সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

চাকরি পাচ্ছেন সেই ঢাবি ছাত্র সন্তোষ, সুখের আশায় চা শ্রমিক মা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতকোত্তর পাস করা মৌলভীবাজারের সেই সন্তোষ চাকরি পেতে যাচ্ছেন। আগামী রবিবার মৌলভীবাজারের জে’লা প্রশাসক কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সন্তোষকে।

কমলগঞ্জ উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) সিফাতউদ্দিন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তার চাকরির খবর শুনে খুশিতে আত্মহারা তার মা। ছে’লের চাকরি হলে অবশেষে সুখের দেখা পাবেন তিনি।

গতকাল বুধবার সকালে সরকারি খাদ্য সহায়তা নিয়ে সন্তোষদের বাড়ি যান তিনি। কমলগঞ্জের ইউএনও সিফাতউদ্দিন বলেন, ‘নিউজ প্রকাশের পর মৌলভীবাজারের ডিসি স্যার আমাকে এই মা-ছে’লের ব্যাপারে খোঁজ নিতে বললেন।

আজ (গতকাল) তাঁদের বাসায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে চালডালসহ বেশ কিছু খাবার দিয়েছি। উপজে’লা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর মায়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তাও দিয়েছি। সন্তোষকে আপাতত খণ্ডকালীন কোনো চাকরি দেওয়া যায় কি না, সেই চেষ্টা করছি। আশা করছি, আগামী রবিবার সুখবরটা দিতে পারব। ’

এর আগে আনোয়ার গ্রুপের পক্ষ থেকেও সন্তোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) ও ইউনিট এইচআর (সিমেন্ট ডিভিশন) প্রধান মনোজ কুমা’র সাহা বলেন, ‘আম’রা সন্তোষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাঁর জন্য একটা চাকরির সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বিষয়টি তাদের বিবেচনাধীন।’

মৌলভীবাজারের শমসেরনগরে ফাঁড়ি কানিহাটি চা বাগানের এক শ্রমিক পরিবারে জন্ম সন্তোষ রবিদাস অঞ্জনের। জন্মের মাস ছয়েকের মা’থায় বাবাকে হারিয়েছিলেন। মা কমলি রবিদাস চা বাগানের শ্রমিক। তখন মজুরি পেতেন দৈনিক ১৮ টাকা। সেই সময় ছে’লেকে অন্যের বাসায় রেখে তিনি চলে যেতেন চা বাগানে।

ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন সন্তোষ। ২০১৩ সালে ভর্তি হন ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে। সন্তোষের মায়ের মজুরি ছিল তখন ১০২ টাকা। তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ছে’লের ভর্তির টাকা, ইউনিফর্ম আর বই-খাতা কিনে দিয়েছিলেন। ২০১৪ ডিসেম্বরে ছিল সন্তোষের এইচএসসির নিবন্ধন। তাঁর মা কমলি রবি দাস তখন ৫০ টাকার একটি নোট দিয়ে চোখের জল ফেলতে ফেলতে বলেছিলেন, ‘দেহি, কেউ ধার দেয়নি রে, বাপ। ’

কলেজের এক শিক্ষকের কাছ থেকে ধার নিয়ে সেবার নিবন্ধন ফি দেওয়া হয়। এইচএসসির পর ভর্তি পরীক্ষার কোচিং। কমলি তখন আবার ঋণ নিলেন ব্যাংক থেকে। লোনের কিস্তি পরিশোধে বাসা থেকে অনেক দূরে গিয়ে বালু শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এভাবে খেয়ে না খেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মা’র্কেটিং বিভাগে পড়ার সুযোগ পেলেন সন্তোষ।

মা-ছে’লের এই সংগ্রামের গল্প নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা ফেসবুকে রীতিমতো ভাই’রাল হয়ে গেছে এটি। প্রতিবেদনটি শেয়ার দিয়ে অনেকে এই মাকে ‘স্যালুট’ জানিয়েছে।

ছে’লের চাকরি পাওয়ার আশ্বা’সে সন্তোষের মা বলেন, ‘ ওর কথা লোকে বইলছে দেখে একটু ভালো লাগিছে। বাচ্চা (ছে’লে) যদি ভালা কোনো রুজি (চাকরি) পায়, তাহলে আমা’র সুখ অইবো। ’

সন্তোষ রবিদাস বললেন, ‘জন্মের পর থেকেই দেখেছি মায়ের নিরন্তর সংগ্রাম। এখনো দৈনিক ১২০ টাকা মজুরিতে সকাল-সন্ধ্যা খাটতে হয় মাকে। এত ক’ষ্টের পরও মা আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন। চাকরি হলে আমাদের ক’ষ্টের কথা তুলে ধ’রার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। ’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: