সর্বশেষ আপডেট : ১০ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

‘চাচির খাওয়ানো বিষে’ প্রাণ গেলো স্কুল ছাত্রীর, উল্টোরথে পুলিশ!

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

বিষে মলিন কিশোরী মাছুমা বেগমের অবয়ব। শয্যাশায়ী হাসপাতালে। কেবল প্রাণপাখিটা উড়াল দেওয়ার অপেক্ষায়। মৃত্যুর আগে কিশোরী মাছুমা জানান দিয়ে গেলেন ভয়ঙ্কর তথ্য। তাকে বিষপান করিয়েছেন বাবার ফুফোতো ভাইয়ের স্ত্রী আসমা বেগম। ঘটনাটি জানার পর থেকে তোলপাড় চলছে উপজেলা জুড়ে। কিন্তু ওই ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আগেই অপমৃত্যুর মামলা নেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ!

নিহত কিশোরী মাছুমা বেগম ওসমানীনগর উপজেলার ধনপুর গ্রামের আব্দুল কালামের মেয়ে ও স্থানীয় মাজার বাজার হাই স্কুলের নবম শ্রেনীর ছাত্রী ছিলেন।

নিহতের বাবা আব্দুল কালাম জানান, গত মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দুপুরে তার মেয়ে মাছুমা বেগম পাশের বাড়ি তার ফুফাতো ভাই মৃত আব্দুল কাদিরের স্ত্রী আসমা বেগমের ঘরে যায়। তখন আসমা তার পুত্রবধূ জাহাঙ্গীরের স্ত্রী নিপা বেগমের সামনে আমার মেয়েকে শরবত পান করায়। বিষ পান করানোর ঘটনাটি দেখেছেন রিপা বেগমও। বাড়িতে ফিরে তার মেয়ে সবুজ বর্ণের বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। গুরুতর অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টায় মাছুমা মারা যায়।

মৃত্যুর আগে মাছুমা বেগম তার স্বজনদের কাছে বলে যায়, চাচি আসমা বেগমের ঘরে সে বেড়াতে যায়। সেখানে তাকে শরবতের সঙ্গে বিষয় পান করানো হয়েছে। বাড়ি ফেরার পর মাছুমার মা মেয়েকে সবুজ বর্ণের বমি করতে দেখে জানতে চা কী হয়েছে। তখন সে জানায় চাচির দেওয়া শরবত পান করে অসুস্থ হয়েছে। কথা বলতে পারছে না। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার আগে মাছুমা বলে যায় চাচি তাকে শরবতের সঙ্গে বিষ পান করিয়েছেন।

এদিকে, কিশোরীর বিষ পানে মৃত্যুর ঘটনায় ওসমানীনগর থানায় বেতার বার্তা পাঠায় কোতোয়ালি পুলিশ। ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাটি জানতে পেরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হক খতিয়ে দেখতে উপ পরিদর্শক (এসআই) নুর উদ্দিনকে দায়িত্ব দেন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহতের স্বজনদের থানায় আসতে বলেন।

নিহতের বাবা আব্দুল কালাম বলেন, শনিবার সকাল ১১টায় তাকে থানায় নিয়ে ঘন্টাখানেক বসিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর রাখা হয়। এই ঘটনায় উল্টো রথে হাঁটছিল থানা পুলিশ।বিষ পান করিয়ে হত্যার ঘটনাটি অপমৃত্যুর মামলা নিয়ে দায়মুক্ত হতে চেয়েছি পুলিশ। ঘটনাটি বুঝতে পেরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দ্বারস্থ হন ভোক্তভোগীরা। পরে শনিবার রাতে ঘটনাটি অন্যদিকে মোড় নেয়।

মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে এ বিষয়ে আব্দুল কালাম বলেন, আমাকে ডেকে থানায় আনা হয়েছে। অপমৃত্যর মামলা কি না, সে বিষয়ে কোনো কিছু বলতে পারবো না। তবে মেয়ের ময়না তদন্তের জন্য পুলিশ আমার স্বাক্ষর নিয়েছে বলে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হক বলেন, ঘটনাটি জানতে পেরে তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। তবে অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হয়নি। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি।

তবে ঘটনার তদন্তে যাওয়া উপ পরিদর্শক নুর উদ্দিন বলেন, কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর সংবাদ নিয়েছি। কিন্তু অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিশোরীর বাবাকে ডেকে থানায় এনে অপমৃত্যু দরখাস্তে স্বাক্ষর নিয়েছি। পরে পুরো বিষয়টি জানতে পেরে মামলাটি রেকর্ড করা হয়নি।

তিনি বলেন, বিষ পানের বিষয়টি থানায় অবহিত করা হয়নি, বিধায় ‘আমি নিহতের বাড়িতে গিয়ে ধমক দিয়েছি। বিষ পানের ঘটনাটি থানায় জানানো হয়নি কেনো? তাদের কাছ থেকে তথ্য জানার চেষ্টা করেছি, কেউ কিছু বলতে পারেনি। পরে মৃত্যুর আগে কিশোরীর জবানবন্দির ভিডিওটি হাতে পেয়েছি। আগে জানলে আমরা মেয়েটির বক্তব্য রেকর্ড করতাম। এরপর সন্ধ্যায় মেয়ের চাচা সালাম ও স্থানীয় মামুন নামের এক ব্যক্তিসহ মেয়ের বাবা থানায় আসেন। রোববার থেকে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হবে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। অভিযুক্ত আসমা বেগম বিষ পান করানোর দিন থেকেই বসতঘর তালাবদ্ধ করে পলাতক রয়েছেন।

কিশোরী মাছুমার মা বলেন, ‘আমার মেয়ের বিষ পান করানোর জবানবন্দি অনুযায়ী ঘটনাস্থলে বিষের বোতল পাওয়া যায়। সেটি সংরক্ষণে আছে। তার মেয়েকে বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে, বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে রমজানের আগের দিন ১১ মার্চ পারিবারিক কলহে আসমা বেগমের ছেলে হাফিজ আলমগীর বিষ পানে নিজ বসত ঘরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আলমগীরের মায়ের তার স্ত্রীর বনিবনা ছিল না বিধায় পিত্রালয়ে চলে যায়। আলমগীরের মৃত্যুর পর পুলিশ তার একটি চিরকুট উদ্ধার করে। তাতে লেখা ছিল, মা ও স্ত্রীর পারিবারিক কলহের কারণে তিনি বিষ পান করেছেন।এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম। তবে চিরকুটটি আলমগীরের হাতের লেখা বলে নিশ্চিত করেছেন এই তদন্তকারী কর্মকর্তা। তবে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে মৃত আলমগীরের স্ত্রী আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওই ঘটনাটি তদন্তক্রমে আদালতে অপমৃত্যুর প্রতিবেদন দিয়েছি।

একই ঘরে পর পর দুইটি বিষ পানের ঘটনায় জনমনে কৌতুহল দেখা দিয়েছে। বিষয় দুটি একই সূত্রে গাঁথা কিনা এমন প্রশ্নও ওঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: