![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডজুড়ে ইসরায়েল জাতিসংঘের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে হামলা চালায়। লাগাতার এ হামলায় নারী শিশুসহ প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। নিহত হয়েছে জাতিসংঘের ৮৮ কর্মী, যা একক কোনো সংঘর্ষে সর্বোচ্চ নিহতের ইতিহাস। খবর আল-জাজিরা।
রোববার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় সংস্থাটির ত্রাণ বিষয়ক সংস্থার ৮৮ জন সদস্য নিহত হয়েছে। এর আগে আর কোনো একক সংঘাতে জাতিসংঘের এত সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এটি এখন পর্যন্ত সংঘাতপূর্ণ এলাকায় জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা।
জাতিসংঘের রিলিফ এন্ড ওয়ার্কস এজেন্সি ফর প্যালেস্টিনিয়ান রিফিউজিস (ইউএনআরডব্লিউএ) তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে সম্প্রতি নিহত হওয়া সদস্যদের স্মরণে ফুলের তোড়া সম্বলিত একটি পোস্টার প্রকাশ করে। যেখানে লেখা ছিল, ‘ভালোবাসার সহকর্মীদের স্মরণে।’
জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সমন্বয়ক মার্টিন গ্রিফটস বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশু মৃত্যুর সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। অবরুদ্ধ এলাকাটিতে এখন পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৭৭০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে। গত প্রায় এক মাস ধরে গাজায় বোমা হামলা ছালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না আবাসিক ভবন, শরণার্থী শিবির, হাসপাতাল ও স্কুল। এতে সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।
এদিকে সর্বশেষ গাজার মাগ-হাজি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ৪০ জন নিহত ও ৩৪ জনের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে, ইসরায়েল তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। হামলার বিষয়ে ইসরায়েল বলছে, তাদের মূল লক্ষ্য হামাস। এরা মানবঢাল তৈরি করে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছে।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এবং বিশ্ব খাদ্য সংস্থা, সেভ দ্য চিলড্রেনসহ বিভিন্ন সংস্থা দুপক্ষেরই প্রাণহানির কথা উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে গত ৭ অক্টোবর হামাস যাতের জিম্মি করেছে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।
অপরদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেছেন, তাদের সৈন্যরা গাজায় প্রবেশ করে উপকূল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ফলে কার্যত তারা গাজা উপত্যকাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে। একটি হচ্ছে উত্তর গাজা এবং আরেকটি দক্ষিণ গাজা। এর আগে তিনি জানান, সেনারা গাজা শহরটিকে ঘিরে ফেলেছে।
হাগারি বলেন, ইসরায়েল এখনো গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যেতে বাসিন্দাদের জন্য একটি ‘করিডোর’ খোলা রেখেছে। ইসরায়েল ঘোষণা করেছে যে, তারা হামলা আরও জোরদার করবে এবং গাজা উপত্যকা এবং গাজা শহর ঘিরে স্থল অভিযানও আরও শক্তিশালী করা হবে।
সর্বশেষ, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, স্থল অভিযানে এখন পর্যন্ত তাদের ২৯ সেনা নিহত হয়েছে।