সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

রোড মার্চ ও লং মার্চ কর্মসূচিতে যাবে বিএনপি

বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে হঠাতে এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে রাজপথে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প পথ দেখছে না বিএনপি। এজন্য দলটি আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করছে। দলটি বলছে, সরকারবিরোধী আন্দোলন সফল করতে হলে কর্মসূচিগুলোতে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। কিন্তু বিএনপির ডাকে জনগণ রাজপথে নামবে না। তাই বিএনপিকেই জনগণের কাছে যেতে হবে।

এজন্য জনসম্পৃক্তমূলক ইস্যুতে কর্মসূচি ঘোষণা করে রাজপথে নামতে চায় বিএনপি। দলটি চাল, ডাল, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধি প্রতিবাদ এবং সরকার পতনে খুব শিগগির রোড মার্চ-লং মার্চ কর্মসূচিতে যাবে। এই কর্মসূচি শেষে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে নামবে তারা।

বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগির বিএনপি রোড মার্চ-লং মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করবে। পাশাপাশি জেলা, থানা, ওয়ার্ড পর্যায়ে সমাবেশ করবে দলটি। আর এসব কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করাই থাকবে বিএনপির মূল টার্গেট। পরবর্তীতে ঢাকায় সমাবেশ করে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলনে নামবে বিএনপি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করতে চায় বিএনপি। এর বাইরে অন্য কোনো চিন্তা করা হচ্ছে না। তাই বিএনপি এখন একেবারেই শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করছে। এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো হবে। আর যখন সুযোগ পাবে তখন সরকারকে একেবারেই উৎখাত করা হবে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর চাল, ডাল, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ১০ দিনের গণ-সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ওই দিন বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কর্মসূচিগুলো মধ্যে ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগরে, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে, ২২ অক্টোবর খুলনায়, ২৯ অক্টোবর রংপুরে, ৫ নভেম্বর বরিশালে, ১২ নভেম্বর ফরিদপুরে, ১৯ নভেম্বর সিলেটে, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায়, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশ করবে বিএনপি। সর্বশেষ ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে দলটি। এই মহাসমাবেশেই আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

ঘোষিত সমাবেশ সফল করতে বিভাগ ভিত্তিক সাংগঠনিক মতবিনিময় সভা করেছেন বিএনপির হাইকমান্ড। গত ১ অক্টোবর থেকে কয়েক দফায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গণ-সমাবেশ সফল করার পাশাপাশি সরকার পতনের আন্দোলনের কৌশল নিয়েও আলোচনা হয় এবং বিভাগীয় নেতাদের কাছ থেকে আন্দোলনের বিষয়ে মতামত চান বিএনপির হাইকমান্ড।

সূত্রে জানা গেছে, সভায় নেতৃবৃন্দরা বিভাগীয় সমাবেশের পরে জনসম্পৃক্তমূলক ইস্যুতে রোড মার্চ-লং মার্চ কর্মসূচিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি গুম, খুন, হত্যাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সারাদেশের জেলা, উপজেলা, মহানগর, থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মসূচি করারও কথা বলেছেন তারা।

এবিষয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সভায় উপস্থিত বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, খুব শিগগিরই জনসম্পৃক্তমূলক ইস্যুতে বিএনপি রোড মার্চ-লং মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা দেবে। আর বিএনপির মূল টার্গেট, এই কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করা।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির আরেক শীর্ষ নেতা বলেন, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, রাজনৈতিক কর্মসূচি এখন থেকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা হবে। আর জনসম্পৃক্তমূলক ইস্যুতে বিএনপি মাঠে থাকবে। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মী এবং জনগণকেও মাঠে নামানোর কৌশল ঠিক করা হচ্ছে। এরপরে চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সমাবেশ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের প্রত্যাশা জনগণের একটা অভ্যুত্থান হবে। এই সমাবেশগুলোর মধ্যে দিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করলে জনগণ আসবে। আর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে দিয়েই আমরা এই সরকারের পতন ঘটাব।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, জনসম্পৃক্তমূলক ইস্যুতে আমরা বিভাগ ভিত্তিক সমাবেশ করছি। আর আমরা তো আন্দোলনে আছি এবং এই আন্দোলন চলমান থাকবে।

রোড মার্চ-লং মার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেগম সেলিমা রহমান বলেন, সময় আসুক। সময়ের প্রয়োজনই সেটা বলে দেবে।

জানতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালে প্রিন্স বলেন, জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা আন্দোলন করছি। আর আমাদের এই আন্দোলন চলমান। কারণ জনগণ এবং বিএনপির দাবি এক, সেটা হলো- এই সরকারের পতন। আর আন্দোলন ছাড়া এই সরকারের পতন হবে না।

এদিকে সরকার পরিবর্তনে বৃহত্তর আন্দোলনের প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপ করছে বিএনপি। এর আগে প্রথম দফায় ২০ দলীয় জোট, গণতন্ত্র মঞ্চের মোট ২৩টি দলের সাথে সংলাপ করেছে দলটি। আর দ্বিতীয় দফায় গত ২ অক্টোবর কল্যাণ পার্টি, ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, ৬ অক্টোবর লেবার পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, ১০ অক্টোবর জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), মুসলিম লীগ, ১১ অক্টোবর ইসলামী ঐক্য জোট ও ডেমোক্রেটিক লীগের সাথে সংলাপ করেছে দলটি।

এবিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে যুগপৎ আন্দোলনের দাবিনামা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আর যেই দাবিগুলোর খসড়া নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি, এর ভেতরে প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে- বর্তমান অবৈধ ফ্যাসিস্ট সরকারের পদত্যাগ, একটা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন, সংসদ বাতিল, নতুন নির্বাচন কমিশনের অধিনে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়াসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তি এসব দাবির বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। আর অন্যান্য দলগুলোর সাথে ধারাবাহিক আলোচনা শেষে দাবিগুলো চূড়ান্ত করে আমরা যুগপৎ আন্দোলনে যাব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: