সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

টাউন কো-অপারেটিভ সোসাইটির নির্বাচন বাতিলের দাবি

সিলেট টাউন কো-অপারেটিভ সোসাইটির সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে ‘অবৈধ ও নীলনকশা’র নির্বাচন বলে অবহিত করেছেন সমিতির নতুন কয়েকজন সদস্য। এ নির্বাচন বাতিলের দাবি জানানোর পাশাপাশি ‘বেআইনিভাবে’ তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন। সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন তারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শম্ভু নাথ সেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সিলেট টাউন কো-অপারেটিভ সোসাইটি একটি প্রতিষ্ঠিত সমিতি। ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সমিতি সিলেট টাউন ব্যাংক লিমিটেড নামে স্বনামধন্য সমবায় সমিতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সরকারি নিবন্ধন নিয়ে সমিতিটি দীর্ঘদিন ধরে তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। ১৭৫ সদস্যের এ সমিতির নিজস্ব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিও আছে এবং ইতোপূর্বে এ সমবায় সমিতি নিজেদের বাইলোজ ও সরকারের সমবায় আইন ও বিধি মেনে কমিটির যাবতীয় কার্যাক্রম পরিচালনা করে আসছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দু:খজনক হলেও সত্য, উক্ত সমিতির নির্বাহী ক্ষমতা সম্পন্ন সেক্রেটারি মঈন উদ্দিন ৩ টার্মে টানা ৯ বছর সেক্রেটারি হিসেবে ছিলেন। এ দীর্ঘ সময়ে সমিতির নিয়ম ও বিধি বিধান লঙ্গন করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আধিপত্য ও প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়াতে ছেলে-মেয়ে, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজনসহ নিজের লোকদের সমিতির সদস্য হিসেবে বেআইনীভাবে অন্তর্ভূক্ত করেন। পরবর্তীতে মঈন উদ্দিন বিভিন্ন কুটচালের মাধ্যমে তার ছেলে ফখর উদ্দিন মাহমুদকে সেক্রেটারি মনোনীত করেন। আর এর মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত সমবায় সমিতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রন্তে নিয়ে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, মঈন উদ্দিন সমিতির ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সমিতিতে আত্মীয়করণের মাধ্যমে তার ভগ্নিপতি মবশ্বির আলীকে সেক্রেটারি মনোনীত করেন। পরে সমিতির সদস্যরা ২ মাসের মধ্যে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। অবশিষ্ট মেয়াদে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের ম্যানেজ করে মঈন উদ্দিন নিজে কো-অপ্ট হয়ে সেক্রেটারি পদে পুনরায় আসীন হন। পরবর্তী নির্বাচনে তিনি পুনরায় সেক্রেটারি পদে প্রার্থী হলে তৎকালীন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি তার প্রার্থীতা বাতিল করে। পরে কৌশলে তার ছেলে ফখর উদ্দিন মাহমুদকে তিনি তিন বছর মেয়াদের জন্য সেক্রেটারি মনোনীত করেন। এ সময়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে নতুন ৫০ জন সদস্য আবেদনের সুযোগ পান। সমিতির বিধি-বিধান অনুসারে নতুন সদস্য অন্তর্ভূক্তির জন্য আবেদন ফরম বিতরনের মাধ্যমে নতুন সদস্য হিসাবে ৫০ জন সদস্যের আবেদন ফরম গ্রহণ করা হয় এবং যাচাই-বাছাই করে সমিতির যাবতীয় বিধি বিধান মোতাবেক ৪৯ জনকে সদস্য করা হয়।

তিনি বলেন, আমরা ৪৯ জনকে সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য গত ৩০ জুন সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ৯ নম্বর এজেন্ডায় সদস্য অন্তর্ভূক্তি বিষয়ে বিশদভাবে আলোচনা হয় এবং গত ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আমরা ৪৯ জনকে সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত সর্ব সম্মতিক্রমে সভায় গৃহিত হয়। ‘এরই মধ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়। চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রত্যেক সদস্য বরাবরে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটার তালিকাসহ চিঠি প্রেরণ করা হয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তীতে আপত্তি না থাকায় সর্ব সম্মতিক্রমে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ করা হয়।’

তিনি বলেন, এতকিছুর পর হঠাৎ করে নির্বাচনে সেক্রেটারি পদের প্রার্থী মঈন উদ্দিন আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেন। যখন বুঝলেন তিনি এবার হেরে যাবেন তখনই জেলা সমবায় কার্যালয়ের কতিপয় কর্মকর্তার সঙ্গে অবৈধ যোগসাজশে সমিতির বিধান লংঘন করে এবং অত্র সমিতির বাইলোজ এর ১২(১)(গ), ১২(২) বিধি অমান্য করে নতুন সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত আমরা ৪৯ জন সদস্যকে কোন কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান না করে এবং আমাদেরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং সাধারণ সভার অনুমোদন না নিয়ে সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনীভাবে ভোটাধিকার কেড়ে নিতে উঠে পড়ে লাগেন। এবং গত ৯ নভেম্বর আমরা ৪৯ জন সদস্যের ভোটাটিকার হরণ করতে জেলা সমবায় কর্মকর্তা বরাবরে মঈন উদ্দিন নিজ উদ্যোগে আবেদন করেন। কর্মকর্তা বরাবরে জেলা সমবায়ে করা আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৫ নভেম্বর তারিখে শুনানীর দিন ধার্য্য করেন। সম্পূর্ণ যোগাযোগীমূলে বর্তমান সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালনরত তার ছেলের সঙ্গে যোগসাজশে নোটিশ গোপন করে, ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যান্য সদস্যকে অবহিত না করে, মঈন উদ্দিন ও তার ছেলে শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন এবং আমরা ৪৯ জন সদস্যকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে একতরফাভাবে পরের দিন বিগত ১৬ নভেম্বর আমদের ভোটাধিকার হরণ করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের এক কার্যদিবস সামনে রেখে জেলা সমবায় কর্মকর্তা আমরা ৪৯ জন সদস্যের ভোটাধিকার বেআইনী হরণ করেন যাতে আমরা ৪৯ জন সদস্য বন্ধের দিনে কোন আইনী পদক্ষেপ নিতে না পারি সেই মোতাবেক পরিকল্পিতভাবে আদেশ প্রদান করেন এবং গত ১৯ নভেম্বর পূর্ব নির্ধারিত নির্বাচন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা এ নির্বাচনকে অবৈধ ও বেআইনী আখ্যাদিয়ে নির্বাচন বাতিল এবং তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়ে পুনরায় ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ শামীম আহমদ, মো. মহসিন ভূইয়া, মো. মতিউর রহমান, কল্লোল জ্যোতি বিশ্বাস, মো. সেলিম, মো. আনিস, ফয়ছল ইসলাম, নাদের খান, শফিকুন নূর ও মোতাহের হোসেন দুলাল। বিজ্ঞপ্তি

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: