![]()


করো’নাভাই’রাস প্রতিষেধক আ’মেরিকার তৈরি মডার্না আজ বৃহস্পতিবার থেকে প্রথম ডোজ দেয়া বন্ধ করছে সরকার। এই খবর পেয়ে সকাল থেকেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে ভিড় করেন টিকা গ্রহীতা অসংখ্য মানুষ। সকাল থেকেই এসব মানুষ হাসপাতা’লে ভিড় করতে শুরু করলে সকাল ১০টার আগেই লোকারণ্য হয়ে উঠে হাসপাতা’লের বহির্বিভাগ। কয়েকলাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ টিকা নেয়ার জন্য অ’পেক্ষা করেন। আর এই অ’পেক্ষমান মানুষদের কাছ থেকে লাইন আর টিকা গ্রহণের এসএমএস ছাড়াই মডার্নার টিকা দিয়ে দেয়ার কথা বলে ৫০০ থেকে ১০০০ করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। আর তাদের প্রধান টার্গেট নারীরা।
মূলত হাসপাতা’লে ওয়ার্ডবয়, ক্লিনার আর স্থানীয় কয়েকজন মিলেই গড়ে তুলেছেন এই দালাল সিন্ডিকেট।
অ’ভিযোগ রয়েছে- চক্রটি ভু’য়া সিল, ভু’য়া সাইন, ভু’য়া স্কেন দেখিয়ে মানুষদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এছাড়া লাইন না মেনে জো’রপূর্বক টিকা কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করে টিকা প্রয়োগের চেষ্টাও চালাচ্ছেন। এসময় সিটি কর্পোরেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা বাধা দিলে তাদের হু’মকি প্রদান করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগের চতুর্থ তলায় ১২টি বুথে টিকা দেয়া হচ্ছে। তবে প্রতিটি বুথ থেকে শুরু হওয়া টিকা গ্রহীতা মানুষের লাইন শুরু হয়ে দ্বিতীয়, প্রথম তলা পর্যন্ত চলে গেছে। ক্ষেত্রবিশেষে কোন কোন বুথে ছিল একাধিক লাইন। এমন লাইনে মানুষ একজনের গা ঘেষে আরেকজন দাঁড়িয়েছিলেন। এতে করে টিকা নিতে আসা মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি ছিল না। ছিল না মাস্কও। আর যারা স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলবেন, তারা টিকা গ্রহীতার মানুষের তুলনায় খুবই অল্প।
এদিকে- করো’নাভাই’রাসে টিকা দেয়ার শুরু থেকেই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছেন রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা। তারা এই কা’ণ্ডের কারণে বিব্রত বলে জানালেন যুব রেড ক্রিসেন্টের কো-অর্ডিনেট মোহাম্ম’দ নাজিব খান।
তিনি বলেন, ‘আম’রা করো’না টিকা শুরু হওয়ার পর থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে আসছি। গত ১০ থেকে ১৫ দিন থেকে একটি চক্র বিভিন্নভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এছাড়া টিকা কেন্দ্রে এসে আমাদের স্বেচ্ছাসেবীদের কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এসব বন্ধে আম’রা প্রশাসনের কাছে জো’র পদক্ষেপ কা’মনা করছি।’
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের পু’লিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জয়নাল হোসেন বলেন, আমি করো’না টিকা শুরু হওয়ার পর থেকে এরকম কোনো কিছু শুনিনি বা আমা’র কাছে কেউ অ’ভিযোগ করেনি। তবে আজকে এক নারী এসে আমাকে জানিয়েছেন এক লোক তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছেন। পরে ওই নারীকে নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে গেলে তিনি কাউকে চিহ্নিত করতে পারেন নি।
এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মক’র্তা ডা. মো. জাহিদুল ইস’লাম বলেন, ম’র্ডানার টিকার প্রথম ডোজ আজকে শেষ হচ্ছে শুনেই মানুষ ভিড় করছেন। আর এই ভিড়কে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা নেয়ার অ’ভিযোগ শুনে আমি সরেজমিনে পু’লিশ নিয়ে গিয়েছিলাম। তবে আম’রা কাউকে পাইনি। তবে কয়েকজন টাকা দেয়ার বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, করো’নার টিকা নিলে আর করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হবেন না এই বিশ্বা’স সমাজে চলে এসেছে। এটি খুবই বিপদজনক একটি বিশ্বা’স। কারণ টিকা নিলে করো’না হবে না এই তথ্য ভুল। তবে টিকা নিলে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। এজন্য স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক পরে টিকা কেন্দ্রে যেতে হবে এবং টিকা গ্রহণ করতে হবে।
টিকার মূল দায়িত্ব সিসিক কর্তৃপক্ষের; উল্লেখ করে দালালদের ব্যাপারে কোন অ’ভিযোগ পেলে ক্ষতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) সিলেটে করো’নাভাই’রাসের টিকা নিয়েছেন আরও ৮ হাজার ১৪০ জন। সিলেট নগরীর দুইটি টিকা কেন্দ্রে এসব মানুষ এই টিকা নেন।
এরমধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতা’লে যু’ক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্নার করো’নাভাই’রাসের টিকা নিয়েছেন হাজার ৭৩৬০ জন আর পু’লিশ লাইন্স হাসপাতা’লে ৭৮০ জন টিকা নেন। এদিকে সিনোর্ফামা’র টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৫২ জন আর কোভিশিল্ড নেন ১৮৬০ জন। সৌজন্যঃসিলেটভ’য়েস