সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ পর্যন্ত রাখার স্ট্র্যাটেজি সাজিয়েছিল ‘ডিপ স্টেট’: আসিফ

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

অন্তর্বর্তী সরকার যেন ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারে– ‘ডিপ স্টেট’ এমন একটা স্ট্র্যাটেজি সাজিয়ে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদেরকে বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদেরকে আসলে ‘ডিপ স্টেট’ বলা হয়, তাদের কাছ থেকে আমাদের অফার করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ‘শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত, সেটি আপনারা শেষ করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।’

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘রক্তে ভেজা স্বাধীনতা থেকে সংস্কার ও গণভোট: বাস্তবায়নের রাজনৈতিক কর্তব্য’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপি’ এর আয়োজন করে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, তাদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ছিল, কিছু কিছু জায়গায় তাদেরকে ‘ফ্যাসিলিটেট’ করা এবং তারা রোডম্যাপও করে নিয়ে আসছিল যে, বিএনপির নেতাদের তো সাজা আছে। সাজা থাকলে সাধারণভাবে নির্বাচন দিলেও তারা নির্বাচন করতে পারবে না। তাদের সাজাগুলো ইয়ে না করে (বাতিল না করে) আদালতের মাধ্যমে এগুলো দীর্ঘ করে। তারেক রহমানের নিজের নামে সাজা ছিল। তিনি যদি সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকতেন, নির্বাচন হলেও তিনি বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না। তারা পুরো স্ট্র্যাটেজি আমাদেরকে সাজিয়ে দিয়েছিল, কীভাবে তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে ক্ষমতায় থাকা যায়। আমরা কিন্তু সেটাতে সায় দিইনি।

বড় বড় কোম্পানিগুলো তেল মজুত করছে, আর এই মজুত সিন্ডিকেটে বিএনপির বিভিন্ন অংশের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আসিফ বলেন, আমি গত সরকারের পারচেজিং কমিটিতে ছিলাম। তেলের দুই মাসের মজুত থাকার কথা। এক মাসের মধ্যে কীভাবে এত দুরবস্থা হয়? অবশ্যই সরকারের ঘনিষ্ঠ কেউ মজুত করছে।

বিএনপি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি গণতন্ত্রের ক্ষতি করেছে। বিএনপি যাদের মেয়র পদে নির্বাচন করাবে, তাদের কী প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে দিয়েছে? প্রশাসক পদে বসেই তারা যদি নির্বাচন করবেন, তাহলে আর বাকিরা নির্বাচন করে কী করবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময় গণতন্ত্রকে সামনে রেখেছি এবং সেটার প্রতি কমিটমেন্ট সরকারের ছিল বলেই নির্বাচনটা হয়েছে। নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্য নিজেরা আগবাড়িয়ে পদত্যাগ করে চলে এসেছি। কিন্তু আমরা দেখলাম, বিগত সরকারের দুজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদায় আছেন। যদিও এই সরকারি দলই সেই সময় আমাদের পদত্যাগ চেয়েছিল। তখন নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির এক ধরনের যুক্তি দাঁড় করানো হয়েছিল। কিন্তু তারাই এখন একই কাজ করল। আগের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দু’জন দায়িত্বশীলকে তাদের সরকারের মন্ত্রী হিসেবে নিলো।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, বাংলাদেশে ইতিহাস চর্চা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংকীর্ণ বিতর্কে সীমাবদ্ধ। কে আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, তা নিয়েই মূলত আলোচনা চলে। কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস কেবল এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জনগণের দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ এবং অবদানের ইতিহাস। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেশের ইতিহাসের বয়ানও বদলে যায়। আমরা আশা করেছিলাম, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পর এই ধারা বদলাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো এখনও জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। অতীতে যেমন ১৯৯০ সালের পর বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি, এখনও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: