![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর দমন-পীড়নের জেরে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিষয়ে সিরিয়াসলি ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে ইরানে কীভাবে হামলা চালানো যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প তার সামনে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা।
সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে সম্ভাব্য হামলার কৌশল ও লক্ষ্যবস্তু নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে বিস্তারিত ব্রিফ করেছেন। যদিও এখনো হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। তবে হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নিউইয়র্ক টাইমসকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানে কোথায় এবং কীভাবে হামলা চালানো যেতে পারে—এ বিষয়ে একাধিক পরিকল্পনা ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব পরিকল্পনার মধ্যে বেসামরিক স্থাপনার ওপর হামলার বিকল্পও রয়েছে বলে জানান তিনি।
এর আগে আরেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, ট্রাম্প যদি নির্দেশ দেন, তাহলে ইরানের সেনাবাহিনীর অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে বিমান হামলা চালানো হতে পারে। এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী। গত বৃহস্পতিবার রাতে সবচেয়ে তীব্র আন্দোলন হওয়ার পর শুক্রবার রাতেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। শনিবারও বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
গতকাল শুক্রবার রাতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচার গুলির ঘটনাও ঘটেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনটি হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, নিহত ও আহত মানুষের চাপে তাদের হাসপাতালগুলো উপচে পড়েছে।
তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক বিবিসিকে বলেন, তরুণ বিক্ষোভকারীদের মাথা লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেকের হৃদপিণ্ডেও গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
একটি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, এত বেশি আহত মানুষ হাসপাতালে আসছিল যে তারা ‘ক্রাইসিস মুডে’ চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। হতাহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৪ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।