সর্বশেষ আপডেট : ৬ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কুষ্টিয়ায় পীরকে পিটিয়ে হত্যা: পুরনো ভিডিও ছড়িয়ে সৃষ্টি করা হয় উত্তেজনা

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিজের আস্তানায় পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার আগে একটি পুরনো ভিডিও ছড়িয়ে এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন রোববার বলেন, “পুরনো একটি ভিডিও নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার সময় সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়ে আক্রান্ত শামীমকে উদ্ধার করার চেষ্টাও করেন।

“কিন্তু সেখানে হামলাকারীদের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিজ ঘরে তাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের শনাক্তের কাজ করছে পুলিশ।”

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শনিবার দুপুরে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরে ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত আস্তানায় শত শত লোক হামলা ও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পিটিয়ে ও কুপিয়ে শামীম রেজাকে হত্যা করা হয়। হামলায় আরও তিন ভক্ত মহন আলী, জামিরুন ও জুবায়ের গুরুতর আহত হন। তারা চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রোববার জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিন দুপুর আড়াইটায় মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাদ আছর আস্তানা সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে শামীম রেজাকে দাফন করা হবে বলে জানান নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান।

তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও মামলা হয়নি, পুলিশ কাউকে আটকও করেনি।

দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান সাংবাদিকদের বলেন, “বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।”

স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ বাচ্চু বলেন, “কে পীর, কে বাউল, কে ফকির- কে কোথায় কিভাবে ধর্ম অবমাননা করল সেটা দেখার জন্য রাষ্ট্রের প্রশাসন আছে, আইন আছে, বিচার আছে।

“কারো কোনো আপত্তি থাকলে বা সংক্ষুব্ধ হলে তার জন্য বিচার বিভাগ আছে। তাই বলে এভাবে তাণ্ডব চালিয়ে মানুষ হত্যার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছি, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাক না কেন, তাদের শনাক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে।”

স্থানীয়রা জানান, শামীম রেজা ২০১৮ সালের দিকে পৈতৃক ভিটায় এই আস্তানা গড়ে তোলেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি কিছুদিন চাকরিও করেন। পরে চাকরি ছেড়ে দিয়ে এই দরবার শরিফ গড়ে তুলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: