সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

বিলুপ্তির পথে হারিকেন

মো. রবিউল ইসলাম, টঙ্গী (গাজীপুর) :

নব্বইয়ের দশক ও তার পরবর্তী সময়ে সন্ধ্যাকালীন সময়ে একমাত্র আলোর উৎস হিসেবে হারিকেন ব্যবহার ছিল ঘরে ঘরে। সেই সময় গ্রামীণ জীবনে অন্ধকার দূর করার একমাত্র অবলম্বন ছিল হারিকেন। এটি জ্বালিয়েই বাড়ি উঠানে কিংবা বারান্দায় পড়াশোনা করতো শিক্ষার্থীরা।

হারিকেনের জ্বালানি আনার জন্য প্রতি বাড়িতেই ছিলো রশিতে ঝুলানো এক ধরনের বিশেষ কাঁচের বোতল। হাটবার সেই বোতল নিয়ে রওনা হতো গৃহকর্তা। প্রাচীন বাংলার এই দৃশ্য এখন শুধুই স্মৃতি। কালের বির্বতনে কুপি বাতি ও হারিকেন এখন যেনো রূপকথার গল্প।

ক্রমেই বিলীন হয়ে যাওয়া আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় এই নির্দশনটি এক দশক আগেও রাতের আঁধারে রাস্তা পারাপার থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজে অপরিহার্য্য ছিলো। তখন গ্রামে-গঞ্জে হারিকেন মেরামত করা মিস্ত্রীদের হাক শোনা যেতো। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হারিকেন মেরামত করতেন।

বিদ্যুতায়নের এই যুগে এখন আর এমন দৃশ্য দেখা যায় না বললেই চলে। যার দরুণ গ্রাম বাংলার প্রতি গৃহের অতি প্রয়েজনীয় হারিকেন আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

এক দশক আগেও মাটি, লোহা, কাঁচের বোতল আবার পিতলের তৈরি কুপি ছিলো। নিজ নিজ সামর্থ অনুযায়ী লোকজন কুপি ও হারিকেন কিনে সেগুলো ব্যবহার করতেন। গ্রামবাংলার আপামর লোকের কাছে কুপি ও হারিকেনের কদর হারিয়ে গেলেও এখনও অনেকে আঁকড়ে ধরে আছেন কুপি ও হারিকেনের স্মৃতি।

প্রযুক্তির আধুনিকতা আর উন্নত জীবন-যাপন প্রণালীর কারণে দিনদিনই মানুষের মাঝে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক সময় কুপি বাতি ও হারিকেন দেখতে যেতে হবে যাদুঘরে বলে ধারণা করছেন অনেকে। তবে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনটি টিকিয়ে রাখার দাবি জানাচ্ছেন অনেকে। নয়ত এক সময় চিরতরে বিলুপ্ত হবে এই সন্ধ্যা বাতি হারিকেন।

গাজীপুর ভাওয়াল বদরে আলম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অসিম বিভাকর বলেন, শৈশব কাটিয়েছি এই হারিকেন আর কুপি বাতির আলোর নিচে। তবে আধুনিক সভ্যতায় টচ লাইট আর এলইডি লাইটের কাছে বিলীন হয়ে গেছে হারিকেন কুপিবাতি। বর্তমান প্রজন্ম ভুলেই গেছে হারিকেন বা কুপিবাতি নামে বাঙালি জীবনে কোন বস্তুর অস্তিত্ব ছিল। কুপি বাতি, হারিকেনসহ এই ছোট ছোট জিনিসগুলো বাঙালির ঐতিহ্য ও নিদর্শন বহন করে। এগুলোকে যদি এখনই সংরক্ষণ না করা হয় তাহলে কালের পরিক্রমায় ঐতিহ্যবাহী এসব জিনিসগুলো আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: