![]()


সিলেটের বাইরে থেকে ডেঙ্গু সংক্রমণ (ট্রান্সমিশন) হচ্ছে। এ মৌসুমে সিলেট বিভাগে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ২২ জনের ডেঙ্গু রোগ শনাক্ত হলেও তারা স্থানীয়ভাবে (লোকালি) আক্রান্ত হননি। তাদের ঢাকা কিংবা দেশের অন্য কোন স্থান ভ্রমণের ‘হিস্ট্রি’ রয়েছে।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে গত সপ্তাহে ১০ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৫ জন সুস্থ হয়ে বাসা-বাড়িতে ফিরেছেন। তবে হাসপাতালে এখনও ৫ জন চিকিৎসাধীন। শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি সিলেটের ৫ ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ৪ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজন একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে সকলের শারীরিক অবস্থা ভালো।
সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, সিলেট বিভাগে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আক্রান্ত ২২ জনের ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা ভ্রমণের হিস্ট্রি রয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগ সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বাসিন্দা। সুনামগঞ্জের কারো এখনো ডেঙ্গুতে আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। দেশে ডেঙ্গু রোগী বাড়লেও সিলেটে এ নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতেও সিলেটে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ততটা বাড়েনি। এক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সিএইচও) ডা. জাহিদুল ইসলাম সিভিল সার্জন ও ডেপুটি সিভিল সার্জনের সাথে আলোচনার বরাত দিয়ে বলেন, নগরীতে আক্রান্ত ৪ জনের ট্রান্সমিশন হয়েছিল ঢাকা থেকে। সিলেট নগরীতে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর লোকাল ট্রান্সমিশনের খবর পাননি বলে জানান তিনি। সিলেট নগরীতে চলতি মৌসুমে কেবল দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকায় কয়েকটি টাইলসের দোকানের সম্মুখে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সিসিকের মোবাইল কোর্ট সেখানে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সম্প্রতি আরেকটি টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে কোন লার্ভার সন্ধান পায়নি।
এ ব্যাপারে সিসিকের অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অভিযানে এডিসের লার্ভা তাৎক্ষণিক ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণত বাসার ফুলের টব, ডাবের খোসা, টায়ারের দোকানসহ পরিত্যক্ত জায়গায় জমে থাকা পানিতে এডিশ মশার জন্ম হয়।’
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা: এস এম শাহরিয়ার জানান, সিলেটে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব তেমন দেখা না গেলেও রোগী শনাক্ত হচ্ছে। কাজেই, এ ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, গত সপ্তাহে সিলেটে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১০ জনের মধ্যে ৮ জন সিলেট জেলার ও ২ জন মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা। এছাড়া, সেপ্টেম্বর মাসে এ বিভাগে আরো কয়েকজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। সিলেটে গত বৃহস্পতিবার একদিনে সর্বোচ্চ ৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয় বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৩৪ জন। এ বছর ঢাকার বাইরে কক্সবাজার জেলায় সবচাইতে বেশি লোক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন।
ডেঙ্গুর যেসব উপসর্গ
ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হলো শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হওয়া। অনেক সময় চোখের সাদা অংশে রক্ত জমাট হতে দেখা যায়। অনেক রোগীর মধ্যে শ্বাসকষ্ট, পেট ব্যথা, বমি, মল বা প্রস্রাবের সাথে এমনকি নাক মুখ থেকে রক্ত যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে বলে পরামর্শ চিকিৎসকদের।