সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

নিষেধাজ্ঞার পরও চীনে রোজা পালন

মু’সলিম বিশ্বের মহিমান্বিত মাস রমজান। এ মাস ঘিরে নানা অনুষ্ঠান আর রীতি-রেওয়াজ আছে। রোজা রাখা, ইফতারের পর তারাবির নামাজ পড়া ইত্যাদি ছাড়াও আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয় খুশির আ’মেজ।

ধ’র্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের চেয়েও এসব রীতি সাংস্কৃতিক উদযাপন হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। চীনের ছাংশায় ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা রোজা। সেখানকার উইঘুর মু’সলমানদের ওপর রোজা পালনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা। এ সত্ত্বেও তারা কী’ভাবে রমজান যাপন করছেন, তা জানাচ্ছেন মুনশি মুহাম্ম’দ উবাইদুল্লাহ

চীনের শিনঝিয়াং প্রদেশে প্রায় এক কোটি মু’সলমানের বাস৷ সেখানকার কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইটে রোজা রাখা ও ধ’র্মীয় রীতি পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে৷ রাজ্যের করলা শহর কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মক’র্তা-কর্মচারি, শিক্ষার্থী ও শি’শুরা রোজা রাখতে পারবেন না।

কোনো ধ’র্মীয় রীতি পালন করতে পারবেন না৷।’ এ ছাড়া রোজার মাসে খাবার ও পানীয়ের দোকানও বন্ধ রাখা যাবে না বলে জানানো হয়েছে৷ যদিও চীনের মন্ত্রিসভা বলেছে, ‘মু’সলমানরা চাইলে রোজার সময় তাদের রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারে৷’

সাংস্কৃতিক নিষেধাজ্ঞা উত্তে’জনার কারণ
শুইমগু জে’লার শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে৷ তাতে রোজার মাসে স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ম’সজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছে৷ উল্লেখ্য, শিনঝিয়াং রাজ্যের মু’সলমানরা উইঘুর সম্প্রদায়ের৷

সেখানকার নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে উইঘুরদের মাঝেমধ্যেই সংঘাত লেগে থাকে৷ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, সংখ্যালঘু উইঘুরদের ওপর বিভিন্ন ধরনের ধ’র্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিষেধাজ্ঞা শিনচিয়াং রাজ্যে উত্তে’জনার কারণ৷

শুয়োরের মাংস খেতে বাধ্যকরণ
চীনে মু’সলমানদের ইস’লাম ধ’র্মের অনুশাসন বা সংস্কৃতি মেনে চলা প্রায় অসম্ভব। দেশটির ক্ষমতাসীন চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) ইস’লাম ধ’র্মকেইধ্বং,স করতে চায়। এরই প্রেক্ষিতে শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর সম্প্রদায়ের মু’সলমানদের বাধ্য করা হচ্ছে শুয়োরের মাংস খেতে। সেইসঙ্গে উইঘুরদের শুয়োর পালনেও বাধ্য করছে শিনজিয়াং প্রশাসন।

উইঘুর মু’সলিম’দের দুর্দশার ছবি
সরকারি নির্দেশ না মানলে জে’ল, জ’রিমানা। অ’ভিযোগ, গু’ম করাও হয়েছে অনেককে। সিসিপির কাছে মু’সলিম ধ’র্মীয় অনুশাসন মানা মানেই সে সন্ত্রাসবাদী। গায়ে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘ধ’র্মীয় সন্ত্রাসবাদী’র তকমা।

এমনটাই জানিয়েছে ‘বিটার উন্টার’ নামে চীনের ধ’র্মীয় স্বাধীনতা ও মানবাধিকারবিষয়ক ম্যাগাজিন। প্রতিবেদক ইউয়ান ওয়েই-র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উইঘুর মু’সলিম’দের দুর্দশার ছবি।

উইঘুরদের ওপর কড়া নজরদারি
ম্যাগাজিনটি শিনজিয়াং-এর সরকারি কর্মক’র্তাকে উদ্ধৃত করে জানায়, এ বছর রমজানের সময়েই চীন সরকার ‘সন্ত্রাসবিরোধী ও স্থায়িত্ব রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা’র নামে মু’সলমানদের ওপর ব্যাপক দমন কর্মসূচি হাতে নেয়।

ইস’লাম ধ’র্মের কোনো অনুশাসন বা শিক্ষা মানলেই তার ওপর নেমে এসেছে পু’লিশি সন্ত্রাস। রমজান পালন মু’সলমানদের জন্য নিষিদ্ধ। তাই পু’লিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উইঘুরদের ওপর কড়া নজরদারির।’

কমিউনিস্ট ভাবধারার প্রশিক্ষণ
তারাবির নামাজ বা ইফতার—এমনকি জুমা’র নামাজেও পু’লিশের কড়া নজর। সরকারি নথি থেকেই ম্যাগাজিনটি জানতে পেরেছে, স’ন্দেহ’জনক কাউকে পেলেই পু’লিশ ‘প্রশিক্ষণ শি’বির’-এর নামে চলতে থাকা বিভিন্ন কয়েদখানায় চালান করে দিচ্ছে।

সেখানে চলছে কমিউনিস্ট ভাবধারায় দীক্ষিত করার প্রশিক্ষণ। সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক অ’ত্যাচার। জে’লখানাকেও হার মানাচ্ছে এই তথাকথিত প্রশিক্ষণ শি’বির। জিনজিয়াং থেকে কেউ চীনের অন্য শহরে গেলে সেখানেও তাদের নথিপত্র পরীক্ষার নামে চলছে ধ’র্মচর্চার ওপর নজরদারি।

সিসিপির চোখে অ’প’রাধ
সিসিপি বলছে, ‘ধ’র্মীয় সন্ত্রাস প্রতিরোধ’ চালাচ্ছেন তারা। বাস্তবে কিন্তু মানুষের ধ’র্মাচরণের অধিকার কেড়ে নিতে তারা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস শুরু করেছে শিনজিয়াংয়ে। শিনজিয়াংয়ে লক্ষ লক্ষ মু’সলমানকে প্রশিক্ষণ শি’বিরের নামে ব’ন্দি করে রাখা হয়েছে।

সেখানে তাদের ধ’র্মত্যাগে বাধ্য করছে চীনা প্রশাসন। ইচ্ছেমতো মু’সলমানরা নিজেদের দাড়ি রাখতে বা পোশাক পরতে পারছেন না। ধ’র্মীয় পোশাক পরাও সিসিপির চোখে অ’প’রাধ।

রোজার দিনের অ’ভিজ্ঞতার গল্প
ইস’লাম ধ’র্মের প্রতি আস্থা ব্যক্ত করলেই উইঘুরদের বলা হচ্ছে ‘ধ’র্মীয় স’ন্ত্রাসী’। তারপর শুরু হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। আসলে উইঘুরদের ধ’র্মীয় পরিচিতিটাকেই মুছে দিতে চাইছে সিসিপি।

কেড়ে নিচ্ছে ওদের মানবাধিকার। ব’ন্দুকের নলের সামনে ধ’র্মান্তকরণ চলছে জিনজিয়াংজুড়ে। চীনের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের চিংহাই প্রদেশের এক মু’সলিম বিটার উইনটার-কে তার নিজের অ’ভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘সারাদিন রোজা রেখে নামাজের জন্য ম’সজিদে যাচ্ছিলাম। এমন সময় পু’লিশ আমাদের পথ আ’ট’কায়। বাধ্য করে রোজার মধ্যেই পানি খেতে। সারাদিনের রোজা এভাবেই নষ্ট হয়। নামাজও পড়তে দেয়নি আমাদের।’

কড়া শা’স্তির বিধান
শিনজিয়াংয়ের উইঘুররা চীনের অন্যান্য জায়গাতেও মোটেই শান্তিতে থাকতে পারেন না। রমজান মাসে তাদের ওপর নেমে আসে আরও বেশি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। স্কুলপড়ুয়াদের ওপরও জুলুম চালানো হয় সিসিপির নির্দেশে।

পূর্ব সীমান্তের শানডং প্রদেশের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক তার নিজের অ’ভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করেছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ চীনাদের সঙ্গে উইঘুর মু’সলিম’দেরও রমজানের সময় শুয়োরের মাংস খেতে বাধ্য করে। মু’সলিম ছাত্রদের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। যদি কোনো ছাত্রকে নামাজ পড়তে দেখা যায়, তবে তাকে কড়া শা’স্তির বিধানও রয়েছে স্কুলে।

চোখের পানি ফেলতেও ভ’য়
চীনা রাশিচক্রে বলা হয়েছে, ‘শুয়োরদের জন্য শুভ বছর। শুয়োরদের জন্য নির্ধারিত বছরটিতে অংশীদার হোন নিজের সৌভাগ্যের।’ শিনজিয়াং-এর গ্রামে গ্রামে উইঘুরদের বাড়ির দরোজায় সরকারি ক’র্তারা লাগিয়ে দিয়েছেন এই পোস্টার।

গৃহক’র্তার অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেননি সরকারি ক’র্তারা। উইঘুররা চীনের দানবিক আচরণে নিজেদের চোখের পানি ফেলতেও ভ’য় পান। কারণ, টের পেলেই নেমে আসবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস।

সংস্কৃতি আগলে রাখার অধিকার নেই
পু’লিশ অ’ত্যাচার তো আছেই। রয়েছে নারী-শি’শুদের ধ’র্ষণ ও নি’র্যা’তন। প্রতিবাদ করার জোঁ নেই। বিন্দুমাত্র মানবাধিকারের বালাই নেই জিনজিয়াং প্রদেশ উইঘুরদের জন্য। নেই নিজেদের ধ’র্ম বা সংস্কৃতিকে আগলে রাখার অধিকার।

ইস’লামই এখন চীনের সবচেয়ে বড় শত্রু। তাই নামাজ পড়া, রোজা রাখা বা পবিত্র কোরআনকে আগলে ধ’রার মতো পবিত্র কাজ সেখানে নিষিদ্ধ। চীনের আর্থিক সুবিধাভোগী পা’কিস্তানসহ মু’সলিম দুনিয়া যে তাদের পাশে নেই, সেটাও বুঝে গেছে উইঘুররা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: