সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

বড়লেখার রোকসানা একজন সফল নারী উদ্যোক্তা

আব্দুর রব, বড়লেখা :

বড়লেখার দরিদ্র পরিবারের শিক্ষিত ও উদ্যমী তরুণী রোকসানা বেগম পারিবারিক ও সামাজিক নানা বাধা অতিক্রম করে এখন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ প্রদান করে মাসে আয় করছেন ৪০-৫০ হাজার টাকা। জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি চিকিৎসা করাতে পারছেন অসুস্থ স্বামীর আর লেখাপড়ার খরচ যোগাতে পারছেন ছেলেমেয়ের।

সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য গত বছর তিনি নির্বাচিত হন জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা। মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করে অসচ্ছল পরিবারের কিশোরী, তরুণী ও বিধবা নারীদের নানা প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার কাজে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসন তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। বিশেষ করে উপজেলা সমবায় ও মহিলা বিষয়ক অফিস।
রোকসানা বেগম উপজেলার রফিনগর গ্রামের মৃত নুর হোসেন ও রাবেয়া বেগমের চতুর্থ সন্তান। বিয়ে হয়েছে মুড়িলগুল গ্রামের সাবেক বীমা কর্মকর্তা বর্তমানে প্যারালাইসড রোগি মীর মুজিবুর রহমানের সাথে। সংসার জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী।

উপজেলা থেকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হয়ে ওঠার গল্প শুনাতে গিয়ে নারী উদ্যোক্তা রোকসানা বেগম বলেন, প্রতিনিয়ত লড়াইয়ের সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা মনে হলে এখনও তার গা শিউরে উঠে। ছোটবেলায় বাবা মারা যান। লেখাপড়া করতে প্রথম বাধার সম্মুখিন হন পরিবারেই। চাচারা বলতেন মেয়েদের এত লেখাপড়া ভাল নয়। হাইস্কুলে ও কলেজে পড়া মেয়েরা খারাপ হয়। পারিবারিক বাধা উপেক্ষা করে পড়াশুনা চালিয়ে যান। অভাবের কারণে প্রাইভেট পড়ার কোন সুযোগ হয়নি। নানা প্রতিকুলতার মধ্যে পড়ার খরচ যুগিয়ে এসএসসি, এইচএসসি ও ডিগ্রী পাশ করেন। ২০০০ সালে সামান্য বেতনে একটি স্থানীয় সাপ্তাহিক পত্রিকায় চাকুরী নেন। প্রথম চাকুরীতেও চরম বিপত্তি। পায়ে হেঁটে অফিসে আসা-যাওয়ার সময় বখাটেরা উত্ত্যক্ত করতো। পাত্তা না দেওয়ায় বখাটেরা একদিন অফিসে ঢুকে সন্ত্রাসী নির্যাতন চালায়। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওই অফিসে আর ফিরেননি। ২০০১ সালে বীমা কর্মকর্তা মীর মুজিবুর রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

রোকসানা বলেন, স্বামীর সীমিত আয়ে সংসার চলছিল না। তিনি নিজের প্রচেষ্টায় স্বাবলম্বী হতে আমাকে কারিগরি শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন। স্বামীর সহযোগিতায় ২০১১-১৩ সালে পলিটিকেল ফেলোশীপ গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করি। সেই ধারাবাহিকতায় বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং বিজনেস, ব্লক, বাটিক, এম্বুস, বেতের ব্যাগ, পুতি ও ক্রিষ্টাল পাথরের নানা মুখি পণ্য উৎপাদন/তৈরীর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। গ্রামে কাজ করতে গিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সুবিধা বঞ্চিত নারীদের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাই, কিছু করার স্বপ্ন দেখি। তাই লক্ষে পৌঁছতে সমাজের অবহেলিত নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষে কারিগরি শিক্ষায় ফ্রি প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ শুরু করি। বাংলাদেশ সমবায় একাডেমি কুমিল্লা থেকে সমিতি ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। দুঃস্থ, অবহেলিত, প্রান্তিক সুবিধা বঞ্চিত নারীদের নিয়ে সংগঠক হিসেবে শুরু করি সমবায় সমিতি গঠনের কাজ। নিজের উপর্জনের অর্থ ব্যয় করে গঠন করেন বড়লেখা মহিলা কল্যাণ সমবায় সমিতি লি:। যা মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে একমাত্র মহিলা সমিতি। তার গঠিত সমবায় সমিতির সদস্যরা নানা পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করে নিজেদের স্বাবলম্বী করছে। নিজের গড়া বিভিন্ন সমিতি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে অর্থ উপার্জন করছেন। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি উপজেলা প্রাঙ্গণে খুলেছেন ‘জয়িতা কর্ণার’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

জেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতার লক্ষ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প ও মিনি গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠা করার। যাতে সুবিধা বঞ্চিত নারীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় এবং তারা হয়ে উঠে উপার্জনমুখি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: