সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ইতালিতে জর্জা মেলোনির জয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা

ইতালির নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী জর্জা মেলোনি জয় পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এর ফলে তিনি এখন দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। মেলোনি দ্বিতীয় বিশ্বযু’দ্ধের পর ইতালির সবচেয়ে কট্টর সরকারের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কিন্তু ইউরোপের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে ইতালির সম্ভাব্য সে পরিবর্তনের প্রভাব হয়তো দেখা যাবে গোটা ইউরোপের ওপরই।

যদিও নির্বাচনের পর মোলোনি বলেছেন, তার দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’ সবার জন্য কাজ করবে এবং মানুষের ভরসার সাথে বিশ্বা’সঘা’তকতা করবে না। কিন্তু নির্বাচনে দলটির প্রধান ইস্যু ছিল অ’ভিবাসন এবং অ’বৈধ অ’ভিবাসন ঠেকানোর জন্য তারা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মেলোনির জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোরও দাবি অ’ভিবাসন কমানো এবং দেশটির ওপর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রভাব দুর্বল করা।

চাপ সৃষ্টি হবে অ’ভিবাসীদের ওপর

ইউরোপে ঢোকার জন্য প্রতি বছর ভূমধ্যসাগর হয়ে এবং স্থলপথেও প্রচুর মানুষ ইতালিতে যান। এদের মধ্যে প্রচুর বাংলাদেশিও রয়েছেন।

ইতালিতে অ’ভিবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, এই মুহূর্তে ইতালিতে বৈধভাবে কাজ করছেন এক লাখের বেশি বাংলাদেশি। এছাড়া এখনো কাজকর্ম এবং চাকরির বৈধ কাগজপত্র নেই কিংবা হওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, এমন বাংলাদেশির সংখ্যাও ৫০ হাজারের বেশি।

ইতালির রাজধানী রোম এবং ভেনিসে কাজ করছেন এমন কয়েকজন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, তাদের মধ্যে এক ধরনের চাপা উদ্বেগ কাজ করছে। তবে যারা এরই মধ্যে কাজ ও বসবাসের বৈধ কাগজপত্র পেয়েছেন তাদের মধ্যে সেটি কিছুটা কম।

কিন্তু যারা এখনো স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাননি তাদের আশ’ঙ্কা যে নতুন সরকার অ’ভিবাসন নীতি কঠোর করলে তাদের বৈধতা পেতে সমস্যা হবে। এছাড়া মু’সলমান বিরোধী মনোভাবের শিকার হতে পারেন এমন আশ’ঙ্কাও রয়েছে অনেকের মনে।

ইতালির বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সভাপতি নুর আলম সিদ্দিকী’ বাচ্চু অবশ্য মনে করেন, অ’ভিবাসীদের প্রতি যত কঠোরই হোক, হয়ত তাদের সরাসরি দেশে ফেরত পাঠাবে না এই সরকার। কিন্তু নানা নিয়ম-কানুন করে হয়ত তাদের চাপে রাখা হবে।

সিদ্দিকী’র আশংকা নতুন সরকার হয়তো অ’ভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আইন করবে এবং তাদের অ’ভিবাসীবিরোধী প্রচারণা যেভাবে চালাবে তাতে সমাজে ‘বিদেশি বনাম ইতালিয়ান’ একটি দূরত্ব তৈরি হবে।

‘যেহেতু এদেশে বেকারত্ব এবং অ’প’রাধের পেছনে ইমিগ্রেন্টদের কারণ বলে মনে করা হয়, সে কারণে নতুন সরকার এসে অনিয়মিত অ’ভিবাসী শ্রমিক এবং অ’প’রাধ ঠেকাতে বিধিনিষেধ দেবে।

এরপর টার্গেট দেবে যে বিদেশি ১০ বছর ১৫ বছর কাজ করছে, তারে ফেরত পাঠাও,’ বলেন তিনি।

অ’ভিবাসীরা নানা হয়’রানির শিকার হবে এমন আশ’ঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে আমাদের (অ’ভিবাসীদের) নিয়ে প্রচার চালিয়ে রেখে হয়তো কোণঠাসা করে রাখা হবে।

যেন বেতনের ব্যাপারে আম’রা মা’থাচাড়া না দেই। আমাদের কায়িক শ্রমকে অল্প পয়সায় নেওয়ার জন্য আমাদের মানসিক চাপে রাখা হবে। হয়তো দেখা যাবে ডকুমেন্ট রিনিউ হচ্ছে না, এ রকম নানা কিছু।

সিদ্দিকী’ মনে করেন, এসব চাপের কারণে নতুন অ’ভিবাসীদের ইতালিতে নিরুৎসাহিত করা হবে।

সমুদ্রপথে ইতালিতে আসা অ’ভিবাসীদের প্রবেশ মুখগুলোতে যেহেতু কড়াকড়ি হবে, সে কারণে ওই প্রবেশ মুখগুলোতে যখন রেডক্রসের মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করে, তাদের কর্মকা’ণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

এর ফলে সমুদ্রপথে প্রা’ণের ঝুঁ’কি নিয়ে অ’ভিবাসনেচ্ছু মানুষেরা দুর্ঘ’টনায় পড়লে তাদের প্রা’ণহানির ঝুঁ’কি বাড়বে।

চাপা উদ্বেগ বাংলাদেশিদের মধ্যে

ভেনিসের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করেন সাইমুন শরীফ জেসি। দুই বছর আগে ফ্যামিলি ভিসায় স্বামীর সঙ্গে গেছেন তিনি। তবে কাজ করার জন্য টেম্পোরারি রেসিডেন্সি ‘টিআর’ পেয়েছেন তিনি কয়েকমাস আগে, যার মেয়াদ শেষ হবে ডিসেম্বরে।

তিনি বলছেন, ফ্যামিলি ভিসায় আসার কারণে ইতালিতে তার অবস্থান নিয়ে হয়তো সরাসরি কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু তারপরেও এক ধরনের চাপা উদ্বেগ রয়েছে মনে।

গত কয়েক বছর ধরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে এবং লিবিয়া হয়ে প্রচুর মানুষ অ’বৈধভাবে ইতালি এবং গ্রিসে ঢুকেছেন। এদের অনেকে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ইতালিকে একটি ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করেন।

তবে অ’বৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ করে অনেকে অ’বৈধভাবে কাজ করছিলেন দেশটিতে। কিন্তু সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী মা’রিও দ্রাঘির উদ্যোগে দেশটির নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে একটি নতুন আইন করা হয়, যার মাধ্যমে অ’ভিবাসীদের অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ ও বসবাসের অনুমতিপত্র, যাকে ‘টেম্পোরারি রেসিডেন্সি’ বলা হয়, দেওয়া শুরু হয়েছিল ২০২২ সালেই।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে যেকোনো অ’ভিবাসী ইতালির সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এই ‘টেম্পোরারি রেসিডেন্সি’র জন্য আবেদন করতে পারবে।

কোনো ব্যক্তিকে প্রথমবার এই অনুমতিপত্র দেওয়ার ৫ বছর পর তিনি পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ভেনিসের একটি আবাসিক হোটেলের মালিক আবেগ আল মামুন জানিয়েছেন, টেম্পোরারি রেসিডেন্সিতে সাধারণত প্রথমে ছয় মাসের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে ওই অনুমতিপত্র নবায়ন করতে হবে।

কিন্তু এক্ষেত্রে নবায়নের সময় কর্তৃপক্ষ চাইলে সেটি অনুমতি নাও দিতে পারে, যার ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হয়ত স্থায়ীভাবে বসবাস এবং নাগরিকত্ব পাবেন না একজন অ’ভিবাসী।

বৈধ কাগজপত্র যাদের নেই তাদের শ’ঙ্কা

গত ১৩ মাস ধরে রোমে রয়েছেন সামিউল ইস’লাম, এটি তার ছদ্মনাম। ইতালি পৌঁছে প্রায় ৭ মাস বেকার থাকার পর এপ্রিল মাসে তিনি অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ ও বসবাসের অনুমতিপত্র নিয়ে রোমে কাজ করছেন।

স্থায়ী পারমিট নাই বলে খুবই অল্প বেতনে কাজ করছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘টেম্পোরারি রেসিডেন্সির কারণে মনে একটা আশা সৃষ্টি হইছে যে ঠিকমত কাজ করলে এক সময় বৈধভাবে এখানে স্থায়ীভাবে থাকতে পারবো। কিন্তু এখন কী’ হবে বুঝতেছি না।’

নতুন সরকারের নীতির কারণে তার কাজের অনুমতিপত্র নবায়নে সমস্যা হতে পারে বলে তিনি আশংকা করছেন।

এদিকে, নতুন কট্টর ডানপন্থী সরকারের অ’ভিবাসন নীতিমালার পাশাপাশি মু’সলমান বিরোধী মনোভাব রয়েছে বলেও মনে করেন অনেকে। কারণ মিজ মেলোনি এরই মধ্যে একাধিকবার ইতালিতে মু’সলিম অ’ভিবাসীদের আগমনের বি’রুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

চাকরি নিয়ে শ’ঙ্কার পাশাপাশি সামিউল ইস’লামের আরেকটি ভীতি হচ্ছে মু’সলমান হওয়ার কারণে তিনি কর্তৃপক্ষের বিরাগভাজন হতে পারেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: