সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

যেভাবে সন্ধান মিলল পিকে হালদারের

প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট ও বিদেশে পাচার করে পালিয়ে যাওয়া প্রশান্ত কুমা’র (পিকে) হালদারকে ধরতে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের অন্তত নয়টি জায়গায় একযোগে অ’ভিযান চালিয়েছে ভা’রতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

শুক্রবার থেকে এই অ’ভিযান চালানো হয়। ওইদিন সারাদিন অ’ভিযান চালিয়েও তাকে গ্রে’প্তার করতে পারেনি বাহিনীটি। শনিবার অবশেষে তিনি ধ’রা পড়েন সেই অশোকনগরেই, যেখানে তার অন্তত ২০-২২টি বিলাসবহুল বাড়ির সন্ধানও পাওয়া গেছে।

পরে গোয়েন্দা সংস্থাটির এক প্রেস বি’জ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিকে হালদার সে দেশে শি’বশঙ্কর হালদার নাম ধারণ করেছিলেন। এই নামে তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে রেশন কার্ড করে নেন। এমনকি ভা’রতীয় ভোটার কার্ড, প্যান ও আধার কার্ডের মতো বিভিন্ন সরকারি পরিচয় জালিয়াতি করে তিনি নিজেকে শি’বশঙ্কর হালদার বানিয়ে নেন। এছাড়া তিনি নিজেকে ভা’রতীয় নাগরিক হিসেবে জাহির করছিলেন। একই অবস্থা ছিল তার সহযোগীদেরও, যাদের তার সঙ্গে গ্রে’প্তার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও দু’র্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধে ভা’রতে এ অ’ভিযান চালানো হয়। শনিবার ওই অ’ভিযানে আরও পাঁচজনকে গ্রে’প্তার করা হয়। এরমধ্যে দুইজন বাংলাদেশি। তারা হলেন, প্রীতিশ কুমা’র হালদার ও প্রা’ণেশ কুমা’র হালদার। এছাড়া উত্তম মিত্র, স্বপন মিত্র ও সঞ্জীব হাওলাদার নামে তিনজনকে গ্রে’প্তার করে ইডি।

একই অ’ভিযানে সন্ধান পাওয়া যায় পিকে হালদারের বিপুল সম্পদেরও। ডিরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট পশ্চিমবঙ্গে তার কয়েকটি অ’ভিজাত বাড়িসহ বিপুল সম্পত্তির কথা জানিয়েছে। বাড়িগুলো থেকে জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথি জ’ব্দ করা হয়। শুধু পশ্চিমবঙ্গে পিকে হালদারের ২০ থেকে ২২টি বাড়ি আছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ভা’রতে ৫০ হাজার রুপির বেশি জমা করতে গেলে অর্থের উৎস জানানো বাধ্যতামূলক, সেখানে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কেনার জন্য কী’ভাবে ব্যাংকে এই লেনদেন করা হল, তা জানার চেষ্টা করছে ইডি। পাশাপাশি ব্যাংকটিতে নামে-বেনামে পিকে হালদারের কোনো অর্থ আছে কি-না, তাও জানার চেষ্টা করছে সংস্থাটি।

পিকে হালদারের আয়কর আইনজীবী ছিলেন সুকুমা’র মৃধা। পিকে হালদারের সঙ্গে যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের অ’ভিযোগে সুকুমা’র মৃধাকে গ্রে’প্তার করে দুদক। তিনি কারাগারে আছেন।

কলকাতা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে উত্তর ২৪ পরগনা জে’লার অশোকনগর পৌরসভা’র ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে সুকুমা’র মৃধার বিশাল বিলাসী বাড়ির সন্ধান পেয়েছে ইডি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মৃধাকে তারা মাছ ব্যবসায়ী হিসেবে চিনতেন। পিকে হালদার ও সুকুমা’র মৃধা অশোকনগরে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী। ইডি ধারণা করছে, এই দুইজনের দীর্ঘদিনের যোগসাজশে এনআরবির বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অশোকনগরের ভা’রতী পল্লী এলাকার পাশে নবজীবন পল্লীতে বিলাসবহুল বাগানবাড়ি পাওয়া গেছে পিকে হালদারের আত্মীয় প্রণব কুমা’র হালদারের। ঠিক তার পাশেই আরেক বিলাসবহুল বাগানবাড়ি সুকুমা’র মৃধার। মাছ ব্যবসায়ী পরিচয় দিলেও এলাকাবাসী সুকুমা’র মৃধার বিলাসী জীবন দেখে সব সময়ই স’ন্দেহ করত।

ইডির ত’দন্তে জানা যায়, এই এলাকাতেই একাধিক সম্পত্তি কিনেছে হালদার-মৃধা জুটি। এর মধ্যে শুক্রবার শুধু অশোকনগরেই তিন বাড়িতে তল্লা’শি চালায় ইডি। যার একটিতে এতদিন একাই থাকতেন সুকুমা’র মৃধার জামাতা সঞ্জীব হালদার। তাকেও গ্রে’প্তার করা হয়েছে।

সঞ্জীব বলেন, প্রায় দুই বছর আগে শেষবার সুকুমা’র মৃধা অশোকনগরের এই বাড়িতে এসেছিলেন। মৃধার সঙ্গে স’ম্পর্কের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা শুনেছি। তবে স্পষ্টভাবে কিছু জানি না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সঞ্জীব হালদার নিজেও বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি সুকুমা’র মৃধার যে বাড়িতে থাকছিলেন, সেটি মূলত পিকে হালদারের ভাই এনআরবিকা’ণ্ডে অন্যতম অ’ভিযু’ক্ত প্রীতিশ হালদারের। স্থানীয়দের কাছে তিনি প্রা’ণেশ হালদার নামে পরিচিত ছিলেন। তিন থেকে চার বছর আগে প্রীতিশ হালদার তার বাড়িটি সুকুমা’র মৃধার নামে হস্তান্তর করেন।

পিকে হালদারের আরেক সহযোগী স্বপন মিত্রের বাড়িতেও অ’ভিযোন চালায় ইডি। অশোকনগরের একই এলাকার বাসিন্দা স্বপন মিত্র অর্থ পাচারের কাজে অন্যতম অ’ভিযু’ক্ত। তার বাড়িতে তল্লা’শি চালিয়ে একাধিক নথি পাওয়া গেছে বলে দায়িত্বশীল এক কর্মক’র্তা জানিয়েছেন। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রে’প্তার করে ইডি।

অশোকনগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন এলাকা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জে’লার অ’ভিজাত এলাকায় পিকে হালদার চক্রের একাধিক বাড়ি ও অফিস রয়েছে। সেখানেও তল্লা’শি চালায় ইডি। একটি বিলাসবহুল বাড়িতে সুকুমা’র মৃধার মে’য়ে অনিন্দিতা মৃধার স্বামী সঞ্জীবকে পাওয়া যায়। অন্যগুলো ফাঁকা ছিল। এরপর সঞ্জীবকে জেরা করা হয়। এছাড়া পিকে হালদারের আত্মীয় প্রণব কুমা’র হালদার এবং তার দুই ছে’লে মিঠুন হালদার ও বিশ্বজিৎ হালদারকেও জেরা করে ইডি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রণব কুমা’র হালদার ছিলেন সরকারি কর্মচারী। তার বড় ছে’লে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্ম’রত এবং ছোট ছে’লে মিঠুন হালদার বিএসএফ জওয়ান হিসেবে কর্ম’রত। আয় ও সম্পত্তি সঙ্গতিহীন হওয়ায় তারাও ইডির নজরে রয়েছেন। তাদের চার বিঘা জমির ওপর বিলাসবহুল বাড়িটি সব সময় এলাকাসীর মনে প্রশ্নের উদ্রেক ঘটিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে। পিকে হালদারের পাচার করা টাকা ‘হাওলা’র মাধ্যমে ভা’রতে ঢুকেছে বলে ধারণা করছে ইডি।

কলকাতা ছাড়াও দিল্লি, মুম্বাই ও ভা’রতের বেশ কয়েকটি শহরে হালদার-মৃধা জুটির বিনিয়োগ রয়েছে বলে অনুমান করছে ইডি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাংলাদেশি হয়েও ভা’রতে হালদার-মৃধা জুটির প্রভাবের অন্যতম বড় কারণ ছিল স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এবং মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। খবর সমকালের

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: