![]()


বিশ্বনাথ সংবাদদাতা ::
সিলেটের বিশ্বনাথে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৩ মার্চ) ভোররাতে পৌর শহরের রামপাশা সড়কের রোজিস টাওয়ার নামক একটি ফ্ল্যাট থেকে মশারির স্ট্যান্ডের সঙ্গে অর্ধ ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম আবদুল মুকিত (৩৫)। তিনি উপজেলার মিরেরচর গ্রামের আব্দুস শহিদের ছেলে।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখলেও নিহতের স্বজনরা দাবি করছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁদের ভাষ্যমতে, মরদেহের শরীরে, বিশেষ করে পেট ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া, একটি পা মশারির স্ট্যান্ডের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল, যা আত্মহত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নিহত আবদুল মুকিত বিশ্বনাথ পৌরসভার একটি সুপারশপে চাকরি করতেন। রামপাশা রোডে তার প্রবাসী বোনের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যেখানে কোনো ভাড়াটিয়া ছিল না। সেই ফ্ল্যাটটির দেখভাল করতেন তিনি। শনিবার (২২ মার্চ) রাতে মুকিত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সেহরির সময় সিকিউরিটি গার্ডের মাধ্যমে জানতে পারেন, ফ্ল্যাটের ভেতরে বাতি জ্বলছে। পরে পরিবারের লোকজন গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। তবে জানালার কাচ খোলা থাকায়, জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দরজার ছিটকিনি খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর এক কক্ষে মশারির স্ট্যান্ডের সঙ্গে মুকিতের ঝুলন্ত নিথর দেহ দেখতে পান।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের সময় বেশ কিছু অসঙ্গতি দেখা যায়—মোবাইল ফোন ও ফ্ল্যাটের চাবি খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুই হাঁটু বিছানায় লেগে ছিল, যা সাধারণ আত্মহত্যার ঘটনায় বিরল।
শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা মনে হলেও, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে যদি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, তাহলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।