সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

দেড় লাখ টাকায় কিডনি প্রতিস্থাপন করবে গণস্বাস্থ্য

দেড় লাখ টাকায় কিডিনি প্রতিস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মেজর এটিএম হায়দার মিলনায়তনে এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কিডনি রোগীদের নিঃস্ব করছে ওষুধ। সরকার চাইলেই তার দাম কমাতে পারে। ডায়ালাইসিসে প্রচুর খরচ, যা আমাদের নিম্ন শ্রেণির মানুষের জন্য বহন করা খুবই কষ্টকর। তাই প্রতিস্থাপনই একমাত্র পথ। সমাজরে বিত্তবান ও দানশীল প্রতিষ্ঠানকে কিডনি প্রতিস্থাপনে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, আপনাদের মতো দানশীন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনুদানে, একটি আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ট্রান্সপ্লান্ট দলের কারিগরি তত্ত্বাবধানে যুক্তরাজ্যের রয়াল লন্ডন হাসপাতালের সহায়তায় গণস্বাস্থ্য স্যার ফজলে হাসান আবেদ ট্রান্স প্ল্যান্ট সেন্টার স্থাপনের কাজ শুরু করেছি। যার আনুমানিক প্রাক্কালন ৭৫ কোটি টাকা। কিডনি প্রতিস্থাপনে যেখানে খরচ হয় ৩০ লাখ টাকা সেখানে আমরা কম খরচে মাত্র দেড় লাখ টাকায় কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারবে।

তিনি বলেন, কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়ে আইনি জটিলতা কাটছেই না। হাইকোর্টের দেওয়া অঙ্গ সংযোজনের রায় আজও বাস্তবায়ন হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু মানুষের কারণে আমরা আটকে পড়েছি।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, প্রতিদিনই কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অন্য রোগ হলে ওষুধ খেয়ে তা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব কিন্তু কিডনি দীর্ঘমেয়াদী রোগ হওয়ায় ব্যয়ভার অনেক বেশি। সরকার ভারতীয় কোম্পানিকে ২২ শ টাকা সাবসিডিয়ারি দেয়, আমরা ৯ শ চেয়েছিলাম কিন্তু তাই পাচ্ছি না। সরকারি সহযোগিতা ছাড়া কিডনি সমস্যা নিরসন করা সম্ভব নয়।

প্রতি বছর হাজারের বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে বেসরকারিভাবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কিডনি প্রতিস্থাপন হলেও সরকারিভাবে নানা অজুহাতে থেমে আছে। ২০১৯ সালে একটি ট্রান্সপ্ল্যান্টের উদ্যোগ নেয়া হয়, কিন্তু আইনি সংকীর্ণতার কারণে আজো তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কিডনি রোগ প্রকট আকার ধারণ করায় শঙ্কা বাড়ছে। ওষুধের দাম অনেক বেশি। সরকারকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাম কমা সংক্রান্ত সব ট্যাক্স বাদ দিতে হবে।

কিডনি প্রতিস্থাপনে ইরানের পদ্ধতি অনুসরণ করা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানে কিডনিদাতাকে সরকারিভাবে সবধরনের সহযোগিতা করা হয়। ব্যক্তির সঙ্গে নয়, কিডনি বিনিময় রাষ্ট্রের সঙ্গে হয় সেখানে। ফলে পাচার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না সেখানে।

ডা. মাসরুরা জাবীনের উপস্থাপনায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন কিডনি রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন মোস্তাফি, ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. মনজুর কাদির আহমেদ প্রমুখ।

অধ্যাপক ডা. মামুন মোস্তাফি তার বক্তব্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডায়ালাইসিসের মান ও অল্প খরচে উন্নত সেবাসেবা দানের নেপথ্যের বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডায়ালাইসিসের মান সারা বিশ্বের মধ্যে অনন্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিত্তবানদের অনুদান, নিজস্ব ফার্মাসিউটিক্যালসের পণ্য ব্যবহার, ডাক্তারদের সেবা দানের মানসিকতাসহ নানা কারণে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বল্প মূল্যে সেবা দান করতে পারছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. মনজুর কাদির আহমেদ বলেন, মানুষের সেবা করা নেশার মতো।

এ ছাড়া অনলাইনে যুক্ত হয়ে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা নিরসনে তার বক্তব্য তুলে ধরেন ব্যারিস্টার রাসনা ইমাম। সূত্র : দেশ রূপান্তর

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Comments are closed.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: