![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
কক্সবাজার টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক মোহাম্মদ হানিফের (২২) পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে নাফ নদীর বেড়িবাঁধ এলাকার শাহজানের দ্বীয়া নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
তিনি হোয়াইক্যং লম্বা বিল মাঝের পাড়া এলাকার ফজল করিমের ছেলে।
ঘটনার পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক স্থানীয় এনজিও সংস্থার হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার ছোট ভাই মো. আমিন।
তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করছিলেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতা ও গণ্যমান্য মানুষ এসে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
স্থানীয়রা জানান, সকালে হানিফ তার মৎস্য ঘের দেখতে যায়। এমন সময় হঠাৎ মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পুতে রাখা মাইনে পা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তার বাম পা শরীরের মূল দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ডান পায়েও আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মাঠিতে পড়ে যায়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা জুনায়েদ আলী চৌধুরী জানান, আমাদের হোয়াইক্যং এলাকার অধিকাংশ মানুষের পেশা সীমান্তের মৎস্য ঘের, লবণের মাঠ। আর এলাকার বেশিরভাগই ব্যবসা সীমান্ত কেন্দ্রীক। মৎস্য ও লবণ মাঠ করতে যাওয়া মানুষ যদি প্রতিনিয়ত এভাবে মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর গুলি, মাইন ও অপহরণের শিকার হয় তাহলে তারা সংসারের আয়-রোজগার কেমন করে করবে। আমি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি সীমান্তের মিয়ানমার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পুতেরাখা মাইনগুলো শনাক্ত করে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য। অন্যথায় আমাদের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার জন্য আমরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন রুদ্র জানান, আমরা ঘটনার বিষয়ে শুনেছি এবং আমাদের পুলিশের টিম পাঠাচ্ছি।
এর আগে গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যংয়ে মিয়ানমারের ওপার থেকে আসা গুলিতে হুজাইফা আফনান নামে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত আফনান বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়াও একই দিন পালিয়ে আসা ৫৩ জন বিদ্রোহীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।