সর্বশেষ আপডেট : ১৭ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

সেই ঝুমন দাস ফের গ্রেপ্তার

ফের গ্রে’প্তার হলেন সুনামগঞ্জের শাল্লার আ’লোচিত সেই ঝুমন দাস আপন। ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) সকাল থেকে দিবাগত রাত পর্যন্ত থা’নায় আ’ট’কে রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মা’মলায় তাকে গ্রে’প্তার দেখিয়েছে শাল্লা থা’না পু’লিশ।

শাল্লা থা’নার ভা’রপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি)আমিনুল ইস’লাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঝুমন দাস আপনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মা’মলায় গ্রে’প্তার করা হয়েছে। শাল্লা থা’নার এসআই সুমন নুর রহমান বাদী হয়ে এই মা’মলা’টি দায়ের করেন।

এর আগে সকালে ঝুমন দাশকে বাড়ি থেকে ধরে আনে পু’লিশ। টানা ১২ ঘণ্টা তাকে থা’নায় আ’ট’কে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রে’প্তার দেখানো হয়।

ঝুমন দাসের ভাই নুপুর দাস বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার অ’ভিযোগে পু’লিশ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় তাকে থা’নায় নিয়ে যায়। এর আগে দুই দিন ধরে তাকে ফলো করছিল পু’লিশ। এ সময় পু’লিশ ঝুমনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে যায় এবং ফেসবুক থেকে কিছু পোস্ট রিমুভ করে দেয়।

নুপুর দাস বলেন, সন্ধ্যায় ঝুমনের স্ত্রী’ থা’নায় গেলে তাকে জানানো হয়-জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঝুমনকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু মধ্যরাতে তাকে মা’মলায় গ্রে’প্তার দেখানো হয়।

তিনি আরও জানান, মন্দিরের ভেতরে ম’সজিদের দানবাক্স সংক্রান্ত ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি নিজের আইডি থেকে শেয়ার করেছিলেন ঝুমন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তে’জনা দেখা দেয়।

এ ব্যাপারে ঝুমনের স্ত্রী’ মুঠোফোনে বলেন, হঠাৎ করে আমা’র স্বামীকে ৪-৫ জন পু’লিশ ধরে নিয়ে যান। জানতে চাইলে পু’লিশ জানায়-জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থা’নায় নিয়ে যাচ্ছি। পু’লিশ যাওয়ার ১ ঘণ্টা পরেই আমিও থা’নায় যাই এবং ধরে নিয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে পু’লিশ জানায়, ঝুমন দাসের ফেইসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট শেয়ার করার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সেই সময় ঝুমন দাসকে হ্যান্ডকাপ ছাড়া একটা আলাদা রুমে রাখা হয়। কিন্তু পরে শুনি আমা’র স্বামীকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মা’মলায় গ্রে’প্তার দেখানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ মা’র্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘শানে রিসালাত সম্মেলন’ নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইস’লাম। এতে হেফাজতের তৎকালীন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বক্তব্য দেন। ওই সমাবেশের পরদিন ১৬ মা’র্চ মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের ঝুমন দাস। স্ট্যাটাসে তিনি মামুনুলের বি’রুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অ’ভিযোগ আনেন।

মামুনুলের সমালোচনাকে ইস’লামের সমালোচনা বলে এলাকায় প্রচার চালাতে থাকেন মামুনুলের অনুসারীরা। এতে এলাকাজুড়ে উত্তে’জনা দেখা দেয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা ১৬ মা’র্চ রাতে ঝুমনকে পু’লিশের হাতে তুলে দেন।

এর পরদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী’র সকালে কয়েক হাজার লোক লা’ঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করে হা’মলা চালায় নোয়াগাঁও গ্রামে। তারা ভাঙচুর ও লুটপাট করে ঝুমন দাসের বাড়িসহ হাওরপাড়ের হিন্দু গ্রামটির প্রায় ৯০টি বাড়িতে, মন্দিরে। এ সময় ঝুমনের স্ত্রী’ সুইটিকে পি’টিয়ে আ’হত করা হয়। এরপর ২২ মা’র্চ ঝুমনের বি’রুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মা’মলা করে শাল্লা থা’নার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম।

হা’মলার ঘটনায় শাল্লা থা’নার এসআই আব্দুল করিম, স্থানীয় হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুম’দার বকুল ও ঝুমন দাসের মা নিভা রানী তিনটি মা’মলা করেন। তিন মা’মলায় আ’সামি করা হয় প্রায় ৩ হাজার জনকে । এরপর থেকে পু’লিশ নানা সময়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রে’প্তার করে।

তারা সবাই এখন জামিনে। শুধুমাত্র জামিন পাচ্ছিলেন না ঝুমন দাস। বিচারিক আ’দালতে পাঁচ দফা তার জামিন আবেদন নাকচ করেন বিচারক। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন অধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছিল। এরই মধ্যে জামিনের জন্য হাই’কোর্টে আবেদন করেন ঝুমন দাস। কারাব’ন্দির ছয় মাস পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: