসেন।

তার আগে শনিবার পুলিশ সদর দপ্তর এক বার্তায় এমন খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করেছে। এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি দাবি করে ‘মিথ্যা অপপ্রচারে’ বিভ্রান্ত না হতেও সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

তার পরদিন জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসে ঢাকার এসপি দুইজনের লাশ উদ্ধারের তথ্য দিয়ে সে বিষয়ে ব্যাখা দেন।

গত ২২ জুন রাজধানীর তুরাগ এলাকায় আওয়ামী লীগের মিছিলের পর থেকেই দলটির সাত নেতাকর্মী নিখোঁজ ছিলেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের তিনজনের লাশ তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে গত শুক্রবার থেকে ফেইসবুকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে ফের।

এ গুঞ্জনের মধ্যে শনিবার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় অভিযোগ করেছেন, ‘তুরাগের ঘটনা’ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্লট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত জয়ের দাবি, একটি গোয়েন্দা সংস্থা এ ঘটনাকে অপমৃত্যু হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি ‘গোপন সূত্রের’ বরাত দিয়ে ফেইসবুকে সে দিন সন্ধ্যায় এ নিয়ে একটি পোস্ট দেন।

তবে পুলিশ কর্মকর্তা শামীমা পারভীন বলেন, শুক্রবার রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে আশুলিয়া থানা পুলিশ স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় গরুহাটা ঘাট সংলগ্ন নদী থেকে অজ্ঞাতনামা একজনের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তার ভাই মো. সালাহউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মরদেহ তার ভাই মো. সুমন (১৭) হিসেবে শনাক্ত করেন।

সুমনের ভাই সালাউদ্দিনের ‘আবেদনের প্রেক্ষিতে’ এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করার তথ্য দিয়ে ঢাকার এসপি বলেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। লাশ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অপমৃত্যু মামলার আবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সুমন গত ২২ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ২০/২২ জন বন্ধু-বান্ধবসহ তুরাগ নদীতে নৌকা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ধৌউর ব্রিজ ঘাট এলাকায় নৌকায় ওঠেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়া গ্রামের গরুর হাট ঘাটে তাড়াহুড়া করে নৌকা থেকে নামতে গিয়ে অসাবধানতাবশত নদীতে পড়ে যান। ভিকটিম সাঁতার জানতেন না বিধায় তিনি স্রোতের সাথে নদী থেকে ভেসে যান। সঙ্গীয় লোকজন তৎক্ষণাৎ খোঁজাখুঁজি করে তাকে পাননি।

এসপি শামীমা বলেন, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে রনি নামে আরেকজন সাভার থানাধীন রয়েল সিটি খেয়াঘাটে তুরাগ নদীতে গোসল করতে নেমে ডুব দেন, তিনি আর ওঠেননি। স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি করে প্রায় ৩০ মিনিট পর পানির নিচ থেকে রনির মৃতদেহ উদ্ধার করেন।

তিনি বলেন, লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে খবর দিলে শাহআলী থানা পুলিশ ও আমিন বাজার নৌ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারা মৃতদেহ শনাক্ত করে ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা শেষ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় রনির বাবা কফিল উদ্দিন অপমৃত্যু করেন।

পুলিশ সুপার শামীমা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ ও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির অপপ্রয়াসে ঘটনা দুটিতে রাজনৈতিক রং চড়িয়ে কতিপয় স্বার্থন্বেষী মহল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছেন। ঢাকা জেলা পুলিশ এই অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করত আইনের আওতায় আনয়নের জন্য তৎপর রয়েছে।

জনসাধারণকে এ সকল ‘অপপ্রচারে’ বিভ্রান্ত না হওয়ার পাশাপাশি অপপ্রচারকারীদের তথ্য ঢাকা জেলা পুলিশকে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: