সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

হোটেলবয় মোক্তার শত কোটি টাকার মালিক

বিদেশে নারী পাচার, ক্যাসিনো ও ব্ল্যাকমেইলিং। সবশেষ অ’বৈধ ম’দ-বিয়ারের ব্যবসা। এসব করেই তিনি এখন শতকোটি টাকার মালিক। দেশে-বিদেশে আছে একাধিক বাড়ি-গাড়ি ও অঢেল টাকা। রূপকথাকেও হার মানানো এমন সত্য কাহিনীর প্রধান চরিত্র মোক্তার হোসেন ওরফে মোক্তার গাজী। মাত্র এক দশক আগেও তিনি ছিলেন মামুলি হোটেলবয়।

তবে বিদেশি ম’দের ব্যবসায় তার সৌভাগ্যের চাকা ঘোরে। অঢেল অর্থবিত্ত আর বিলাসী জীবন যেন স্বেচ্ছায় ধ’রা দেয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় কিংফিশার ম’দের বারে অ’ভিযান চালায় গোয়েন্দা পু’লিশ। এরপর বার মালিকের অন্ধকার জীবনের পিলে চ’মকানো তথ্য বেরিয়ে আসে।

বারে অ’বৈধ ম’দ ব্যবসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মহানগর গোয়েন্দা পু’লিশের প্রধান হারুন অর রশিদ শনিবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, যেখানেই অ’বৈধ ম’দ-বিয়ারসহ মা’দক ব্যবসা হবে, সেখানেই অ’ভিযান চালাবে গোয়েন্দা পু’লিশ। কারণ উঠতি বয়সি তরুণ-তরুণী এসব ম’দের বার ও সিসা লাউঞ্জে যাতায়াত করায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হু’মকির মুখে পড়ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিংফিশার বারের মালিক মোক্তার হোসেনের বি’রুদ্ধে মা’মলা হয়েছে, তাকে গ্রে’প্তারে চেষ্টা চলছে।

পু’লিশ জানায়, মোক্তারের দেশের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজে’লার জহিরাবাদ গ্রামে। বিএনপির নেতা হিসাবে এলাকায় তার পরিচিতি। এক সময় জাতীয় পার্টি করতেন। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি ভোল পাল্টান। যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ক্ষমতার দাপটে এলাকায় নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীও গড়ে তোলেন। চাঁদাবাজি, নৌ ডা’কাতি ও মেঘনায় অ’বৈধ বালু ব্যবসার অ’ভিযোগ রয়েছে তার বি’রুদ্ধে।

গোয়েন্দা পু’লিশ বলছে, মোক্তার ২০০৮ সালে রাজধানী বারিধারায় ‘এভিনিউ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’র কর্মচারী ছিলেন। কিছুদিন পর চাকরি ছেড়ে নাম লেখান মা’দক ব্যবসায়। গুলশান-বনানী এবং উত্তরায় হকারি করতেন। একপর্যায়ে বাড্ডা এলাকার সাবেক কাউন্সিলর বিএনপির নেতা কাইয়ুমের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এ সুবাদে বিভিন্ন বারে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিদেশি ম’দ-বিয়ার সরবরাহ করতেন।

তবে ২০০৮ সালে মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক মোহাম্ম’দ আলীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে একাধিক বার লাইসেন্স পান মোক্তার। গুলশান-১ এলাকায় অবস্থিত লেকভিউ এবং গুলশান-২ এ কোরিয়ান ক্লাব (কেবি) নামে বার ব্যবসা শুরু করেন তিনি। এছাড়া গুলশান ও বনানী এলাকায় একাধিক আবাসিক হোটেলে ডিসকো এবং ডিজে পার্টির আয়োজক ছিলেন তিনি।

সূত্র বলছে, ম’দের বার ও আবাসিক হোটেল ব্যবসার সূত্রে মোক্তার পৌঁছে যান সমাজের উপর তলায়। প্রভাবশালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। তিনি চাঁদপুর এলাকার এক মন্ত্রীর ছে’লের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে অ’বৈধ ব্যবসা করেও ঘুরেন প্রকাশ্যে। কয়েক বছর ধরে তিনি নিজেকে সমবায় অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত অ’তিরিক্ত সচিব হারুন-অর-রশিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেন। এ সুবাদে তিনি পু’লিশ প্রশাসনেও প্রভাবশালী বলে পরিচিত।

তবে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সদ্য অবসরে যাওয়া অ’তিরিক্ত সচিব হারুন-অর-রশিদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, মোক্তার নামের কোনো ম’দ ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরিচয় বা ঘনিষ্ঠতা কোনোটিই তার নেই, কখনো ছিলও না। তবে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বে নিযু’ক্ত ছিলেন। এ সুবাদে অনেকেই তার কাছে মন্ত্রণালয়ে দেখা-সাক্ষাৎ করতে আসতেন। তাদের কেউ হয়তো উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার নাম ভাঙিয়ে থাকতে পারে। বাস্তবে মোক্তার নামের কাউকে তিনি চেনেন না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যু’ক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক কারণেও কোণঠাসা করতে তার বি’রুদ্ধে অ’প-প্রচার চালানো হতে পারে।

সূত্র বলছে, গত কয়েক বছর ধরে মোক্তার নিয়মিত সচিবালয়ে যাতায়াত করতেন। এর সূত্র ধরে পু’লিশের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মক’র্তার সঙ্গেও তার দহরম-মহরম। পু’লিশ কর্মক’র্তাসহ প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মক’র্তাদের সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণ ‘ওপেন সিক্রেট’। পু’লিশে হট কানেকশনের কারণে মোক্তারের ম’দের বারে নানা অনিয়ম হলেও সংশ্লিষ্টরা ছিলেন ‘নীরব দর্শক’র ভূমিকায়। এ সুযোগে উত্তরা, মিরপুর, গুলশান ও ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে মোক্তারের ম’দ ব্যবসার বিস্তার ঘটে। এসব স্থানে নামে-বেনামে পাঁচটি ম’দের বারের সন্ধান পেয়েছে পু’লিশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ম’দের ব্যবসা করলেও বিধিবিধানের তোয়াক্কা করেন না মোক্তার। আইন অনুযায়ী রাত ১০টার মধ্যে বার বন্ধে বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, মোক্তারের মালিকানাধীন গুলশান-২ এলাকার কিংফিশার বার মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রকাশ্যে শত শত তরুণ-তরুণী দলবেঁধে বারে ঢোকেন। এমনকি একটি লাইসেন্স দিয়ে একাধিক ম’দের বার চালানো হলেও মা’দক কর্মক’র্তারা মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। কিন্তু সবকিছু দেখেও নির্বিকার পু’লিশ। এসব দেখে এলাকাবাসীর অনেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। এ কারণে ভুক্তভোগীরা বিলম্বে হলেও ডিবির অ’ভিযানকে স্বাগত জানান।

পু’লিশ জানায়, নারী পাচার এবং বিদেশি ম’দের ব্যবসায় অঢেল সম্পদের মালিক মোক্তার। যু’ক্তরাষ্ট্রে বাড়ি আছে তার। সেখানেই তার পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এছাড়া মালয়েশিয়ার আমপাং এলাকায় ফার্ম হাউজের খোঁজ মিলেছে। এখন দুবাই ও সিঙ্গাপুরে তার সম্পদের সন্ধান চলছে।

সূত্র জানায়, চাঁদপুরের মেঘনায় অ’বৈধ বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন মুক্তারের দু’ভাই গাজী সেলিম রেজা ও গাজী সম্রাট। অ’পরিক’ল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প এখন হু’মকির মুখে। এ নিয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও কোনো ফল হয়নি। উলটো অনেকেই পু’লিশি হয়’রানির মুখে পড়েন। এমনকি বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে ২০১৯ সালের ১১ মা’র্চ স্থানীয় সংসদ-সদস্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে চিঠি (ডিও) দেন। কিন্তু এতেও কাজ হয়নি। একপর্যায়ে ২০২০ সালের ২৩ জুন স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের আদেশ দেন হাই’কোর্ট।

যুগান্তরের মতলব প্রতিনিধি জানান, উচ্চ আ’দালতের নির্দেশের পর ২ বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে ফের বালু উত্তোলনের চেষ্টা চলছে। এজন্য নেপথ্যে তৎপর তার দুই ভাই। কিন্তু প্রকাশ্যে এ নিয়ে প্রতিবাদ করার সাহস নেই স্থানীয়দের। কারণ মোক্তারের ভাইদের বি’রুদ্ধে কিছু বললে পু’লিশি হয়’রানির মুখে পড়তে হয়। অথচ মোক্তারের দুই ভাই নৌ ডা’কাতি মা’মলার আ’সামি (মা’মলা নং ২৮/ ২৫-০৭-২০২১) ও চাঁদপুর সদর মডেল থা’না (মা’মলা নং ২৫/ ১৬-৮-২০২০)। এছাড়াও তাদের বি’রুদ্ধে মা’মলা আছে মোহনপুর, গজারিয়া ও চাঁদপুর নৌ-ফাঁড়িতে।

পু’লিশ জানায়, বিদেশি ম’দের চো’রাকারবার ছাড়াও রাজধানীর আরামবাগ ক্লাবে অ’বৈধভাবে ক্যাসিনো কারবারে জ’ড়িত ছিলেন মোক্তার। ২০১৯ সালে রেবের ক্যাসিনোবিরোধী অ’ভিযান শুরু হলে বিদেশে পালিয়ে যান তিনি। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে তিনি দেশে ফেরেন। এছাড়া মোক্তারের সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ড স’ন্ত্রাসীদেরও যোগাযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পু’লিশ।

অ’ভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে মোক্তার হোসেন ওরফে মোক্তার গাজী শনিবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, এসব অ’ভিযোগ অবান্তর এবং ভিত্তিহীন। তার বৈধ প্রতিষ্ঠানে অ’ভিযান চালিয়েছে গোয়েন্দা পু’লিশ। যেসব ম’দ-বিয়ার আ’ট’ক করা হয়েছে তার সবই বৈধ। হয়’রানিমূলক অ’ভিযানের সময় মা’দকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মক’র্তাকে একটি ঘরে আ’ট’কে রাখে পু’লিশ। যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি হোটেলবয় ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে এভিনিউ হোটেলের মালিক ছিলেন তিনি। একটি মহল তার বি’রুদ্ধে কুৎসা রটনায় লিপ্ত। তিনি আজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যু’ক্ত ছিলেন। এলাকায় সুনামের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: