সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রমিক ছাঁটাই ইস্যূতে সচিবের হুঁশিয়ারি

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

শ্রম সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেছেন, শ্রমিক ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে নতুন করে অস্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা সৃষ্টির চক্রান্ত চলছে বলে সরকারের কাছে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য রয়েছে । এমন কিছু ঘটলে সরকার সে বিষয়ে কঠোর হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, “এই ধরনের চেষ্টা হলে আইনের কঠোর প্রয়োগ ঘটানো হবে। যারা পোশাক খাত নিয়ে চক্রান্ত করবে তারা দেশের প্রকৃত শত্রু।”

মঙ্গলবার তৈরি পোশাক বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (আরএমজি-টিসিসি) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এমন হুঁশিয়ারি দেন শ্রম সচিব।

বৈঠক শেষে গাজীপুরের পোশাক কারখানা টিএনজেডের চারটি কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। এক্ষেত্রেও বেক্সিমকো গ্রুপের ‘মডেল’ প্রয়োগ করার কথা তুলে ধরেন তিনি।

শ্রমিক ছাঁটাই ও অসন্তোষের বিষয়ে তিনি বলেন, “গোয়েন্দা সংস্থা রিপোর্ট দিচ্ছে- ঈদের পর শ্রমিকরা যখন কাজে ঢুকবে তখন বড় ধরনের ছাঁটাই করা হবে, আরেকটা উত্তেজনা তৈরি করা হবে। এই কারণে আজকে মিটিং করেছি। ছাঁটাই করতে হলে আইন অনুযায়ী করতে হবে।

”শিল্প পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, আর্মি এবং কলকারখানা পরিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয়কে অবহিতকরণ ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে যদি ছাঁটাই করা হয় তাহলে মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাব। ধরে নেব তিনি এই ছাঁটাই করে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি করে আরেকবার পানি ঘোলার চেষ্টা করছেন।”

পাশাপাশি ছাঁটাই নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে সরকারের দপ্তরগুলোতে তা জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে কেউ রাস্তা দখল করে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করলেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিক্ষোভের অধিকার আছে, রাস্তা ব্লক করার অধিকার নেই। কেউ যদি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “যেসব শ্রমিক নেতা উস্কানি দিচ্ছে তাদেরকে খুঁজে বের করেছি এবং তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সচিব বলেন, সোমবার (৭ এপ্রিল) টিএনজেডের শ্রমিকরা কারখানার কাছে সমাবেশ করেছে। সমস্যার সমাধানের জন্য যখন আলোচনা চলছে, তখন আরেক গ্রুপ শ্রমিক বিআরটিসি ডাবল ডেকার বাসে চড়ে এসে শ্রম ভবনের সামনে বসে আছে। এগুলো কেন হবে?

“একটি পক্ষ আছে যারা চাচ্ছে না যে আমাদের কারখানাগুলো চলুক। তারা পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের দিয়ে নানা রকম সমস্যা তৈরি করছে। তারা সত্যিকার অর্থে এই দেশের শত্রু। আরএমজিটা ড্যামেজ করা গেলে এই দেশের ক্ষতি করা যাবে। ৪০ লাখ শ্রমিক যদি ভালো থাকে বাংলাদেশ ভালো থাকবে।”

দুই দফায় গাজীপুরের পোশাক কারখানা ‘টিএনজেড অ্যাপারেলসকে’ টাকা দিয়েছে সরকার। কিন্তু কোম্পানিটির চারটি কারখানার শ্রমিকদের বেতন বকেয়া থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

সচিব বলেন, “এই কোম্পানি আর চালানো যাচ্ছে না। সিদ্ধান্ত হয়েছে টিএনজেডের চারটি কারখানাই বন্ধ করে দেওয়া হবে। এসব কারখানার শ্রমিক সংখ্যা ৩২০০ জন।”

টিএনজেডের ক্ষেত্রে বেক্সিমকো মডেল প্রয়োগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে ৪০ হাজার শ্রমিকের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। বেক্সিমকো গ্রুপের শ্রমিকদের বকেয়া যেভাবে মালিক পরিশোধ করেছে, টিএনজেডের বকেয়াও মালিক পরিশোধ করবে। তাকে দেশে ফিরতে সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে।

সচিব, টিএনজেডের সমস্যার সমাধানে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করার কথা বলেন। শ্রমিকদের পাওনা কত আছে ও সম্পদ বিক্রি করলে কীভাবে সমাধান হবে সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তারা দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: