সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২ মে ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন কেন সহজ নয়

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের “শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের” ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে, সম্ভাবনাটি তার ধারণার মতো সহজ নাও হতে পারে এবং এর ফলাফল ওয়াশিংটনের কল্পনার মতো হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সোমবার (২৩ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদন বলেছে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে ইরানে শাসন পরিবর্তন হলেও নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ হবে এমনটি ভাবা উচিত হবে না। বরং, আরও কঠোরপন্থী নেতার উত্থান হতে পারে। এমনকি ইসরায়েলি হামলার ফলে ধ্বংসযজ্ঞের পর চূড়ান্ত প্রতিরোধক হিসেবে পারমাণবিক বোমা তৈরির দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে পারে তেহরান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ি মারা গেলে তাকে প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। তবে, পুরো শাসনব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম, যা দেশটিকে বিভক্ত করতে পারে।

কোয়িনসি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী সহ-সভাপতি ত্রিতা পারসি সিএনএনকে বলেন, ‘ইরানি সেনাবাহিনীর কিছু অংশ যদি ক্ষমতা গ্রহণ করে, তাহলে যে ধরনের সরকার যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করে, সেটি পাওয়া যাবে না। বরং আরও কঠোর ও রক্ষণশীল শাসন আসার আশঙ্কা থাকবে।’

ত্রিতা পারসি আরও বলেন, ‘ইরান এমন একটি দেশ যেখানে বহু বছর ধরে বিভিন্ন জাতিগত ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে আসছে। শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ধসে পড়লে এসব গোষ্ঠী সুযোগ নিয়ে দেশটিকে আরও বিভক্ত ও অস্থির করে তুলতে পারে।’

শাসনব্যবস্থার পতন মানেই হচ্ছে রাষ্ট্রের পতন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘এমনটি হলে যে পরিণতি এবং বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আজীবনের জন্য নির্বাচিত হন ৮৮ সদস্যবিশিষ্ট এক্সপার্ট অ্যাসেম্বলির মাধ্যমে। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করেন না। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, খামেনেয়ি নিহত হলে তার উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনার জন্য তিনজন জ্যেষ্ঠ ধর্মগুরুর নাম ইরানি কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনায় আছে বলে দাবি করেছেন দেশটির তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শাসন পরিবর্তনের প্রক্রিয়া যতটা অনিশ্চিত, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ—যেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, চরমপন্থার উত্থান ও আঞ্চলিক অস্থিরতা একসঙ্গে দেখা দিতে পারে।

ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি সুযোগ হিসেবে যা দেখছে তা কাজে লাগাতে চাওয়ার কারণে যে কোনো প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া ঘটতে পারে। উত্তরসূরি নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময়ই দেশজুড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো এটি ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: