সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

রুদ্ধশ্বা’স ল’ড়াইয়ে ভা’রতকে হারিয়ে পা’কিস্তানের প্রতিশোধ

এই না হলে ভা’রত-পা’কিস্তান ল’ড়াই! শেষ ওভা’র পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছিল না, জিতবে কোন দল। টানটান উত্তে’জনার সেই থ্রিলারে এক বল বাকি থাকতে ভা’রতকে হারালো পা’কিস্তান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে গ্রুপপর্বে হার দিয়েই শুরু হয়েছিল এশিয়া কাপ। সুপার ফোরে এসে যেন সেই হারের প্রতিশোধ নিয়ে নিলো বাবর আজমের দল। আরেকটা উপভোগ্য ম্যাচ উপভোগ করলেন ক্রিকেটপ্রে’মীরা।

রুদ্ধশ্বা’স ম্যাচে শেষ ওভা’র পর্যন্ত জিইয়ে ছিল ল’ড়াই। যাতে শেষ হাসি হাসে পা’কিস্তান, এক বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলে নেয় আনপ্রেডিক্টেবলরা।

১৮২ রান তাড়া করতে নেমে শেষ দুই ওভা’রে পা’কিস্তানের দরকার ছিল ২৬ রান। ১৯তম ওভা’রটি অ’ভিজ্ঞ ভুবনেশ্বর কুমা’রের হাতে তুলে দেন রোহিত শর্মা। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি।

ভুবনেশ্বরের ওভা’রের দ্বিতীয় বলে ৯৩ মিটার বড় এক ছক্কা হাঁকিয়ে বসেন আসিফ আলি। চতুর্থ বলে খুশদিল শাহ আর শেষ বলে আসিফ হাঁকান আরেকটি বাউন্ডারি। ফলে শেষ ওভা’রে মাত্র ৭ রান দরকার পড়ে পা’কিস্তানের।

কিন্তু ম্যাচটা যে ভা’রত-পা’কিস্তানের! শেষ ওভা’রেও চলে তুমুল ল’ড়াই। অর্শদীপ সিংয়ের করা ওভা’রে দ্বিতীয় বলে আসিফ আলি বাউন্ডারি হাঁকালে ৪ বলে মাত্র ২ দরকার পড়ে পা’কিস্তানের।

কিন্তু পরের দুই বলে এক রানও নিতে পারে না পা’কিস্তান। বরং আসিফ আলি (৮ বলে ১৬) পড়েন এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে। ২ বলে ২ দরকার পড়ে পা’কিস্তানের। পুরো স্টেডিয়ামে তখন পিনপতন নীরবতা। যে কোনো কিছুই ঘটতে পারতো। নতুন ব্যাটার ইফতিখার আহমেদ যে স্ট্রাইকে।

তবে সব উত্তে’জনার আ’গুনে জল ঢেলে দিয়েছেন ইফতিখার। নিজের মোকাবেলা করা প্রথম বলটিই সোজা উইকে’টের দিক দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দেন তিনি। পা’কিস্তান মাতে জয়ের উল্লাসে।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বড় রান তাড়ায় নেমে অবশ্য শুরুটা তেমন ভালো ছিল না পা’কিস্তানের। বাবর আজম আর মোহাম্ম’দ রিজওয়ান ২২ বলে তোলেন মাত্র ২২ রান।

টানা তৃতীয় ম্যাচে ব্যর্থতার পরিচয় দেন পা’কিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। আগের দুই ম্যাচে করেছিলেন ১০ আর ৯। এবার ১০ বলে ১৪ রান করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি।

রবি বিষ্ণুইয়ের ঘূর্ণিতে ইনিংসের চতুর্থ ওভা’রে মিডউইকে’টে সহ’জ ক্যাচ তুলে দেন বাবর। তবে ২২ রানে প্রথম উইকেট হা’রানো পা’কিস্তান পাওয়ার প্লেতে খুব একটা খা’রাপ করেনি। ৬ ওভা’রে তোলে ৪৪ রান।

ফাখর জামান ফিল্ডিংয়ে শেষ ওভা’রে দুটি বাউন্ডারি দিয়েছিলেন। ব্যাটিংয়ে নেমেও সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ইনিংসের নবম ওভা’রে ইয়ুজবেন্দ্র চাহালকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লংঅনে ধ’রা পড়েন এই বাঁহাতি (১৮ বলে ১৫)।

তবে এরপর ঝড়ো এক জুটি গড়েন মোহাম্ম’দ রিজওয়ান আর মোহাম্ম’দ নওয়াজ। ৪১ বলে তাদের ৭৩ রানের জুটিতে ম্যাচ অনেকটাই পা’কিস্তানের পক্ষে চলে আসে।

৩৭ বলে ফিফটি তুলে নেন রিজওয়ান। নওয়াজ এগোচ্ছিলেন আরও বিধ্বংসী গতিতে। ২০ বলে ৬ চার আর ২ ছক্কায় ৪২ রানের ইনিংস খেলা এই অলরাউন্ডারকে শেষ পর্যন্ত ফেরান অ’ভিজ্ঞ ভুবনেশ্বর কুমা’র। ১৬তম ওভা’রে লংঅফ বাউন্ডারিতে ধ’রা পড়েন নওয়াজ।

রিজওয়ান তবু দারুণ খেলছিলেন। ২০ বলে তখন দরকার ৩৫। হার্দিক পান্ডিয়াকে তুলে মা’রতে গেলেন পা’কিস্তানি উইকেটরক্ষক। লংঅফে উঠে গেলো ক্যাচ। ৫১ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ৭১ করে রিজওয়ান ফেরার পরই জমে উঠে ম্যাচ।

এর আগে এশিয়া কাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটি তুলে নেন বিরাট কোহলি। গ্রুপপর্বে পা’কিস্তানের বিপক্ষে ৩৪ বলে ৩৫ করে সমালোচিত হয়েছিলেন। হংকংয়ের বিপক্ষেই ফেরেন স্বরূপে, করেন ৪৪ বলে অ’পরাজিত ৫৯।

ফের পা’কিস্তানের মুখোমুখি হয়ে ৪৪ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেললেন কোহলি। তার এই ইনিংসে ভর করেই ৭ উইকে’টে ১৮১ রানের বড় সংগ্রহ পায় ভা’রত।তবে ভা’রতের সংগ্রহটা আরও বড় হতে পারতো। ১০.৪ ওভা’রেই ১০০ রান তুলে নিয়েছিল রোহিত শর্মা’র দল। শেষ ৫৬ বলে তারা তুলতে পারে ৮১ রান। এর মধ্যে হারিস রউফের করা শেষ ওভা’রে ফাখর জামান দুটি বাউন্ডারি বানিয়ে দেন মিসফিল্ডিংয়ে।

ম’র্যাদার এই ল’ড়াইয়ে টস জিতেছেন পা’কিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ভা’রতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

তবে টস হারলেও ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনাই করে রোহিত শর্মা’র দল। রোহিত লোকেশ রাহুলকে নিয়ে ওপেনিংয়ে নেমে ৩১ বলে তুলে দেন ৫১ রান।

ষষ্ঠ ওভা’রে এসে অবশেষে ভা’রতীয় অধিনায়ককে আউট করেন হারিস রউফ। পা’কিস্তানি পেসারের বলে টপএজ হয়ে খুশদিল শাহের ক্যাচ হন রোহিত। ১৬ বলে ৩ চার আর ২ ছক্কায় মা’রকুটে ওপেনারের ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান।

পরের ওভা’রে ভা’রতের আরেক সেট ব্যাটারকে তুলে নেন শাদাব খান। পা’কিস্তানি স্পিনারকে ডাউন দ্য উইকে’টে খেলতে গিয়ে লংঅনে ক্যাচ হন লোকেশ রাহুল (২০ বলে ২৮)। ৮ রানের ব্যবধানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে ভা’রত।

তারপরও উইকে’টে এসে মা’রমুখী হওয়ার চেষ্টা করেন সূর্যকুমা’র যাদব। তবে অ’তি আগ্রাসী ব্যাটিংই যেন কাল হয় তার। ১০ বলে ১৩ রান করা এই ব্যাটার আউট হন মোহাম্ম’দ নওয়াজকে স্কয়ার লেগে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে। বিরাট কোহলির সঙ্গে তার জুটিটি ছিল ২১ বলে ২৯ রানের।

এরপর রিশাভ পান্তকে নিয়ে ২৫ বলে ৩৫ রানের আরেকটি জুটি গড়েন কোহলি। ১৪তম ওভা’রে এই জুটি ভাঙেন শাদাব। পা’কিস্তানি লেগস্পিনারকে রিভা’র্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে আসিফ আলির সহ’জ ক্যাচ হন পান্ত (১২ বলে ১৪)।

হার্দিক পান্ডিয়াও সুবিধা করতে পারেননি। মোহাম্ম’দ হাসনাইনের বলে শর্ট মিডউইকে’টে নওয়াজের ডাইভিং ক্যাচ হন ভা’রতীয় এই অলরাউন্ডার (০)। ৪ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভা’রত।

তবে একটা প্রান্ত ধরে দারুণ খেলে দলকে এগিয়ে নেন কোহলি। মোহাম্ম’দ হাসনাইনকে ছক্কা মে’রে ৩৬ বলে পূর্ণ করেন হাফসেঞ্চু’রি। শেষ ওভা’রে এসে দুই নিতে গিয়ে রানআউট হন কোহলি। ৪৪ বলে গড়া তার ৬০ রানের ইনিংসে ছিল ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কার মা’র।

পা’কিস্তানি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল শাদাব খান। ৩১ রানে এই লেগির শিকার ২ উইকেট।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: