সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

ব’ন্যা শেষে পূর্বের রূপে ফিরছে সুনামগঞ্জ, বাড়ছে পর্যট’কের আনাগোনা

হাওরের জে’লা সুনামগঞ্জ। আর এই জে’লার সৌন্দর্যকে সারা’বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছে এই অঞ্চলের পর্যটন স্পটগুলো। তার মধ্য অন্যতম সৌন্দর্যের লীলাভূমি হল সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর। তবে দুই দফার ব’ন্যায় ক্ষতিরমুখে পড়ে জে’লার পর্যটন শিল্প।

ব’ন্যার ধাক্কা কাটিয়ে এজন্য অনেকটাই নতুন করে সেজে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র টাঙ্গুয়ার হাওর। কিন্তু এখনও খুব বেশি পর্যট’কের দেখা নেই এখানে। তবে সংশ্লিষ্টদের আশা, খুব শিগগির পর্যটন স্পটগুলোয় মানুষের আনাগোনা আরও বাড়বে।

দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অন্যতম সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর। প্রাকৃতিক বন, পরিযায়ী ও দেশি পাখির নিরাপদ আবাসস্থলও এটি। তাই ভা’রত সীমান্তঘেঁষা এলাকায় মেঘ-পাহাড় আর হাওরের দিগন্তজোড়া জলরাশি দেখতে প্রতিবছর ঢল নামে হাজারো পর্যট’কের। হাওর বিলাস আর আনন্দ আড্ডায় মেতে ওঠেন পর্যট’করা। এখানকার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য দেখতে এখানে প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে লাখো পর্যট’ক আসেন।

সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে তাহিরপুর ও ধ’র্মপাশা উপজে’লার বিশাল এলাকা নিয়ে এই হাওরের অবস্থান। হাওরের ভেতরে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য খাল ও নালা। বর্ষায় সব মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। হাওরের উত্তরে ভা’রতের মেঘালয় পাহাড়। এই পাহাড় থেকে ৩৮টি ঝরনা নেমে এসে মিশেছে টাঙ্গুয়ার হাওরে।

এদিকে গত ১৬ জুনের পর এক মাসেরও বেশি সময় হাওরে অস্বাভাবিক পানি থাকায় পর্যট’কদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। তবে পানি সরার পর ৩ আগস্ট থেকে পর্যটনের দুয়ার খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে পর্যট’কদের মানতে হবে একাধিক শর্ত।

এখানে ঘুরতে আসা অনেক পর্যট’ক যেমন নৌকা ভাড়া নিয়ে হয়’রানির অ’ভিযোগ করেন, তেমনি অনেক পর্যট’ক হাওরে বসে খাবার খেয়ে সেই উচ্ছিষ্ট ফেলে হাওরের সৌন্দর্য নষ্ট করেন। এসব রোধে এ বছর ১২ শর্ত মেনে টাঙ্গুয়ার হাওরসহ তাহিরপুরের বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরতে হবে। সেই শর্ত লঙ্ঘন করলে পর্যট’কবাহী নৌযানের নিবন্ধন বাতিল করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে- হাওরে ভ্রমণকালে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে নিতে হবে, রওনা হওয়ার আগে তাহিরপুর থা’নায় নিরাপত্তার জন্য জিডি করা, যে কোনো কিছু কেনার আগে দামাদামি করে নেওয়া, গ্রুপ করে যাওয়া, হাওরে বজ্রপাত হলে নৌকার ছৈয়ের নিচে অবস্থান করা।

এছাড়াও খাবারের উচ্ছিষ্ট পানিতে না ফেলা, উচ্চ শব্দ ব্যবহারকারী মাইক বা যন্ত্র পরিহার করা, রাতের বেলা অ’তিরিক্ত আলো না জ্বালানো, টাঙ্গুয়ার জীব বৈচিত্র্য হু’মকির মধ্যে পড়ে এমন কাজ থেকে বিরত থাকা, নৌযানকে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন, নিবন্ধনপত্র হস্তান্তরযোগ্য নয়, নিবন্ধনপত্র সার্বক্ষণিক নৌযানে প্রদর্শন করতে হবে। এসব শর্ত মেনে পর্যট’ক ও পর্যট’কবাহী নৌ-চলাচল করতে হবে।

টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যট’ক ধ্রুব বলেন, ভ’য়াবহ ব’ন্যায় সুনামগঞ্জের অন্য পেশাজীবীদের মতো পর্যটনের সঙ্গে জ’ড়িতরাও সংকটে পড়েছেন। পর্যট’করা আসতে শুরু করেছেন। আশা করি, তাঁদের সংকট কে’টে যাবে।

নৌযান মালিক তাহির মোহাম্ম’দ তৌকির জানান, অনেক মানুষ মনে করছেন সুনামগঞ্জে এখনও ব’ন্যা চলছে। আম’রা অনেক কল পাই, যেখানে পর্যট’করা জিজ্ঞেস করেন, সুনামগঞ্জে ব’ন্যা চলছে কিনা। তাই এই বিষয়টি তাদের মা’থায় ঢুকিয়ে দিতে হবে যে, এখানে ব’ন্যা পরিস্থিতি অনেক আগেই শেষ।

টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যট’কবাহী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবিকুল ইস’লাম বলেন, অন্যান্য বছর এই সময়ে পর্যট’কের ভিড় থাকত। পর্যট’কবাহী নৌকা আগে থেকেই বুকিং থাকত। এবার ঘাটের ট্রলারগুলো বসা আছে। ব’ন্যার সময় কিছু লোকজন আ’ট’কা পড়ায় ভীতি ছড়িয়েছে। এরপর কিছুদিন প্রশাসন পর্যট’কদের টাঙ্গুয়ার হাওরে যেতে বাধা দেওয়ায় পর্যট’ক আগমনে ভাটা পড়েছে।

সুনামগঞ্জের জে’লা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এখন আমাদের নদী এবং হাওরের পানি স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। এখন আসলে নির্বিঘ্নে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে। ইতোমধ্যে শর্ত মেনে পর্যট’করা টাঙ্গুয়ার হাওরে আসতে শুরু করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: