সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

হাসিবের সাথে তৃতীয় ব্যক্তির ইন্ধনে সম্পর্কের অবনতি ঘটে: সালওয়া

ঢাকাই সিনেমার নবাগত চিত্রনায়িকা ও সিলেটের মেয়ে নিশাত নাওয়ার সালওয়া মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া উপজেলা- কমলগঞ্জ আংশিক) আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলে নবাব আলী হাসিব খানের বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি পারিবারিক ভাবে সামাধান হয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিশাত নাওয়ার সালওয়া তার ফেসবুকে আবার একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানালেন তৃতীয় ব্যক্তির ইন্ধনে হাসিব খানের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে ‘বীরত্ব’ সিনেমার অভিনেত্রী সালওয়া লিখেছেন, ‘সবাইকে সালাম। আশা করছি কিছুটা সময় নিয়ে এই দীর্ঘ পোস্ট টি পড়বেন । আমি সিলেটের মেয়ে। আপনারা ইতিমধ্যে জানেন আমি ৪টি চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। একটি মুক্তি পেয়েছে। প্রফেশনালিজম এর জায়গা থেকে এগুলোর অবশিষ্ট কাজে আমার অংশগ্রহন করতে হবে। তবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যেকোনো চাকচিক্য থেকে আমার কাছে পারিবারিক বন্ধন ও মূল্যবোধের মর্যাদা অনেক বেশি একজন সিলেটি রক্ষনশীল পরিবারের মেয়ে হিসেবে।’

সালওয়া লিখেছেন ‘সিলেট বিভাগের কুলাউড়া উপজেলা (জুরি-কমলগঞ্জ একাংশ) জনগনের ভোটে সর্বাধিক বার নির্বাচিত এমপি নবাব আলী আব্বাস খান আমাকে তার নিজ কন্যার মতো স্নেহ করেন। যার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কোনো দুর্নীতির তকমা নেই। তিনি অত্যন্ত ভালো একজন মানুষ। তার পুত্র নবাব আলী হাসিব খানের সঙ্গে ৩য় ব্যক্তির ইন্ধনে আমাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আমাদের পরিবার চায়নি পবিত্র হজ পালনের পর আমি পুনরায় চলচ্চিত্রে কাজ করি। এ থেকে আমাদের মাঝে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। তবে সবকিছুর পরে আমার একান্ত উপলব্ধি আমাদের জীবনে সবকিছুর উর্ধে পারিবারিক বন্ধন ও ভালোবাসা। ক্ষনস্থায়ী কোনোকিছুর জন্য নিজের পারিবারিক শান্তি বিনষ্ট করার কোনো মানে হয় না।’

তিনি আর লিখেছেন ‘আমি আমার এ ক্ষুদ্র ক্যারিয়ারে আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিক ভাইদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সবসময় আমার পাশে থাকার জন্য। বিশেষ করে সিলেট এর মানুষের ভালোবাসায় আমি সিক্ত। ইনশাআল্লাহ আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সিলেটবাসীর জন্য কাজ করে যেতে চাই। সবাই আমাদের জন্য দোআ করবেন।’♥️

এর আগে বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে এক ফেসবুক পোস্টে অভিনেত্রী সালওয়া লিখেছেন, ‘সিলেটের অতি স্বনামধন্য নবাব পরিবারের সন্তান সাবেক সংসদ সদস্য নবাব আলী আব্বাস আলী খানের পুত্র নবাব আলী হাসিব খান আমাকে উপর্যুপরি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। আমার কোনো ক্ষতি হলে তিনি দায়ী থাকবেন।’

নবাব আলী হাসিব খানকে নিয়ে দেয়া পোস্টটি দেয়ার কিছু সময় পর সালওয়া নিজেই মুছে ফেলেন তার আইডি থেকে।

পরে আবার ওইদিন বিকালে অপর একটি পোস্টে সালওয়া লিখেছেন ‌‘কিছু বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্যের কারনে রাগের বশবর্তী হয়ে আমি ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলাম। সিলেটের সবাই আশা করছি ব্যাপারটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এভাবে রাগ করে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঝগড়ার কথা আমার পাবলিকলি বলা ঠিক হয়নি। আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধান করে ফেলেছি। এটাকে নিয়ে কোনো গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ রইলো।’ ধন্যবাদ ♥️♥️♥️????

ফেসবুকে প্রথম পোস্টের বিষয়ে গণমাধ্যমকে সালওয়া বলেন, হাসিবের সঙ্গে তার ছয় মাসের প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সালওয়ার ভাষ্যে, ‘কিছুদিন ধরে আমাকে মানসিকভাবে নানা ধরনের চাপ দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সিনেমা মুক্তির পর থেকে আমাকে আরও বেশি চাপ দিচ্ছেন। এখনই আমাকে বিয়ে করতে চান। তা ছাড়া আমি কোথায় যাচ্ছি, কী করছি, সবই তাঁকে প্রতিমুহূর্তে জানাতে হবে—এসবসহ নানা মানসিক চাপ। এসব চাপ আমি আর নিতে পারছি না। এ কারণে আমি তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাইনি। এটি শোনার পর থেকে সে আমাকে মেরে ফেলাসহ নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে।’

সালওয়া বলেন, ‘হাসিব হুমকি দিচ্ছেন, তাঁর কাছে নাকি আমার বিশেষ ভিডিও ফুটেজ, স্টিল ছবি আছে। সেগুলো সোশ্যাল মিডিয়াতে ছেড়ে দেবে সে। আমি আর এসব হুমকি নিতে পারছি না।’

সালওয়া জানান, এর প্রতিকার পেতে হাসিবের পরিবারের সদস্যদের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। পরিবার আশ্বাস দিলেও কাজ হয়নি। বলেন, ‘প্রেমের বিষয়টি হাসিবের পরিবার জানত। এ ঘটনার পর তাঁর ছোট বোনকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাঁরা বলেছেন, “রাগের মাথায় হাসিব এসব করছে, ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু কোনো কিছুই ঠিক হয়নি। একের পর এক হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি দিয়েই যাচ্ছেন।’

তবে মেরে ফেলার কথা, ভিডিও ফুটেজ, ছবি ছেড়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে হাসিব বলেন, ‘আমাদের প্রেমের সম্পর্ক। আমাদের দুজনের ঝগড়া হয়েছে। ঝগড়া হইতেই পারে। আর আমি মেরে ফেলার কে? আমার বাবা রাজনীতি করেন। একটা সম্মান আছে। তা ছাড়া আজ পর্যন্ত আমার নামে কোনো ক্রাইম নাই, পাবেনও না।’

ভিডিও ছাড়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত ভিডিও আমি কাকে দেব, কোথায় ছাড়ব? এটা কোনো দিন হয়?’

হাসিবের অস্বীকারের ব্যাপারে সালওয়া বলেন, ‘এখন এটা বললে তো হবে না। কারণ, হুমকি দিয়ে পাঠানো সব ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে।’

উল্লেখ্য, নবাব আলী আব্বাছ খান মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া উপজেলা- কমলগঞ্জ আংশিক) আসনে জাতীয় পার্টি থেকে ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল মার্কায় নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নওয়াব আলী আব্বাস খান পেশায় জজ আদালতের প্রবীণ আইনজীবী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: