সর্বশেষ আপডেট : ৩৯ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

কাউকে বিদেশ না পাঠিয়েই ৩ কোটি টা*কা প*কে*টে

বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে মোট ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। কয়েক বছর ধরে তারা এই কর্মকা’ণ্ড চালাচ্ছিল।

এর মধ্যে তারা একজনকেও বিদেশে পাঠায়নি। এমনকি কাউকে বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেনি। তাদের কোনো লাইসেন্সও নেই।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশে পাঠানোর কথা বলে তারা নিয়েছে ২-৩ লাখ এবং ইউরোপের দেশের জন্য নিয়েছে ৬-৭ লাখ টাকা। গত দুই বছরে বিদেশ যাওয়ার জন্য ৫২১ জন তাদের কাছে পাসপোর্ট জমা দিয়েছে।

এই চক্রের টার্গেট ছিল, ওই টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার।

টাকা দিয়ে বিদেশ যেতে না পারা এবং টাকা ফেরত না পাওয়া অনেক ভিকটিমের কাছ থেকে পাওয়া অ’ভিযোগের ভিত্তিতে এই চক্রের মূলহোতাসহ দুইজনকে আ’ট’ক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (রেব-৩)।

আ’ট’করা হলেন- মূলহোতা মাহবুব উল হাসান (৫০) ও তার সহযোগী মাহমুদ করিম (৩৬)।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় অ’ভিযান চালিয়ে তাদের আ’ট’ক করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫২১টি পাসপোর্ট, বিদেশে চাকরির জন্য তৈরি ভু’য়া কোর্সের সনদ ৬৫টি, ভু’য়া মেডিকেল সার্টিফিকেট ৩০০টি, ভু’য়া কোভিড ভ্যাক্সিনেশন সার্টিফিকেট ২২৫টি, সৌদি, ই’রাক, কুয়েত, দুবাই, রোমানিয়া, কানাডা ও কম্বোডিয়ায় চাকরির ভু’য়া চুক্তিপত্র, ভু’য়া মেডিকেল সার্টিফিকেট, টাকা গ্রহণ রেজিস্টার ৩টি, পু’লিশ ক্লিয়ারেন্স ১৫টি, রোমানিয়ান জাল ভিসা ৭টি, জাল কাগজ পত্র তৈরির ব্যবহৃত কম্পিউটার, স্ক্যানার এবং প্রিন্টার উ’দ্ধার করা হয়।

গ্রে’প্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে রেব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ পর্যন্ত তারা বিভিন্ন অসহায় দরিদ্র লোকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চক্রের মূলহোতা মাহবুব উল হাসান এবং তার প্রধান সহযোগী মাহমুদ করিম। তারা বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলে দালালের মাধ্যমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যেতে ইচ্ছুক লোকজনের পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। এভাবে তারা গত দুই বছরে ৫২১টি পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যেতে ৩ লাখ ইউরোপে ৭ লাখ
বিদেশ যেতে ইচ্ছুক মানুষদের টার্গেট করে অগ্রিম অর্থ আদায় করতো চক্রটি। এর মধ্যে যারা মধ্যেপ্রাচ্যে যেতে ইচ্ছুক তাদের কাছ থেকে ২-৩ লাখ টাকা করে এবং যারা ইউরোপে যেতে ইচ্ছুক তাদের কাছ থেকে ৬-৭ লাখ টাকা করে জমা নেয়।

এরপর বিভিন্ন কোম্পানির নামে চাকরির ভু’য়া নিয়োগপত্র, ভু’য়া মেডিকেল সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ভু’য়া কাগজপত্র দেখিয়ে তাদেরকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করে। কিন্তু পরে বিদেশে যাওয়ার কোনো কার্যক্রম না দেখে টাকা ফেরতের জন্য তাগাদা দিলেও তারা কোনো ভিকটিমকে টাকা ফেরত দেয়নি।

রেব-৩ এর সিও বলেন, গত দুই বছরে পাসপোর্ট এবং অর্থ জমাদানকারী কোনো ভিকটিমকে তিনি বিদেশে পাঠাতে পারেননি। এরপরও তিনি নিয়মিতভাবে দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার মানুষজনের কাছ থেকে বিদেশে যাওয়ার প্রলো’ভন দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছেন।

এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে সংগ্রহকৃত অর্থের পরিমান বৃদ্ধি পেলে অর্থসহ গ্রে’প্তার দুইজন বিদেশে পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা করেছিল। মাহবুব এখন পর্যন্ত বিদেশে পাঠানোর কোন এজেন্সির কাছে সংগ্রহ করা কোন পাসপোর্ট জমা দেননি এবং অর্থ জমাদানকারী ভিকটিম’দের বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে কোনো কার্যক্রম চালাননি।

২২ বছর ধরে মানবপাচারে জ’ড়িত মাহবুব
গ্রে’প্তার মাহবুব ২০০০ সাল থেকে সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও প্রতারক চক্রের সদস্য। তিনি বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলো’ভন দেখিয়ে মধ্যেপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রতারণার মাধ্যমে কিছু লোক পাঠান। তাদের প্রলো’ভনে পড়ে ভিকটিম এবং তাদের অ’ভিভাবকরা রাজি হলে প্রথমে তারা পাসপোর্ট এবং প্রাথমিক খরচ বাবদ ১-২ লাখ টাকা নেন।

তারপর ভিকটিম’দেরকে বিদেশ থেকে তাদের বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে ফোন দিয়ে তাদেরকে আশ্বস্ত করেন, মাহবুবের মাধ্যমে বিদেশ গিয়ে তারা খুব ভাল আছে এবং অনেক অর্থ উপার্জন করছেন। বিদেশ থেকে ফোন পেয়ে ভিকটিম’রা আরো অধিক আগ্রহী হন। এ সুযোগে চক্রটি ভিকটিম’দের কাছ থেকে ধাপে ধাপে টাকা আত্মসাৎ করতে থাকে।

অন্যদিকে, গ্রে’প্তাররা ফ্লাইটের আগে ভিকটিমের পাসপোর্ট, ভিসা কিংবা টিকেট কোনো কিছুই হস্তান্তর করে না। কখনো কখনো মাহবুব প্রতারণার মাধ্যমে ভিকটিম’দেরকে কাজের বদলে ভ্রমণ ভিসায় বিদেশে পাঠিয়ে থাকে। সেখানে গিয়ে চক্রের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা ছাড়া ভিকটিমের কিছুই করার থাকে না।

বিদেশে পৌঁছার পর সেখানকার এজেন্টের মাধ্যমে আবারো প্রতারিত হতে হয় ভিকটিম’দের। তাদেরকে কাজের নামে অ’জ্ঞাত স্থানে নিয়ে ব’ন্দি করে রাখা হয়। এরপর শারীরিক এবং মানসিক নি’র্যা’তন করা হয়। এ সময়ে মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সে ভিকটিম’দের অ’পেক্ষা করতে বলে। সে জানায় কিছুদিন পরে কোম্পানি চালু হবে। তখন তারা বেতন ও কাজের সুযোগ পাবেন।

এ সময়ে ভিকটিম’রা নি’র্যা’তন সহ্য করতে না পেরে অনেকে নিজেদের চেষ্টায় টিকিট জোগাড় করে দেশে আসার চেষ্টা করেন। এরপর ভিকটিম দেশে ফিরে এলে মাহবুব অ’ভিভাবক এবং ভিকটিম’দের উল্টো দোষারোপ করেন।

এভাবে করো’নার আগ পর্যন্তু মালয়েশিয়া, দুবাই এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রচ্যের বিভিন্ন দেশে ভিকটিম’দের পাঠিয়ে প্রতারিত করে তাদের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মাহবুব।

রেব-৩ এর সিও বলেন, গ্রে’প্তারদের ট্রাভেল এজেন্সি বা রিক্রুটিং এজেন্সি পরিচালনার কোনো লাইসেন্স নেই। স্বল্প সময়ে, বিনাশ্রমে অধিক লাভ বা অর্থ উপার্জনই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। ভিকটিম’রা বিদেশ গিয়ে কোনো কাজ না পেয়ে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের কোনো অনুশোচনা নেই।

বিদেশ থেকে ফিরে মানবপাচার শুরু
গ্রে’প্তার মাহবুব উল হাসান এসএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করে ১৯৯৩ সালে মালয়েশিয়ায় যান। ৫ বছর পর দেশে ফিরে কৃষি কাজ শুরু করেন। স্বল্প পরিশ্রমে অধিক অর্থ উপার্জনের আশায় অ’বৈধভাবে ২০০০ সাল থেকে এক এজেন্সির মাধ্যমে মধ্যেপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানো শুরু করেন তিনি। ওই এজেন্সি থেকে চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পাওয়ায় ২০১৪ সালে আরেকটি এজেন্সির মাধ্যমে কাজ শুরু করেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত তার পাঠানো প্রত্যেকেই বিদেশে গিয়ে কাজ না পেয়ে দেশে ফিরে এসেছেন।

এরপর কোনো ট্রাভেল এজেন্সির সাহায্য ছাড়াই কোটিপতি হওয়ার আশায় নিজেই অ’বৈধভাবে একটি অফিস খুলে মিথ্যা প্রলো’ভন ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: