![]()


নগরীর খাঁরপাড়ায় প্রবাসী দুই ভাইকে বঞ্চিত করে মায়ের রেখে যাওয়া সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাতের চেষ্টা চালাচ্ছেন ছোটো ভাই। এ বিষয়ে তাদের খালা মিনু বেগম সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন, ‘প্রতারণা করে জাল দলিলের মাধ্যমে ছোটো বোনপো অহিদ আহমদসহ একটি চক্র মিরাবাজারের খারপাড়া মিতালী ২৫/সি বাসাটি আত্মসাতের পায়তারা করছেন। এ জন্য বাসায় বসবাসকারী স্বজনদের তাড়িয়ে দিতে ওই চক্র ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে। বাসা না ছাড়লে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানো ও যুবতী মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে তারা।’
সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি। জানমালের ক্ষতির শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
মিনু মেগম জানান, বড় বোন ফাতেমা বেগম ক্রয় ও দানসূত্রে সিলেট নগরের মিরাবাজার খারপাড়া মিতালী ২৫/সি নং বাসার মালিক। ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে দীর্ঘদিন অজ্ঞান অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন। এর আগে ব্রেন স্ট্রোক করে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তিনি কাউকে চিনতেন না। এমনিক তার সন্তারদেরকেও তিনি চিনতেন না। বিছানায় প্রস্রাব পায়খানা করতেন।
তিনি আরও জানান, বোনের মৃত্যুর অনেক আগ থেকেই বড় ছেলে সহিদ আহমদ পরিবার নিয়ে কানাডায় এবং মেঝো ছেলে আলী হোসেন পরিবার নিয়ে ইটালিতে পাড়ি জমায়। ছোটো ছেলে অহিদ আহমদ পরিবার থেকে বিচ্যুত হয়ে তার পছন্দের পাত্রিকে বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস করছে। সে তার মায়ের খোঁজখবর খুব একটা নিত না।
মিনু বেগম বলেন, ‘আমার বোন ফাতেমা বেগমের শারীরিক অবস্থা শংকটাপন্ন হলে অহিদ তার মাকে দেখতে আসে। এর সুবাদে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সে বাসাটি একা দখলের পাঁয়তারা শুরু করে। যা পরবর্তীতে প্রকাশ পায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অহিদ একটি জাল দলিল তৈরি করে সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে বাসাটি তার মা তাকে লিখে দিয়েছেন। তার দেখানো দলিলটি ৩০/০৩/২০২২ তারিখে তৈরি করা। আমার জানা মতে সে সময় আমার বোন ফাতেমা একটি ক্লিনিকে আইসিউতে ছিলেন। তার জীবন ছিল সংকটাপন্ন।’
তিনি প্রশ্ন রাখেনÑ তখন তিনি অজ্ঞান অবস্থায় কি করে তার দুই সন্তানকে বঞ্চিত করে এক সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিবেন?
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা তার পাশে ছিলাম আমরা কেউই বিষয়টি জানতে পারলাম না। একজন মৃত্যুপথযাত্রী মা তার দুই সন্তানকে বঞ্চিত করে এক সন্তানের নামে সম্পদ লিখে দিয়ে যাবেন এটি বিশ্বাসযোগ্যও নয়।’
অহিদের প্রতারণা ও জালজালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে বড় বোনপো সহিদ আহমদ কানাডা থেকে এসএমপির পুলিশ কমিশনার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মিনু বেগম বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি একাই বাসা দখল করতে অহিদ একটি জাল দলিল তৈরি করেছে। শুধু তাই নয় সে তার মায়ের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পূর্বে গত গত ৫ ডিসেম্বর নগরের শিবগঞ্জের আমীর আলীর পুত্র শামীম আহমদের নিকট ওই বাসাটি বিক্রি করে দিয়েছে। সম্পূর্ণ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সে এই জঘন্য কাজটি করেছে।’
তিনি আরও অবিযোগ করেন, ‘গত ১০ ফেব্রুয়ারি শামীম আহমদ তার কিছু সহযোগীদের নিয়ে বাসায় এসে আমাদেরকে বাসা ছাড়তে বলে। ওই বাসায় আমি, আমাদের আত্মীয় খালেদা বেগম ও খালেদার প্রতিবন্ধী যুবতী মেয়ে বসবাস করে আসছি। বাসা না ছাড়লে প্রবাসী বোনপোসহ সবাইকে চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসাবে বলে হুমকি দেয়। খালেদার যুবতী মেয়েকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করবে বলেও হুমকি দেয় তারা।’
তিনি বলেন, ‘আমার দুই বোনপো পরিবার নিয়ে প্রবাসে থাকায় অহিদ তার সহযোগী শামীমের যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে একাই বাসাটি আত্মসাৎ করতে চাচ্ছে। বোন যেদিন মারা যান ওইদিনই অহিদ তার মায়ের দাফন কাজ সম্পন্ন না করেই ঢাকায় তার স্ত্রীর কাছে চলে যেতে চায়। তখন আমরা স্বজনরা তাকে বুঝিয়ে তার মায়ের দাফন সম্পন্নের পর যেতে বলি।’
চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে তিনি আমার প্রবাসী দুই বোনপোর সম্পত্তি রক্ষা, প্রতারণাকারী অহিদ ও শামীমদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। বিজ্ঞপ্তি