সর্বশেষ আপডেট : ২০ মিনিট ১৯ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

‘খাল কেটে কুমির’ আনার অভিযোগ পাউবোর বিরুদ্ধে

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় অন্তত ২০-২৫ স্থানে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ (ডাইক) ভেঙে যায় ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায়। এতে তলিয়ে যায় পুরো উপজেলা। যার প্রভাব পড়ে পুরো সিলেট জেলায়। বন্যায় নজিরবিহীন কষ্টের সাক্ষী হতে হয়েছিল উপজেলার মানুষকে।

২০২২ সালের সেই ক্ষত শুকাতে সুরমা-কুশিয়ারা ডাইকের ২২ স্থানে মেরামত কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে বছর পার হতে না হতেই সেই ক্ষত স্থানে আবারও দেখা দিয়েছে ক্ষত। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় জকিগঞ্জে অন্তত ১৫টি স্থানে ডাইক ভেঙে গেছে। এতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তলিয়ে যায় উপজেলার অর্ধশত গ্রাম।

কাজে ধীরগতি, অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে ফের প্রশ্নবিদ্ধ পাউবো। বন্যায় ডাইক ভাঙার নেপথ্যে পাউবোর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের চরম গাফিলতির অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্য, অনেকটা খাল কেটে কুমির আনার মতো কাজ করেছে পাউবো।

গত বুধবার (২৯ মে) রাতে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় অন্তত ১৫টি স্থানে সুরমা-কুশিয়ারা ডাইক ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তলিয়ে যায় উপজেলার আটটি ইউনিয়ন। স্রোতের তোড়ে অনেকে বাড়িঘর ভেসে গেছে। নদী তীরবর্তী মানুষের ঠাঁই হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যায় সিলেট জেলায় ৬৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন ছয় লক্ষাধিক মানুষ।

পাউবো বলছে, সিলেটে অন্তত ৩৫টি স্থানে নদীর ডাইক ভেঙে গেছে। এতে অন্তত ২০ কিলোমিটার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালে এ উপজেলায় অন্তত ২০-২৫টি স্থানে ডাইক ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। স্মরণকালের সেই ভয়াবহ বন্যায় দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তিতে পড়েছিলেন উপজেলার মানুষ। পাউবোর গাফিলতির কারণে প্রতিবছরই এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয় জকিগঞ্জবাসীকে।

বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বুধবার রাতে উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়ন, পৌরসভা এলাকার নরসিংপুর ও বারঠাকুরি ইউনিয়নের অন্তত ৭-৮টি স্থানে ডাউক ভেঙে পানি প্রবশে করে। অন্যদিকে, মানিকপুর ইউনিয়নের বাল্লা, কাজলসার ইউনিয়নের আটগ্রাম এলাকায় ৬-৭টি স্থানে সুরমা নদীর ডাইক ভেঙেও পানি প্রবেশ করতে থাকে। এতে এক রাতে তলিয়ে যায় উপজেলার অর্ধশত গ্রাম। স্রোতের তোড়ে অনেকের বাড়িঘর ভেঙে গেছে। গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন মানুষজন। আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে শতাধিক পরিবার।

টেন্ডার একজনের, কাজ করছেন অন্যজন

জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ছবরিয়া এলাকায় বুধবার রাত ২টার দিকে ডাইক ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। অন্তত ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই অংশ দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবেশ করায় ভোরের আগেই তলিয়ে যায় পুরো ইউনিয়ন। স্রোতের তোড়ে ভেসে যায় অনেকের বসতভিটা, গবাদিপশু। আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে এ এলাকার মানুষের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছবরিয়া এলাকার যে স্থানে কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙেছে সেটি শুকনা মৌসুমে অর্থাৎ তিন থেকে চারমাস আগে নদীভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। নদীভাঙনের কারণে দুই-তিনটি পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে ফেলেছে। এরপর দরপত্রের (টেন্ডার) মাধ্যমে ডাইক সংস্কারের কাজ পান স্থানীয় জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফতাব আহমদ। কিন্তু সক্ষমতা না থাকায় তিনি সেই কাজের দায়িত্ব দেন উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরীকে। ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব আহমদের ঠিকাদারি লাইসেন্স না থাকায় তিনি মোস্তাক আহমদকে এ কাজ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গতমাসের মাঝামাঝি সময়ে মোস্তাক আহমদ মাটি কাটার জন্য এস্কেভেটর ও ট্রলি নিয়ে ডাইক মেরামত করতে যান। কিন্তু বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় মাটি না পাওয়ায় কাজ করতে পারেননি। পরে ডাইকের পাশের বালুমাটি দিয়ে ৪-৫ ফুট উঁচু করে একটি বাঁধ দিয়ে চলে যান। এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত করতে গিয়ে ভারী যানবাহনের কারণে ভালো অংশও ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুল মুকিত বলেন, ‘ছবরিয়া এলাকার ভেঙে যাওয়া ডাইক আগেই নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। এতে ঘরবাড়ি হারিয়েছে চারটি পরিবার। ২০২৩ সালের নভেম্বরে নদীভাঙনের পর থেকে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল ডাইকটি। এটি মেরামতের জন্য পাউবো থেকে টেন্ডারে কাজ পান বারহাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী। গতমাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ৪-৬ ফুট আকারের একটি বাঁধ দেন। এরপর বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় ডাইক মেরামতের সব যন্ত্রপাতি নিয়ে চলে যান।’

তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতে এই ডাইক ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। ডাইকের অন্তত ১২০ ফুট জায়গা ভেঙে গিয়ে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকতে থাকে। এতে রাতেই তলিয়ে যায় পুরো এলাকা। ডাইক ভাঙার পর থেকে এখন পর্যন্ত পাউবো বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউ যোগাযোগ করেননি। আমরা অনেকবার চেষ্টা করেও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলতে পারিনি।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জকিগঞ্জের বারহাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন এ কাজ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার সক্ষমতা না থাকায় তিনি কাজটি আমাকে দিয়েছেন। পরে মাটি না পাওয়ায় সময়মতো কাজ শুরু যায়নি। তারপরও আমরা বাঁধের অনেক কাজ করেছি। কিন্তু বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় শেষে কাজ করা যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘১২ লাখ টাকায় এ কাজের টেন্ডার হয়েছে। আফতাব আহমদের কাছ থেকে আমিও ১২ লাখ টাকায় কাজ এনেছি।’

এতে চেয়ারম্যান আফতাব আহমদের সুবিধা কী জানতে চাইলে মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেন, এটা তার বিষয়। তিনি আমাকে কাজের দায়িত্ব দেওয়ায় আমি কাজ করেছি। পুরো কাজ এখনো শেষ হয়নি। ৫-৬ লাখ টাকার কাজ হয়েছে। এখন ওভার ফ্লোতে (নদী উপচে পানি প্রবেশ) ওই এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে বাঁধ ভাঙেনি বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব আহমদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

একজনের টেন্ডারের কাজ অন্যজন করার বিষয়টি জানা আছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড জকিগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান ভূঞা। তবে এ বিষয়ে তার কিছু করার নেই বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘জরুরি কাজের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। টেন্ডারের সময় তার ট্রেড লাইসেন্স যাচাই করেই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি কাকে দিয়ে এ কাজ করাচ্ছেন সেটা তার বিষয়।’

উপসহকারী প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক কাজের তদারকি করেছি। কাজটি চলমান। এখন পর্যন্ত ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’

‘খাল কেটে কুমির’ আনার অভিযোগ পাউবোর বিরুদ্ধে

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় জকিগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বন্যার্তদের জন্য খোলা হয়েছে ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, সুরমা-কুশিয়ারায় পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার (৩১ মে) সরেজমিন কথা হয় আটগ্রাম নালুহাটি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে। তাদের অভিযোগ, ডাইক মেরামতের নামে পাউবো আরও ক্ষতির মুখে ফেলেছে এ অঞ্চলের মানুষকে। ভাঙা ডাইক মেরামত করতে গিয়ে ভালো অংশও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এমনকি ডাইক মেরামতের জন্য যান চলাচলের পথ সমান করতে ডাইকের উঁচু অংশও কেটা ফেলা হয়েছে। যে কারণে ডাইক ভাঙা ছাড়াও নদী উপচে সহজেই লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নালুহাঁটি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ২০২২ সালে ভয়াবহ বন্যায় এই এলাকায় অন্তত ৭-৮টি স্থানে সুরমা নদীর ডাইক ভেঙে যায়। এরপর এটি মেরামত করা হয়। গতবছর বন্যায় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গতমাসে ডাইকের কাজ করতে আসেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন। ভাঙা অংশ মেরামত করতে ডাইকের ঝুঁকিপূর্ণ কিছু অংশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেন। এমনকি এস্কেভেটর দিয়ে ডাইকের পাশ থেকে মাটি কেটে বাঁধ দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ মেরামত করতে এসে গাড়িগুলোর চলাচলের পথ সহজ করতে ডাইকের অনেক উঁচু অংশ কেটে সমান করেছেন পাউবোর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন। এতে ডাইকের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করে। যে কারণে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পানিতে তলিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড জকিগঞ্জ উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান ভূঞা বলেন, ‘গাড়ি চলাচলের জন্য ডাইকের উঁচু অংশ কেটে ফেলার বিষয়টি জানা নেই। এটা কোনোভাবে হওয়ার কথা না।’

তিনি বলেন, ‘সুরমার তীর রক্ষায় ৮০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান। আমলশীদ এলাকায় সুরমার উৎসমুখ থেকে ছাতক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ডাইক মেরামতের কাজ চলছে। পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১৬ কিলোমিটার করে বাঁধ মেরামতের কাজ করছে। বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় কাজ কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এখন পানি শুকিয়ে গেলে আবার কাজ শুরু করবে।’

২০২২ সালে বন্যার পর সুরমা-কুশিয়ারার ২২টি পয়েন্টে ডাইক মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। গতবছর নদীভাঙনের কারণে আরও ১০টি পয়েন্টে মেরামতের কাজ করা হয় বলেও জানান পাউবোর এ উপসহকারী প্রকৌশলী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাশ বলেন, ইমার্জেন্সি প্রজেক্টের কাজ যে কেউ করতে পারবেন। তবে যেকোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইন্সেস প্রদর্শন করতে হবে।

তিনি বলেন, ছবরিয়া এলাকায় ইমার্জেন্সি কাজের মেয়াদ কবে শেষ হবে জানা নেই। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাতে কাজ শেষ হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুরমার তীরে ডাইক মেরামত প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এই প্রকল্পের কাজ চলমান। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে। এরমধ্যে সবকটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত করা হবে।

দিপক রঞ্জন দাশ বলেন, ২০২২ সালের চেয়েও এবার পানি বেশি ছিল। যে কারণে কিছু কিছু জায়গায় নদীর পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। যদি হাওরাঞ্চল পানি না টানতো তাহলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: