সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

জন্মনিবন্ধনে আর লাগবে না মা-বাবার সনদ

এখন থেকে জন্মনিবন্ধন করতে মা-বাবার জন্মসনদ আর লাগবে না। মা-বাবার জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করে নিয়ম কার্যকরের দেড় বছরের বেশি সময় পর তা তুলে দেওয়া হলো।

‘রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃ’ত্যুনিবন্ধন’ বলছে, ২৭ জুলাই থেকে জন্মনিবন্ধনের আবেদন করতে গেলে সফটওয়্যারে মা-বাবার জন্মসনদ চাওয়া হচ্ছে না। এতে বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সন্তান, যাদের মা কিংবা বাবা যেকোনো একজনের সঙ্গে যোগাযোগ নেই এবং পথশি’শুদের জন্মনিবন্ধন করতে যে জটিলতা ছিল, তা কাটবে বলে মনে করছেন ভোগান্তির শিকার মানুষেরা।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় বলছে, এখন থেকে হাসপাতা’লে জন্ম নেওয়ার পর দেওয়া ছাড়পত্র বা টিকার কাগজ যেকোনো একটি প্রমাণ দেখিয়ে শি’শুর জন্মনিবন্ধন করা যাবে।

এ নিয়ম আগেও কার্যকর ছিল। তবে ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নিয়মে পরিবর্তন এনে বলা হয়েছিল, ২০০১ সালের পর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জন্মনিবন্ধন করতে হলে তার বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন সনদ অবশ্যই প্রয়োজন হবে। ওই সময় জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে নানা ভোগান্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অ’ভিভাবকেরা।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, ‘মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার পরও কেন সন্তানের জন্মনিবন্ধন করার জন্য মা-বাবারও জন্মনিবন্ধন করা লাগবে?’

জন্মনিবন্ধন নিয়ে জনভোগান্তির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মা-বাবার জন্মনিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার জেনারেল মির্জা তারিক হিকমত। গতকাল রোববার তিনি বলেন, ‘২৭ জুলাই থেকে অনলাইনে জন্মনিবন্ধনের আবেদন নেওয়ার সফটওয়্যারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন যাঁরা শি’শুর জন্মনিবন্ধনের জন্য আবেদন করবেন, তাঁদের কাছে আগের মতো মা-বাবার জন্মসনদ চাওয়া হবে না।’

তবে আগের নিয়মের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জন্মনিবন্ধনের আন্তর্জাতিক ব্যবহার স’ম্পর্কে জানার কারণে ভবিষ্যতের কথা ভেবে মা-বাবার জন্মসনদ চাওয়া হতো। এভাবে ৩০ লাখ শি’শুর একক পরিচয়পত্র (ইউনিক আইডি) করা হয়েছে। এটা মা–বাবার সঙ্গে সন্তানের পরিচিতির একটি পদ্ধতি ছিল। মা-বাবার জন্মসনদের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ায় সে সুযোগটি নষ্ট হয়ে যাবে।’

নতুন নিয়ম যেভাবে কার্যকর হচ্ছে

নতুন নিয়মের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার জেনারেল বলেন, এ–সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়নি। সিস্টেম থেকে মা-বাবার জন্মসনদের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়া হয়েছে। সেটা আবেদন করতে গেলেই বোঝা যাবে। এর আগে গত বছর যে নিয়ম কার্যকর হয়েছিল, সেই সময়েও কোনো নির্দেশনা জারি হয়নি।

বিয়েবিচ্ছেদ হওয়া মা-বাবার সন্তান ও পথশি’শুদের ক্ষেত্রে কী’ করা হবে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার জেনারেল বলেন, এই আবেদনগুলো বিশেষ হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং নাগরিকেরা সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারতেন না। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) বা নিবন্ধন কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে আবেদন করতে হতো। যেহেতু মা-বাবার জন্মসনদের বাধ্যবাধকতা থাকছে না, তাই এ ধরনের পরিবারের শি’শুরাও সাধারণভাবে এখন থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। তবে পথশি’শুদের ক্ষেত্রে যারা মা-বাবার নাম বলতে পারবে না, তাদের আগের মতোই নিবন্ধন কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করতে হবে।

জন্ম ও মৃ’ত্যুনিবন্ধন বিধিমালা ২০১৮–এর ৩ (গ) ধারা অনুসারে, কোনো ব্যক্তি এতিম, প্রতিব’ন্ধী, তৃতীয় লি’ঙ্গ, পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন, পরিচয়হীন, বেদে, ভবঘুরে, পথবাসী বা ঠিকানাহীন বা যৌ’নকর্মী হলে যেসব তথ্য অসম্পূর্ণ থাকবে, সেসব স্থানে ‘অ’প্রাপ্য’ লিখে জন্ম ও মৃ’ত্যুনিবন্ধন করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতির কারণ দেখিয়ে নিবন্ধক জন্ম বা মৃ’ত্যুনিবন্ধন প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না।

ভোগান্তির শিকার হওয়া মানুষ সন্তুষ্

বিয়েবিচ্ছেদ হওয়া মা-বাবার এক কি’শোরী সন্তান এবং সাত পথশি’শু নিয়ে একাধিকবার প্রতিবেদন করেছিল। গত ১০ মে ‘মা-বাবার বিচ্ছেদ, জন্মসনদ পেতে সন্তানদের হে’নস্তা’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল, বিচ্ছেদ হওয়া মা-বাবার এক কি’শোরী সন্তান খালার কাছে বড় হয়।

শি’শু অবস্থায় তার মা মা’রা গেছে এবং বাবার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। ফলে মে’য়েটির ডিজিটাল জন্মসনদ পেতে গিয়ে হয়’রানির শিকার হয়েছিল পরিবারটি। বাবার জন্মসনদ চাওয়া হচ্ছিল এবং তা না থাকলে ‘অ’জ্ঞাত বা অ’প্রাপ্য’ লিখে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। মে’য়েটির খালু জানিয়েছিলেন, অ’জ্ঞাত বা অ’প্রাপ্য লিখলে মে’য়েটির পিতৃপরিচয় নেই বলে ধারণা জন্মাতে পারে।

এ জন্য তাঁরা রাজি হচ্ছিলেন না। মা-বাবার জন্মসনদের বাধ্যবাধকতা দূর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে কি’শোরীর খালু বলেন, এটা একটা বড় কাজ হয়েছে। অনেকে হে’নস্তা থেকে বাঁচবেন।

সাত পথশি’শুর জন্মসনদ নিয়ে জটিলতা তুলে ধরে ‘পথশি’শুদের বিশ্বকাপ: জন্মসনদ পেতে জটিলতা’ শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। এর মধ্যে তিন শি’শু কাতারের রাজধানী দোহায় এ বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য পথশি’শুদের বিশ্বকাপ ফুটবলের যাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। তাদের পাসপোর্টের জন্য জন্মসনদের প্রয়োজন ছিল। আর বাকি চার শি’শুর জন্মসনদের প্রয়োজন হয়েছিল স্কুলে ভর্তির জন্য।

ওই সাত শি’শু বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (লিডো) আশ্রয়কেন্দ্রে থাকে। মা-বাবার নামের জায়গায় ‘অ’জ্ঞাত বা অ’প্রাপ্য’ উল্লেখ করা নিয়ে আ’পত্তি জানানোয় সাত শি’শুর জন্মসনদ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিলেন লিডোর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মো. ফরহাদ হোসেন।

জন্মনিবন্ধন নিয়ে নতুন নিয়মের বিষয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, এখনো তিন শি’শুর পাসপোর্ট জটিলতা কাটেনি। কারণ, ই-পাসপোর্টে আবার ভিন্ন নিয়মকানুন। তবে নতুন নিয়মের কারণে স্কুলে ভর্তির জন্য শি’শুদের জন্মসনদ নিয়ে জটিলতা কাটতে পারে। তিনি বলেন, ‘জন্মনিবন্ধনের নতুন নিয়মের বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কিছু জানি না। আবেদন করতে গেলে বুঝতে পারব নতুন কোনো শর্ত আছে কি না।’

গত ১২ জুন পথশি’শুদের জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে স্পোর্টস ফর হোপ অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্স বাংলাদেশ (শি) নামের একটি বেসরকারি সংগঠনের পক্ষে আইনজীবী তাপস কান্তি বল হাই’কোর্টে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জুন হাই’কোর্ট এক রুলে দেশের ১৬ লাখ পথশি’শুকে জন্মনিবন্ধন সনদ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং পথশি’শুদের জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়তা কেন অ’বৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চান।

এ ব্যাপারে আইনজীবী তাপস কান্তি বল বলেন, সুবিধাবঞ্চিত পথশি’শুদের জন্মনিবন্ধনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কী’ কী’ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন হাই’কোর্ট। তিন মাসের মধ্যে নারী ও শি’শুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জন্মনিবন্ধন অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন আ’দালত। তিনি আরও বলেন, মা-বাবার জন্মসনদ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা উঠে গেলে এই শি’শুরা উপকৃত হবে।

পথশি’শুদের জন্মসনদ নিয়ে জটিলতা না কাটলে প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে আ’ন্দোলন করবেন বলে জানিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। নতুন নিয়মের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, এটিই হওয়ার কথা ছিল। রাষ্ট্রের দায়িত্ব শি’শুবান্ধব সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ’ভিভাবকহীন শি’শুদের অ’ভিভাবক হয়েছিলেন। সে পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল দেশ। এটার কারণ আমলাতন্ত্র। আরও অনেক ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্র দেশকে বিচ্যুতির পথে নিয়ে গেছে। তবে বঙ্গবন্ধুর মতো মানসিকতার রাজনীতিবিদের সামনে সমস্যাগুলো তুলে ধ’রা গেলে তাঁরা তা গ্রহণ করেন। এ ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।

সূত্র : প্রথম আলো

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: