সর্বশেষ আপডেট : ২৫ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

‘বড়লেখা’ নামের ইংরেজি বানান নিয়ে বিভ্রান্তি : যে যার মতো লিখছে

আব্দুর রব, বড়লেখা :

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ‘বড়লেখা’ ইংরেজি বানান নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে সরকারি দপ্তরগুলো বড়লেখার ইংরেজি বানান সঠিকভাবে লিখলেও বেসরকারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছেমতো বড়লেখার ইংরেজি বানান লিখছে। এতে মানুষের মাঝে সঠিক বানান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একটি বৃহৎ উপজেলার ঐতিহাসিক নামের ইংরেজি বানান ভুলভাবে উপস্থাপন করেও তা সংশোধনের ব্যাপারে তাদের নেই কোন মাথাব্যথা। এতে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

প্রায় ৪ মাস আগে মো. খায়রুল ইসলাম নামের এক প্রবাসী বড়লেখার ইংরেজি বানান একেক ব্যাংকের শাখায় একেক রকম লেখায় তা সংশোধনের জন্য লিখতে আবেদন জানিয়েছেন। মো. খায়রুল ইসলাম উপজেলার টেকাহালী গ্রামের বাসিন্দা। কিন্ত ভুল বানান ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আজও তা সংশোধন করেনি।

জানা গেছে, উইকিপিডিয়া, বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, বড়লেখা থানা প্রশাসন, বড়লেখা উপজেলা নির্বাচন অফিস, পৌরসভা কার্যালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজপত্রে বড়লেখার ইংরেজি বানান Barlekha ব্যবহার হচ্ছে যা সঠিক। তবে বেসরকারি ব্যাংকের বড়লেখার কয়েকটি শাখা, সরকারি ব্যাংকের একটি শাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কোনটিতে Barlekha এর ইংরেজি বানান Baralekha, কোনটিতে Borlakha ও Barolekha ব্যবহার হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইউসিবিএল ব্যাংকের বড়লেখা শাখায় Barolekha, এনসিসি ব্যাংকে Baralekha, ইসলামী ব্যাংকে শাখায় Barolekha, ডাচবাংলা ব্যাংকে Borolekha, পূবালী ব্যাংকে Baralekha, উত্তরা ব্যাংকে Baralekha এবং কৃষি ব্যাংকে Borlakha লেখা হচ্ছে। এ নিয়ে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

প্রবাসী মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন থেকে দেখছি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড়লেখার সঠিক ইংরেজি বানান ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকের শাখাগুলোতে ভুলভাবে বড়লেখার ইংরেজি বানান লেখা হচ্ছে। যে যার মতো করে লিখছে। আমি বেশ কয়েকটি ব্যাংকের শাখায় বানান সংশোধনের জন্য লিখিত আবেদন করেছি। এটা আমাদের প্রাণের দাবি। কিন্তু কোনো শাখাই সংশোধনের উদ্যোগ নেয়নি। একটি উপজেলার নামের বানান বিকৃত করে উপস্থাপন ওই উপজেলার প্রত্যেক মানুষের অন্তরে চরম আঘাত করার মত ঘটনা। এসব ব্যাংকের ব্যবসাই যেন মুল লক্ষ, তাদের ইচ্ছাকৃত ভুল বানান সংশোধনের ব্যাপারে যেন কোন দায় নেই। এ ব্যাপারে তিনি সরকারি হস্তক্ষেপ দাবী করেন।

এই ব্যাপারে ইউসিবিএল ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আবুল ফাত্তাহ চৌধুরী বলেন, ‘প্রবাসীর লিখিত আবেদনটি পেয়ে তা প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশ ছাড়া আমাদের সংশোধন করার সুযোগ নেই।’ একই রকম বক্তব্য দিয়েছেন এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক অজয় কুমার দত্ত, ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ নুরুজ্জামান।

পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বড়লেখার সঠিক ইংরেজি বানান লিখছি। তবে ব্যাংকসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যুগ যুগ ধরে বড়লেখার ইংরেজি বানান ভুলভাবে লেখা হচ্ছে। এটা আমাদেরও দৃষ্টিগোচর হয়েছে। একটা উপজেলার ইংরেজি বানান ভুলভাবে ও ইচ্ছেমত লেখাটা খুবই অন্যায় কাজ।’

ইউএনও সুনজিত কুমার চন্দ সোমবার সন্ধ্যায় জানান, ‘বিষয়টি তারও নজরে এসেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে অফিসিয়ালি বলে দেওয়া হবে। বড়লেখার সঠিক ইংরেজি নাম যাতে তারা ব্যবহার করেন।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: