![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
আজ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। ঠিক এক বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার টানা আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সামরিক বিমানে দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে। ইতিহাসে ‘৩৬ জুলাই’ নামে পরিচিত এই দিনটি আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপন করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে দিনটিকে কেন্দ্র করে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থাপন করা হবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’।
২০২৪ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে যে বিক্ষোভের সূচনা, তা ৩ আগস্টে এসে শেখ হাসিনার পদত্যাগের একদফা দাবিতে রূপ নেয়। ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে লাখো মানুষ রাজধানীমুখী হলে দেশজুড়ে রাজনৈতিক পালাবদলের ইতিহাস সৃষ্টি হয়। দুপুরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথা জানান।
আন্দোলনের সময়কার সহিংসতায় নিহত হন অন্তত ১,৫০০ জন, যাদের বড় অংশ ছিল শিক্ষার্থী। শুধু ৫ আগস্টেই প্রাণ হারান অন্তত ১০৯ জন। জাতিসংঘের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং মিশন নিহতের সংখ্যা জানায় প্রায় ১,৪০০ জন। রাজধানীসহ দেশের ৪৪ জেলায় ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয় এই ঘটনার মধ্য দিয়ে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রস্তাবে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ৭ আগস্ট চূড়ান্তভাবে সরকার গঠিত হয় এবং ৮ আগস্ট তিনি শপথ গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধ আজ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।” প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, “হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ আমাদের একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের সুযোগ এনে দিয়েছে, যা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।”
আজ রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত হচ্ছে দিনব্যাপী কর্মসূচি। পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণসংহতি, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও পৃথকভাবে বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি পালন করছে।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৯০-এর পর ২০২৪ সালের এই অভ্যুত্থানও আজ ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এবার নেতৃত্বে ছিল এক নতুন প্রজন্ম—‘জেনারেশন জি’, যারা রাজপথের পাশাপাশি ডিজিটাল জগতে লড়াই করে নিয়ে এসেছে এক নতুন ভোর।