সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সরকারি ডিপো থেকে জ্বালানি তেল বিপণনের নতুন সময়সূচি ঘোষণা

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সরবরাহ ঠিক রাখতে প্রধান স্থাপনা ও ডিপো থেকে জ্বালানি পণ্য ছাড় করার নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। শনিবার (২৮ মার্চ) বিপিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংস্থার অধীন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা ও ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম সকাল ৭টায় শুরু হবে এবং বেলা ৩টায় শেষ হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসির নির্দেশনায় বিপণন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ চালু রয়েছে। এই সরবরাহ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করতে ডিপো থেকে জ্বালানি পণ্য ছাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশব্যাপী ফিলিং স্টেশন, প্যাকড পয়েন্ট ডিলার ও পাম্পে সঠিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

এর পাশাপাশি ফিলিং স্টেশন, ‘প্যাকড পয়েন্ট’ ডিলার ও পাম্পগুলোকে দৃশ্যমান স্থানে ‘ব্ল্যাক বা হোয়াইট বোর্ডে’ জ্বালানি পণ্য গ্রহণের তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিপিসি বলেছে, সেখানে অন্তত চার ধরনের তথ্য দেখাতে হবে। সেগুলো হল, জ্বালানি পণ্যের নাম, গেল বছরের মার্চ মাসে প্রাপ্তির দৈনিক গড়, চলতি মার্চ মাসে প্রাপ্তির দৈনিক গড় এবং অদ্য প্রাপ্তির পরিমাণ।

অর্থাৎ, প্রতিটি স্টেশন বা পাম্পে বর্তমান সরবরাহকে আগের বছরের একই সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখানোর পাশাপাশি প্রতিদিন কত জ্বালানি পাওয়া গেছে, সেই তথ্যও প্রকাশ করতে হবে।

বিপিসি বলেছে, ২৮ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে তাদের অধীন বিপণন কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার মধ্যে দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে চাপ বাড়ার পর সরকার একের পর এক তদারকি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে জেলায় জেলায় ‘ভিজিলেন্স টিম’ গঠন, তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ, সব পেট্রোল পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানোর তথ্য জানানো হয়।

সরকারি হিসাবে, জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে একদিনে ৬২ জেলায় ২৯৩টি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

এসব অভিযানে ৭৮টি মামলা দায়েরের পাশাপাশি ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা আদায়ের কথাও জানানো হয়। মাঠপর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে প্রশাসনের পদক্ষেপের উদাহরণও মিলছে।

জামালপুর সদর উপজেলার পিটিআই মোড়ে মেসার্স জুঁই এন্টারপ্রাইজ নামে একটি পাম্পে পেট্রোল নেই বলা হলেও পরে সেখানে ১২টি ড্রামে প্রায় ২ হাজার ৮০০ লিটার পেট্রোল মজুদের তথ্য পায় প্রশাসন।

শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বি এম এস আর আলিফ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল মাহমুদ পাম্প পরিদর্শন করে এই মজুদের তথ্য পান।

মজুদ থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে পাম্পটির ব্যবস্থাপককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তার আগে শুক্রবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় ‘তেল নেই’ লিখে বিক্রি বন্ধ রাখায় একটি ফিলিং স্টেশনে প্রায় ১০ হাজার লিটার জ্বালানির মজুদ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় পাম্প মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ প্রেক্ষাপটে ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া এবং পাম্পগুলোতে প্রাপ্তির তুলনামূলক তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এনে সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা ও নজরদারি বাড়াতে চাইছে বিপিসি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: