সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

দালালচক্রের খপ্পরে সর্বস্ব হারানোর গল্প

৪৭ বছর বয়সি বাংলাদেশি নাগরিক শাজিল হুসেন বাবুল ছাতক উপজে’লার বাসিন্দা। মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জ’ড়িত ব্যক্তির ফাঁদে পড়ে ক্রোয়েশিয়া যেতে রাজি হয়ে বর্তমানে নিঃস্ব এই বাংলাদেশি।

এই ভুক্তভোগীর গ্রামেরই বাসিন্দা মানবপাচারে জড়িত বলে অ’ভিযোগ ৷ দালালচক্র তাকে ক্রোয়েশিয়া পাঠাতে না পেরে শেষ মুহূর্তে পাঠিয়ে দেয় সার্বিয়াতে। অর্থনৈতিক ও মানসিক হয়’রানির শিকার হয়ে দেশে ফিরে সংশ্লিষ্ট চক্রের বি’রুদ্ধে মানবপাচার আইনে মা’মলা করেছেন ভুক্তভোগী। তিনি ইনফোমাইগ্রেন্টস বাংলাকে পুরো ঘটনা জানিয়েছেন।

২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে শাজিল হুসেন বাবুলকে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব দেন ইউনিয়নেরই এক পরিচিত ব্যক্তি। প্রস্তাবে বলা হয় ইউরোপের দেশ ক্রোয়েশিয়ায় কাজের ভিসায় নিয়ে যাওয়া হবে। বেতন থাকা-খাওয়া বাবদ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

তার বক্তব্য, “করো’না ভাই’রাসের কারণে এক বছর অ’পেক্ষায় থাকার পরে ২০২০ সালে ডিসেম্বর মাসে ফোনে একটি ক্রোয়েশিয়ার কাজের ভিসার কপি দেখানো হয়। দালাল আমাকে জানায় যেন আমি দ্রুত আট লাখ টাকা জোগাড় করি। দ্রুত টাকা দিলে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি অথবা মা’র্চ মাসে ফ্লাইট দেয়া হবে বলে আশ্বা’স দেয়া হয়।”

শাজিল হোসেন আরও যোগ করেন, “৩০ হাজার টাকা দেয়ার পর আমি ক্রোয়েশিয়ার ভিসার কপি দেখে দালালের নিজের নামে থাকা সিলেটের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আড়াই লাখ টাকা জমা করি। পরবর্তীতে আরেক দফায় দালালের দুই ভাইয়ের সামনে সাড়ে তিন লাখ টাকা প্রদান করি। আমা’র একটি পৈতৃক জমি এবং স্ত্রী’র সোনার গহনা বিক্রি করে পুরো টাকা জোগাড় করেছিলাম।”

ক্রোয়েশিয়া পরিকল্পনা ব্যর্থ, দ্বিতীয় প্রস্তাব সার্বিয়া
ভুক্তভোগী ব্যক্তি পুরো টাকা দিলে ২০২১ সালের মা’র্চ মাসে ঢাকায় আসতে বলা হয়। পরপর তিন দিন দালালের দেয়া ভিসায় ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ক্রোয়েশিয়ার বিমানে ওঠার চেষ্টা করলে প্রতিবারই অ’ভিবাসন দপ্তর থেকে তাকে ফেরত পাঠানো হয়।

শাজিল হোসেন অ’ভিযোগ করেন, “এক সময়ে আমি বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রামে ফেরত আসি। স্থানীয় সবাইকে জানালে তারা সালিশি সভা’র আয়োজন করেন। এর মধ্যে দালাল আমাকে বলে আইনি জটিলতার জন্য ক্রোয়েশিয়ার ফ্লাইট করা সম্ভব হয়নি। সে প্রস্তাব দেয়, আমি চাইলে সার্বিয়া যেতে পারব। আমি জানাই আমি কোথাও যাব না। আমা’র সব টাকা ফেরত দাও।”

নতুন চুক্তিতে রাজি হলেও শাজিল হোসেন বাবুলকে অ’পেক্ষা করতে হয়৷ ২০২১ সালের অক্টোবরে ভা’রতে অবস্থিত সার্বিয়া দূতাবাস থেকে ভিসা এসেছে বলে জানায় দালাল।

এরপর তিনি ঢাকায় চলে আসলে ঢাকার মহাখালির একটি হোটেলে দালালের এক পরিচিত ব্যক্তি ভিসা’সহ যাবতীয় নথি বুঝিয়ে দেয়। ৩১ আগস্ট ২০২১ তারিখে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার কথা জানান শাজিল হোসেন বাবুল। তিনি জানান ঢাকা থেকে এই দালালদের অধীনে যাওয়া একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন তিনি৷ যাত্রাবিরতিতে দুবাই থেকে একই দালালের অধীনে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক তার সঙ্গে সার্বিয়া পাড়ি দেন।

চাকুরি নেই, মানসিক নি’র্যা’তন ও ভয় ভীতি প্রদর্শন
সার্বিয়ায় ভালো’ভাবে পৌঁছালেও এবং একটি কাজের আবেদনসহ ভিসায় গেলেও কেন তিনি সেখানে থাকলেন না, তা জানতে চায়

উত্তরে শাজিল জানান, “১ সেপ্টেম্বর বেলগ্রেডে যাওয়ার পর দালালের নেটওয়ার্কের একজন বাংলাদেশি ব্যক্তি আমাকে নিয়ে যায়। আমি সেখানে রাস্তাঘাট কিছুই চিনি না এবং ভাষাও জানি না। আমাকে বলা হয়েছিল অ’পেক্ষাকৃত কম ক’ষ্টের কোন কাজ দেয়া হবে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর থেকে দালালের পরিচিত সেই ব্যক্তি আমা’র কাছ থেকে থাকা খাওয়া বাবদ ৫০০ ইউরো বা পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেন। ৫০০ ইউরো তাকে দিতে বাধ্য হই।”
তিনি আরো বলেন, “বেলগ্রেডে একজন বাংলাদেশি আমা’র ভিসা দেখে জানান আমি চাইলে বাংলাদেশে ফেরত যেতে পারব কারণ ২০২২ সালের মা’র্চ মাস পর্যন্ত আমা’র ভিসার মেয়াদ আছে। আমি জানতাম না এই ভিসা দিয়ে ফিরে আসতে পারব। জানার পর আমি আমা’র বোনকে ফোনে কা’ন্নাকাটি করে জানাই যেন আমা’র জন্য বিমান টিকিট পাঠানো হয়। আমা’র বোন টিকিট পাঠালে আমি ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ফিরি।”

মা’মলা, ন্যায় বিচার পাওয়ার আশা
মূলত সার্বিয়া যাওয়ার আগে দালালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল নির্দিষ্ট সংস্থার আওতায় ভালো বেতনে কাজ দেয়া হবে। এই আশায় তিনি সার্বিয়ায় কাজ করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। পরে সেখানে গিয়ে কোনো নির্দিষ্ট সংস্থার আওতায় কাজ না পেয়ে মানসিক অ’ত্যাচারে হতাশ হয়ে দেশে ফিরে আসার দাবি করেন শাজিল হোসেন ।

তিনি আরও জানান, “সার্বিয়ায় আমি যাদের সঙ্গে ছিলাম তাদের মধ্যে অনেক লোক অনিয়মিত পথে ইউরোপের শেঙ্গেন দেশগুলোতে ঢুকতে সীমান্তে থাকা ক্যাম্পের দিকে চলে যান। আমাকে এই ধরনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল তবে সেসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। শেষে আমি একটি ঘরে একা ছিলাম। আমা’র সঙ্গে বাদল নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক ছিল৷ সার্বিয়ার ক্যাম্প থেকে ইটালি যাওয়ার পথে তার মা’রা যাওয়ার সংবাদ পাই।”

বর্তমানে তিনি আইনি কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না জিজ্ঞেস করা হলে শাজিল হোসেন বাবুল বলেন, “দেশে ফিরে আসার পর আমি একজন আইনহ’জীবীর দ্বারস্থ হলে তিনি আমাকে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মা’মলা করার প্রস্তুতি নিতে বলেন। ডিসেম্বর মাসে শীতকালীন ছুটিতে আ’দালত বন্ধ থাকায় আমি জানুয়ারি মাসে সুনামগঞ্জ অ’তিরিক্ত জে’লা দায়রা জজ আ’দালতে মানব পাচার আইনে দালালসহ তার পরিবারের সদস্যদেরও যু’ক্ত করে মা’মলা দায়ের করি।”

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিরা অনেক সময় বড় পাচার চক্রের স্থানীয় প্রতিনিধিদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারান। বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করে বিদেশে গিয়ে তা কখন আয় করতে পারবেন সেটিও মা’থায় রাখেন না অনেকে। শাজিল হোসেন বাবুলের মতো বহু লোক জায়গা জমি ও সোনাসহ শেষ সম্বল বিক্রি করে ঝুঁ’কিপূর্ণ অ’ভিবাসনের পথ বেছে নেন। সুত্রঃ ইনফো মাইগ্রেন্ট

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: