সর্বশেষ আপডেট : ৫৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১ অগাস্ট ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

জোর করে কিছু শেখানোর নাম শিক্ষা নয়- মিজানুর রহমান আজহারী

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ‘আল মা’রকাযুল কোরআন ইস’লামিক একাডেমি’ নামের হাফেজি মাদরাসার আট বছরের এক আবাসিক শি’শু শিক্ষার্থীকে অমানবিকভাবে পে’টানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। নি’র্যা’তনের শিকার শি’শুটির বাবা-মা অ’ভিযু’ক্ত শিক্ষকের শা’স্তি চান না বলে উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তার কাছে লিখিত অনুরোধ জানালেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে অ’ভিযু’ক্ত শিক্ষক হাফেজ ইয়াহিয়াকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে।

হাফেজি মাদরাসায় শি’শু শিক্ষার্থীকে নির্দয়ভাবে পে’টানোর ঘটনায় সময়ের আ’লোচিত ইস’লামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পাঠকদের জন্য তাঁর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধ’রা হল-

“হিফজখানাগুলোতে শি’শু নি’র্যা’তনের ইতিহাস এদেশে অনেক পুরাতন। আধুনিককালে প্রায়শই নি’র্যা’তনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়। সম্প্রতি যে ভিডিওটি ভাই’রাল হয়েছে সেটা দেখে রীতিমত সবাই আতকে উঠেছে। চো’র ডা’কাতকেও তো মানুষ এভাবে পে’টায় না। আমা’র প্রশ্ন হচ্ছে এই নির্দয় শিক্ষক কি কোন ভুল করলে তার নিজ সন্তানকেও বাসায় এভাবেই পে’টায়? একজন হাফেজে কুরআন শিক্ষক কিভাবে এতটা হিংস্র, পাশবিক এবং অমানবিক হতে পারে?

কুরআনকে শুধু হিফজ করে বুকে ধারণ করলেই আলোকিত মানুষ হওয়া যায় না। কুরআনের প্রকৃত ম’র্মা’র্থ অনুধাবন করতে হয়, কুরআনের রঙে রঙিন হতে হয় এবং কুরআনের অমিয় শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করতে জানতে হয়, তাহলেই একজন মানুষ আলোকিত মানুষ হয়ে ওঠে। আসলে এরা সুযোগের অভাবে সৎ। বড় কোন দায়িত্ব পেলে নিশ্চিত এরা সেখানেও এরকম হিংস্র তা’ন্ডব চালাতো। তাই, সময় এসেছে ধ’র্মীয় শিক্ষার নামে এসব অমানবিক নি’র্যা’তনের বি’রুদ্ধে আওয়াজ তোলার। নিজ নিজ এলাকার হিফজখানাগুলোর খোঁজ নিন। নি’র্যা’তনের অ’ভিযোগ পেলে স্থানীয় প্রশাসনকে জানান। এদেরকে বিচারের আওতায় আনুন।

প্রতিটি হাফিজিয়া মাদরাসায় বাধ্যতামূলক সি সি ক্যামেরা থাকা চাই। সি সি ক্যামেরা না থাকলে ওই হিফজখানায় আপনার আদরের সন্তানদের ভর্তি করাবেন না। পাশাপাশি, যারা তাদের সন্তানদের হিফজখানা অথবা কোন মাদরাসার ছাত্রাবাসে রেখে পড়াচ্ছেন তারা শীঘ্রই সন্তানদের সাথে খোলামেলা আলাপ করুন এবং নিশ্চিত হোন যে তারা কোনভাবে শারিরীক, মানসিক অথবা যৌ’ন নি’র্যা’তনের শিকার হচ্ছে কিনা।

ইস’লাম আমাদেরকে কুরআনুল কারীম হিফজ করতে উৎসাহিত করেছে কিন্তু বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে পুরো কুরআনের হাফেজ হতে নির্দেশ করেনি। আর এটা সম্ভবও নয়। যাকে দিয়ে যেটা হবে না, তাকে দিয়ে জো’র করে সেটা করানোর চেষ্টা করা— বোকা’মি আর সময় নষ্ট করা ছাড়া কিছুই নয়।

কুরআন সহীহ শুদ্ধ ভাবে পড়তে পারা, নিয়মিত তিলাওয়াত ও কুরআন বুঝাটা হল আবশ্যক। ত্রিশ পারা কুরআনের হাফেজ তো আর সবাই হতে পারবে না। তবে, যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা মেধা ও তাওফিক দিয়েছেন তাদের উচিত এই মহারত্নকে হৃদয়ে গেথে রাখার প্রানান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। কারণ এ যে পরম সৌভাগ্যের বিষয় যা সবার নসিবে থাকে না।

ফুলটাইম হিফজের পাশাপাশি এদেশে পার্টটাইম তাহফিজ সেন্টারেরও খুব দরকার। যারা পুরো কুরআন হিফজ করতে পারবে না তারা পাঁচ পারা, দশ পারা কিংবা পনেরো পারা হিফজ করবে। এতে লজ্জার কিছু নেই। আরব বিশ্বে এই সুন্দর প্রচলনটি রয়েছে। অর্থাৎ তারা প্রায় সবাই কুরআনের কিছু না কিছু হিফজ করে থাকে। যাদের মেধা ভালো তারা পুরো কুরআন আর অন্যান্যরা তাদের সাধ্যমত। এটাই বাস্তবতা। এখানে তো জো’রাজো’রি কিংবা মা’রামা’রির কিছু নেই। একজন শিক্ষক তার ছাত্রদেরকে প্রয়োজনে অবশ্যই শাসন করতে পারে। কিন্তু এভাবে পি’টিয়ে শরীরে দাগ করে ফেলা, হাতে পায়ে শিকল বেধে রাখা এবং ইচ্ছা বা সাধ্যের বাইরে অ’ভিবাবক কতৃক অনবরত সন্তানদের চাপ প্রয়োগ করা— এসবের কোনটাই ইস’লাম সম্মত নয়। এতে শি’শুর স্বাভাবিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উন্নত দেশে চাইলেই যে কেউ শিক্ষক হতে পারে না। শিক্ষক হতে হলে নূন্যতম একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি কিছু প্রশিক্ষণ নিতে হয়। বিশেষ করে, বদমেজাজী লোক হলে তো শুরুতেই শি’শুদের জন্য শিক্ষক বাছাইয়ে সে ডিসকোয়ালিফাইড। শি’শুদেরকে পড়াতে হলে, প্রচন্ড ধৈর্য্যশক্তি এবং যথেষ্ট সেন্স অব হিউম’র থাকতে হয়। মিশরে অধ্যয়নকালে বিশ্ববিখ্যাত প্রশিক্ষক ড. হুসনি আব্দুর রহিম ক্বিনদিলের সুপারভিশনে ‘আদর্শ পাঠদান পদ্ধতি’ এর উপর ৫০ ঘন্টার একটি কোর্স করেছিলাম। সেখানে তিনি যেকোন পরিস্থিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করতে সর্বাবস্থায় নিষেধ করেছেন। ওনার মতে, ক্লা’শে বেত রাখা যাবে কিন্তু ছাত্রদের উপর প্রয়োগ করা যাবে না বরং অন্যান্য উপায়ে তাদেরকে শাসন করতে হবে। আসলে শাসনের যথাযথ পদ্ধতি জানা থাকলে, বেত ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।

আমাদের দেশে যে কোন উপলক্ষ্যে মাদরাসা কিংবা স্কুলগুলোতে বাৎসরিক ছুটি দিলে স্বভাবতই শিক্ষার্থীরা খুব খুশী হয় কিন্তু পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে যেখানে স্কুল বন্ধ দিলে শি’শুরা কা’ন্না করে। কারণ তারা বাসার চেয়ে স্কুলকে বেশী ইনজয় করে। ছুটির দিনগুলোতে তারা তাদের সুন্দর ক্লাসরুম, ক্লাসমেইট এবং প্রিয় শিক্ষকদের খুব মিস করে।

মনে আনন্দ নিয়ে বাচ্চারা যেটা শিখে, সেটাই তারা দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারে। আমাদের সোনামণিরা মনের আনন্দে, হেসে, খেলে যেন সব শিখতে পারে, সেটার প্রতি আমাদের সবার লক্ষ্য রাখা উচিত। আনন্দ আর উৎসাহ নিয়ে ওরা যা শিখবে, সেটাই হল আসল শিক্ষা। এতে করে শৈশবের এই মূহুর্তগুলো ওদের জীবনে সুন্দর স্মৃ’তি হয়ে থাকবে। মানুষ স্বভাবতই তার অ’তীতকে ফিরে দেখতে ও স্মৃ’তিচারণ করতে পছন্দ করে। তার শৈশবের সকল নস্টালজিয়া বা অ’তীতবিধুরতার কল্পনায় আবেগাপ্লুত হয়। কিন্তু এভাবে অমানবিক নি’র্যা’তনের মধ্য দিয়ে যদি কোন শি’শু বড় হয়, তাহলে সেটা সে সহ’জে ভুলতে পারে না। ফলে, এটা তার চিন্তাপ্রক্রিয়া ও বেড়ে ওঠায় মা’রাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যেটার বিরুপ প্রতিক্রিয়া তার পুরো জীবনটাকেই ধ্বংস করে দিতে পারে। নষ্ট করে দিতে পারে তার আগামীর উজ্জ্বল ভবিষ্যত।

তাই, মনে রাখবেন— জো’র করে কিছু শেখানোর নাম শিক্ষা নয়, শিক্ষা হল আপনার সন্তানের স্বতঃস্ফূর্ত আত্মবিকাশ।”

উল্লেখ্য, হাটহাজারীর পৌর এলাকার মা’রকাজুল কোরান ইস’লামি একাডেমি মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী শি’শু ইয়াসিন। সোমবার (৮ মা’র্চ) বিকেলে মা পারভিন আক্তার ও বাবা মোহাম্ম’দ জয়নাল মাদরাসায় সন্তানকে দেখতে যান। কিন্তু ফেরার সময় ছোট্ট শি’শুটি মা-বাবার সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরে। এক পর্যায়ে সে মা-বাবার পিছু পিছু মাদরাসার মূল ফট’কের বাইরে চলে আসে। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মাদরাসার হুজুর ইয়াহিয়া। মা-বাবার সঙ্গে মূল ফট’কের বাইরে কেন গিয়েছে শুধু এই কারণেই শি’শুটিকে বেত দিয়ে বেধড়ক পে’টান তিনি। শিক্ষার্থীদের কেউ একজন ওই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করলে, এই নি’র্মম নি’র্যা’তনে প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেন নেটিজেনরা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  • 20
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    20
    Shares

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: