সর্বশেষ আপডেট : ৪৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

নতুন জঙ্গি সংগঠনের অর্থায়নে সিলেটের ৩ প্রবাসী!

বান্দরবনে আস্তানা গড়েছে জ’ঙ্গিরা। নব্য জেএমবির পাশাপাশি নতুন সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামে আড়ালে সংগঠিত হতে চাচ্ছে তারা। গত দুই মাসের ব্যবধানে হঠাৎই বিপদগামী যুবকদের বাসা থেকে বের করে আনা হয়েছে। আর এদের অর্থ জোগানদাতা হিসেবে উঠে এসেছে সিলেটের তিন প্রবাসীর নাম।

নতুন জ’ঙ্গি সংগঠনটি পাহাড়ি অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পাশাপাশি তাদের সবধরনের সহায়তা দিচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ (কেএনএফ)। এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়া হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে। ঘরছাড়া যুবকদের নিয়ে রেব ও পু’লিশ আলাদাভাবে অনুসন্ধান করেছে। ইতিমধ্যে রেব বেশ কয়েকজনকে গ্রে’প্তার করেছে। আরও ৫২ জনের হদিসও মিলেছে। তারা পুরোপুরি জ’ঙ্গি সংগঠনে প্রবেশ করেছে। তারা বান্দরবানের রোমা ও রোয়াংছড়িতে প্রশিক্ষণের আস্তানা গেড়েছে। এমন তথ্য নিশ্চিত হয়েই এক সপ্তাহ ধরে চার কিলোমিটার জুুড়ে কর্ডন করে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অন্তত সহস্রাধিক সদস্য অ’ভিযানে গেছেন বলে জানা গেছে। স্পিড বোটের পাশাপাশি হেলিকপ্টারেও টহল দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন রেবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, বান্দরবানে ৫০-এর বেশি জ’ঙ্গি অবস্থান করার বিষয়ে আম’রা নিশ্চিত হয়েছি। ইতিমধ্যে অ’ভিযান চালানোর সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেএনএফের পাশাপাশি স্থানীয় স’ন্ত্রাসীরা ওই জ’ঙ্গিদের আশ্রয়প্রশয় দিচ্ছে বলে আম’রা নিশ্চিত হয়েছি। তিনি আরও বলেন, দেশের কয়েকটি জে’লা থেকে নিরুদ্দেশ হওয়া তরুণদের খোঁজ করতে গিয়ে সম্প্রতি আম’রা জানতে পারি, তারা জ’ঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে গৃহ’ত্যাগ করেছে। যারা অধিকাংশই নতুন একটি জ’ঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’য় যু’ক্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে সংগঠনটির ১২ জনকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদঘাটন হয়েছে চ’মকপ্রদ তথ্য।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, পু’লিশের একটি বিশেষ সংস্থা নিশ্চিত হয়েছে একটি প্রভাবশালী দেশ থেকে জ’ঙ্গিদের অর্থায়ন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন সিলেট প্রবাসী আছেন। তারা ওই দেশে ব্যবসা করছেন। তাদের পুরো পরিচয় উদঘাটন করা হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে তারা কয়েকবার দেশে এসেছিলেন। পাহাড়ে অবস্থানরত তালিকাভুক্ত জ’ঙ্গিদের পরিবারের সদস্যদের তাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ওই সংস্থাটি। এমনকি কয়েক সদস্যকে নজরদারির মধ্যেও রাখা হয়েছে। অ’ভিযোগ রয়েছে- জামিনপ্রাপ্ত জ’ঙ্গিদের অনেকেই আবার উগ্রবাদী কর্মকা’ণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ আত্মগো’পনে চলে গেছে। জামিন নিয়ে আবারও জ’ঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার অ’ভিযোগে গ্রে’প্তারও করা হয়েছে একাধিক সদস্যকে।

এ প্রসঙ্গে পু’লিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মক’র্তা বলেন, জামিনে থাকা জ’ঙ্গিরা নিয়মিত আ’দালতে হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। এই জন্য তাদের ধরতে পু’লিশের সবকটি ইউনিট, রেঞ্জ ডিআইজি ও জে’লার পু’লিশ সুপারদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জামিনপ্রাপ্ত ছাড়াও বাইরে থাকা অন্য জ’ঙ্গিদেরও ধরতে বলা হয়েছে। আম’রা চেষ্টা করছি দেশ থেকে জ’ঙ্গি নির্মূল করতে। কিন্তু এখনো জ’ঙ্গিরা গো’পনে মা’থাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, পাহাড়ে অনেক জ’ঙ্গি অবস্থান করছে। আমাদের একটি সংস্থা তাদের অবস্থান চিহ্নিত করেছে। আমাদের সবধরনের সহায়তা করছে সে’নাবাহিনী। ইতিমধ্যে সে’নাবাহিনী, রেব ও পু’লিশ বান্দরবানের কয়েকটি এলাকা কর্ডন করে রেখেছে। অ’ভিযানে গেছে অন্তত সহস্রাধিক সদস্য। স্পিড বোট, নৌকা ও হেলিপ্টার দিয়ে টহল দেওয়া হচ্ছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে জ’ঙ্গিদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, পাহাড়ে অবস্থান করা ৫২ জ’ঙ্গির পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল তৈরি করেছে রেব। তাদের মধ্যে কুমিল্লার মো. দিদার, আহাদ, সাখাওয়াত হোসাইন, আমিনুল ইস’লাম ওরফে আল-আমিন, মো. আস সামি রহমান, বায়েজিদ, ইম’রান বিন রহমান শিথিল, আল-আমিন, ইম’রান, যুবায়ের, নিহাদ আবদুল্লাহ, নাহিদ, সালেহ আহমাদ, জহিরুল ইস’লাম; সিলেটের তাহিয়াত চৌধুরী, শেখ আহম’দ মামুন, সাদিক, হাসান সাঈদ, সাইফুল ইস’লাম তুহিন, শি’ব্বির আহম’দ; বরিশালের আরিফুর রহমান, রাব্বী আবদুস সালাম (নীরব), মাহমুদ ডাকুয়া, পটুয়াখালীর জুয়েল মু’সল্লি, আল-আমিন ফকির, মো. মিরাজ সিকদার ও ওবায়দুল্লাহ সাকিব; মশিউর রহমান ওরফে মিলন তালুকদার ও হাবিবুর রহমান, মাদারীপুরের ইয়াছিন ব্যাপারী ও আবুল বাশার মৃধা, চাঁদপুরের মো. নঈম হোসেন, ময়মনসিংহের শামীম মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. নাজমুল আলম নাহিদ, খুলনার আল-আমিন, ফরিদপুরের মুহাম্ম’দ আবু জাফর, ঝিনাইদহের আমির হোসেন এবং মাগুরার আবু হুরায়রা অন্যতম। তাদের মধ্যে কয়েকজন ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। আবার কয়েকজন মাদ্রাসায় পড়ছেন।

রেবের এক কর্মক’র্তা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে যেখানে অনেক আগে থেকেই চারটি আঞ্চলিক সংগঠন পাহাড়ি জনপদকে নানাভাবে অশান্ত রাখায় ব্যস্ত, সেখানে নতুন করে কেএনএফের অ’পতৎপরতা আছে। কেএনএফের কর্মকা’ণ্ডের ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যচিত্র পেয়েছে পু’লিশের একটি সংস্থা। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা হয়েছে ২০০৮ সালে। তারা বিভিন্ন সময়ে জ’ঙ্গি সংগ্রহ করেছিল। হাবিবুল্লাহ নামে এক জ’ঙ্গি জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামে সংগঠনটির সঙ্গে যু’ক্ত হন। তিনি সংগঠনটির অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি পার্বত্য অঞ্চলের নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রায় দুই বছর ধরে একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন। ইতিমধ্যে তাকে ধ’রা হয়েছে। মূলত তার তথ্যের ভিত্তিতেই পাহাড়ে থাকা জ’ঙ্গিদের বিষয়ে আম’রা নিশ্চিত হই।

কর্মক’র্তা আরও বলেন, ১৯৯২ সালে আ’ফগা’ন ফেরত তিন যোদ্ধা মুফতি আবদুর রউফ, মা’ওলানা আবদুস সালাম আর মুফতি আবদুল হান্নান প্রতিষ্ঠা করেন হরকাতুল জিহাদ হুজি। ১৯৯৯ সালে হুজি কবি শামসুর রাহমানকে হ’ত্যার চেষ্টা চালায়। যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বো’মা হা’মলা চালিয়ে দশজনকে হ’ত্যা করে। হা’মলা করা হয় রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে। সংগঠনটির সদস্যরা বেপরোয়া আকার ধারণ করেছিল। পাশাপাশি জেএমবি, জেএমজেবির তৎপরতা ছিল আরও বেপরোয়া। ২০০৭ সালের ৩০ মা’র্চ আবদুর রহমান এবং বাংলাভাইসহ জেএমবির ৬ নেতাকে ফাঁ’সি দেওয়া হলেও তাদের তৎপরতা থেমে থাকেনি। নব্য জেএমবির পাশাপাশি আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) ও হিযবুত তাহরীর সদস্যরা এখনো সক্রিয় আছে। সূত্র: দেশরূপান্তর

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: