সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভারতে বুনো হাতির তাণ্ডব, ৯ দিনে নিহত ২০ জন

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে একটি বুনো হাতির হামলায় গত ৯ দিনে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। তবে এখনো হাতিটিকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

কর্মকর্তারা জানান, ১ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে পশ্চিম সিংভূম জেলার চাইবাসা ও কোলহান বনাঞ্চলে এসব ঘটনা ঘটে। এলাকাটি এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শালবনের অংশ। দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে মানুষ ও হাতির সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। বনভূমি কমে যাওয়া, আবাসস্থল খণ্ডিত হওয়া এবং হাতির চলাচলপথের আশপাশে মানুষের বসতি বাড়াকেই এর মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাতিটিকে খুঁজে বের করতে ও ধরতে ১০০ জনের বেশি বনকর্মী নিয়ে বড় ধরনের অভিযান চলছে। ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার কুলদীপ মীনা বলেন, ‘এটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই অঞ্চলে প্রথমবারের মতো একটি পুরুষ হাতির সঙ্গে এমন ধারাবাহিক মৃত্যুর ঘটনা যুক্ত হলো।’ তিনি জানান, নতুন প্রাণহানি ঠেকাতে পুরো এলাকাকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চন্দন কুমার জানান, নিহতদের মধ্যে একজন বনকর্মীও রয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।

বেশিরভাগ ঘটনা ঘটেছে রাতে। ধানক্ষেত ও গোলাঘরে রাখা ফসল পাহারা দেওয়ার সময় অনেকেই হাতির আক্রমণের শিকার হন, যা গ্রামীণ ভারতে একটি সাধারণ চর্চা।

বোদিজারি গ্রামে ৩৪ বছর বয়সী মঙ্গল সিং হেমব্রম কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হাতির আক্রমণে নিহত হন। বিরসিংহ হাটু গ্রামে ৬২ বছর বয়সী উর্দুব বাহোদা মাঠ পাহারা দেওয়ার সময় প্রাণ হারান। একই রাতে পাশের গ্রামে নিজের বাড়ির বাইরে ঘুমানোর সময় ৪২ বছর বয়সী বিষ্ণু সুন্ডিকে পিষে মারে হাতিটি।

৫ জানুয়ারি আরেক ঘটনায় কুন্দ্রা বাহোদা ও তার দুই সন্তান, ছয় বছরের কোডামা ও আট বছরের সামু নিহত হয়। কুন্দ্রার স্ত্রী পুন্ডি জানান, তিনি আহত দুই বছরের মেয়েকে নিয়ে পালাতে পারলেও পরে জানতে পারেন স্বামী ও দুই সন্তান মারা গেছে।

বন কর্মকর্তারা জানান, হাতিটি তুলনামূলক তরুণ, দ্রুত চলাচল করে এবং ঘন ঘন অবস্থান বদলায়, বিশেষ করে রাতে। এতে তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের সতর্ক করতে ঢোল বাজিয়ে সংকেত দেওয়া হচ্ছে এবং রাতে বাইরে না যেতে ও ঘরের বাইরে না ঘুমাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কুলদীপ মীনা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হাতিটি বর্তমানে প্রজনন পর্যায়ে রয়েছে। এ সময় পুরুষ হাতির শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন বেড়ে যাওয়ায় তারা বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে এই আচরণ কমে আসে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, হাতিটি সম্ভবত দলছুট হয়ে পড়েছে। তাই তাকে খুঁজে বের করে নিরাপদে বনে ফিরিয়ে অন্য হাতিদের সঙ্গে যুক্ত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: