সর্বশেষ আপডেট : ২২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

মেঘালয়ে কমেছে বৃষ্টি, সিলেটে বন্যার কিছুটা উন্নতি

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির আরও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে আছে অনেক পরিবার। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, বন্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কমেছে। শুক্রবার জেলায় বন্যা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭০ আর শনিবার সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৩৩ জনে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, “ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়াতে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। জেলার সার্বিক পরিস্থিতির দিকে সর্তক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। সরকারি- বেসরকারিভাবে শুকনো, রান্না করা খাবার এবং বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

আগের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়াতে বন্যা পরিস্থিতি ভালোর দিকে যাচ্ছে জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, সুরমা-কুশিয়ারা নদীর তিনটি পয়েন্ট ছাড়া জেলার অন্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যেও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমেছে।

তিনি জানান, সুরমা নদী সিলেট শহর পয়েন্টে বিদৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার এবং কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর কুশিয়ারা নদী জকিগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেট আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন বলেন, ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৭ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

তবে জকিগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফসানা তাসলিম।

তিনি বলেন, “উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, আগের মতই আছে। ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৩০ থেকে ১৫০ পরিবার রয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজনকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বন্যার্তদের প্রশাসনের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”

সিলেট জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সিলেট সিটি করপোরেশনের নয়টি ওয়ার্ড, সিলেট সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, জৈন্তাপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন, গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন, কানাইঘাট উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন, জকিগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন, বিয়ানীবাজার উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার দুটি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের নয়টি ওয়ার্ডসহ জেলার বন্যা কবলিত আটটি উপজেলার মোট ৬৮টি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের ৭৮১টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় বন্যা আক্রান্ত জনসংখ্যা ৬ লাখ ৯ হাজার ৩৩ জন।

বন্যা দুর্গতদের জন্য পুরো জেলায় ৫৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৩৪২ জন মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। পানিবন্দি পরিবারগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরের কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এ ছাড়া বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়ন ভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

এদিকে উজান থেকে ভাটির দিকে পানি নামতে শুরু করায় সিলেট মহানগর, সদর, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের বার্তায় বলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: