সর্বশেষ আপডেট : ৫৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

‘পুড়ির বাড়ি ইফতারি’ কারো পৌষমাস কারো সর্বনাশ

মারুফ হাসান:

রমজানের আগের মাসে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বাবা আলতাফ হোসেন। স্বামী প্রবাসী। টেলিফোনের বিয়েতেও সেন্টার ভাড়া করে ৩/৪শ মানুষকে খাওয়াতে হয়েছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আত্মীয়-স্বজনরা খুশি মনে নিজ নিজ বাড়ি ফিরেছেন। নিজের বাড়িতে থেকেও বাবা আলতাফ নিজের মধ্যে ফিরতে পারেননি। বিয়েতে ৪/৫ লক্ষ টাকা ঋণ হয়ে গেছে। মধ্যবিত্ত পরিবারে এ ঋণ পাহাড় সমান বটে।

বিয়ের মাস ঘুরতে পারেনি। এরই মধ্যে এসে গেছে রমজান। মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে ইফতারি পাঠাতে হবে।
তা-ও আবার গ্রামশুদ্ধ মানুষ খাবে। কোথাও ঘাটতি থাকা চলবে না। আলতাফ হোসেনের মাথা আর কাজ করতে চায় না। আবার ঋণ। ঋণ না করলে ‘পুড়ির বাড়ি ইফতারি’ কীভাবে পাঠাবেন।

‘পুড়ির বাড়ি ইফতারি’ বলতে মেয়ের বিয়ের পর তার শ্বশুর বাড়িতে গাড়ি ভরে নানা প্রকার মৌসুমি ফল, পিঠা-পুলি, মিষ্টি-মিঠাই বা বাজার থেকে কেনা রেডিমেড অথবা নিজ বাড়িতে বানানো ইফতারি নিয়ে যাওয়ার প্রাচীন রীতি রেওয়াজকে বুঝায়। শুধু যে নতুন বিয়ে হওয়া মেয়ের ক্ষেত্রে ইফতারি পাঠানো হয় তা নয়। বহু বছর আগে বিয়ে হয়েছে এমন মেয়ের বাড়িতে এখনো ইফতারি পাঠানো হয়। মেয়ের বাবা বেঁচে না থাকলে ভাইদের দায়িত্ব তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। যা আজ রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।

যুগ যুগ ধরে এই রেওয়াজ আলতাফ সাহেবের বাবা, তার বাবা এবং তার বাবার দাদার দাদারাও পালন করে এসেছেন। সুতরাং এই প্রথা সহজে বিলুপ্ত হবার নয়। যদিও ইসলামে এই রীতির কোনো উল্লেখই নেই। বাধ্যবাধকতা থাকুক বা না থাকুক সময় মতো ইফতারি দিতে না পারায় নানা জায়গায় নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে। এই রীতির বলি হয়ে বহু নারী নিপীড়িত-নিগৃহীত হন। এমনকি এই প্রথা পালনে ব্যর্থ হয়ে অনেক নারীকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়। কোনো কোনো স্বামী শ্বশুর বাড়ি থেকে ইফতারি না পেলে স্ত্রীকে তালাকও দিয়ে থাকে।

শ্বশুরবাড়ির ইফতারি না পেয়ে বউ তালাক দেয়ার মতো ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার (২০ এপ্রিল) রাতে জকিগঞ্জের কালিগঞ্জের মানিকপুর ইউপির বাল্লাগ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা গেছে, মানিকপুর ইউপির বাল্লা গ্রামের মৃত বাবুল মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমদ শ্বশুরবাড়ি থেকে ইফতারি না পেয়ে বউকে তালাক দিয়েছেন। এ ঘটনায় নবজাতক সন্তান নিয়ে স্ত্রী পড়েছেন বিপাকে। অমানবিক এমন কাণ্ডে সর্বত্র বির্তক চলছে। তবে অভিযুক্ত জাকারিয়া আহমদ বিষয়টি অশ্বিকার করে বলেছেন, দীর্ঘদিন থেকে পারিবারিক মতবিরোধে আমি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি। শ্বশুরবাড়ি লোকজন ‘ইফতারির জন্য তালাক’ বলে রটনা করছেন।

গত বছরের ৮ই মে সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার তাহিরপুর গ্রামের শরীফা বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শ্বশুর, শ্বাশুড়ি ও তার স্বামীকে আটকের পর জানা গেল, ইফতারি পাঠাতে দেরি হওয়ায় স্বামী আরশ আলী ও শ্বাশুরি মিনারা বেগমের নির্যাতনে শিকার হন শরীফা। তার মৃত্যুতে ৯ মাসের বিবাহিত জীবনের ইতি ঘটে। শরীফা বেগম হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পিটুয়া গ্রামের শাকিম উল্যার মেয়ে।

এছাড়া ২০১৯ সালের ১০ মে দুপুর ২টায় জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ঘিলাতৈল গ্রামের শামীম আহমদ এর স্ত্রী হেলেনা বেগম (২০) ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। কারণ হিসেবে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে ইফতারি নিয়ে বউ-শ্বাশুরির ঝগড়া হয়। পুরো বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়। একপর্যায়ে হেলেনা আত্মহত্যা করেন। হেলেনা উপজেলার ২নং লক্ষীপুর ইউনিয়নের হোসেন মিয়ার মেয়ে।

বর্তমানে ‘পুড়ির বাড়ি ইফতারি’ অমানবিক বা কুপ্রথা হিসেবে আখ্যায়িত। একইসাথে এটি হতদরিদ্র কন্যার বাবা বা পরিবারের জন্য সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।

অনেক বাবা আছেন যাদের ২/৩ কিংবা তার চেয়ে বেশি সংখ্যক কন্যার বিয়ে হয়েছে। তিনি হয়তো বেঁচে নেই। তার ছেলেরা বোনদের বাড়ি বাড়ি রমজানের এই ইফতারি প্রথা যথাযথভাবে পালন করে আসছেন। যারা পারছেন না তাদের বোনদের সংসারের ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার খবর শুনে কেউ স্বস্তি পাবার কথা নয়।

রমজানের ৩০দিনের যে-কোনো একদিন বেশ ঘটা করেই আয়োজন করা হয় ‘পুড়ির বাড়ি ইফতারি’। নতুন বিবাহিতদের ক্ষেত্রে রমজানের ১ম দিনতো বটেই, মাসের অন্য একদিনও ইফতারি পাঠাতে হয়। মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন আবার বউয়ের বাপের বাড়ির ইফতারিতে বেশ মজে থাকেন। আত্মীয়পরিজন, প্রতিবেশীকে সেই ইফতারি খেতে দাওয়াত করেন। যারা আসতে পারেন না তাদের বাড়ি বয়ে গিয়ে ইফতারি দিয়ে আসতে হয়। বউয়ের বাপের বাড়ির ইফতারি বলে কথা! কোন বউয়ের বাপের বাড়ি থেকে কত বেশি আইটেমের ইফতার এল, তারও একটা নীরব প্রতিযোগিতা চলে। যা অসচ্ছল পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নীরব অত্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই ‘পুড়ির বাড়ি ইফতারি’ বিত্তবানের কাছে খ্যাতির বিষয় হলেও অসহায়-দুস্থ এবং নিম্নবিত্তের লোকদের কাছে এক আতঙ্কের নাম।

এই আতঙ্ককে চিরতরে সমাজ থেকে বিতাড়িত করতে দামান্দ বা বরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সিলেটি দামান্দরা মুখে কুলুপ এঁটে রাখেন। অনেকে আবার বাড়ির মুরুব্বিয়ানদের ওপর দোষ চাপিয়ে খালাস পেয়ে যান। তবে ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়। নতুন প্রজন্মের বর-কনেরা ইফতারি দেয়া নেয়ার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকেন। শ্বশুরবাড়ি থেকে আসা ইফতারি খাওয়াটাকে অনেকে ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ হিসেবে দেখেন।

‘পুড়ির বাড়ি ইফতারি’ প্রথার কারণে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার চাইতে সিলেটে রমজান মাসজুড়ে ইফতারসামগ্রীর বাজার বেশ রমরমা হয়ে ওঠে। হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে তৈরি হয় রকমারি ইফতার সামগ্রী। খাবার দোকানগুলোতে ইফতারি কিনতে দুপুর থেকেই ক্রেতারা ভিড় করতে শুরু করেন।
যেহেতু রমজান মাসে রেস্টুরেন্টগুলো দিনের বেলা বন্ধ থাকে তারা তাদের সেই ব্যবসায়িক ক্ষতি পুষিয়ে নেন ইফতারি বিক্রি করেন। তবে ইফতারির সবচেয়ে বড় আয়োজনটা হয় ফুটপাতে। কেউ কেউ শুধু রমজানে ইফতারির ব্যবসা করতে মাঠে নামেন। নিজ ঘরে তুলে নেন ভালো অঙ্কের টাকাও।

সিলেটের ইফতারিতে ঘরোয়া আয়োজনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় খিচুড়ি এবং আখনি পোলাও। এছাড়াও ইফতারের সময় কিংবা রাতে চায়ের সঙ্গে খাওয়ার জন্য আরেকটি আনুষঙ্গিক পদ হচ্ছে বাখরখানি; যুগ যুগ ধরে যার প্রচলন লক্ষ করা গেছে। ঐতিহ্যগতভাবে ‘পুড়ির বাড়ি ইফতারি’ আইটেমের মধ্যে থাকে ডুবা হান্দেশ, চই পিঠা, চিতল পিঠা, রুট পিঠা, ভাপা পিঠা, ঢুপি পিঠা, খুদি পিঠা, চুঙ্গা পিঠা, নুনগড়া এবং পবসহ আরো নানা ধরনের পিঠা, মিষ্টি, জিলাপি, নিমকি, খাজা, আমির্তি, দেশি-বিদেশি ফল, চানা, পিঁয়াজু, পোলাও, চপ, বেগুনি ও শাকের তৈরি বিভিন্ন ধরনের বড়া।

‘পুড়ির বাড়ি ইফতারি’ নিয়ে সামজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও রয়েছে ভিন্নমত।

দৈনিক জালালাবদ সম্পাদক সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুকতাবিস-উন-নূর বলেন, মেয়ের বাড়ির সামর্থ্য অনুযায়ী ইফতারি দেয়া উচিত। অনুরূপ ছেলেরও শ্বশুর বাড়িতে ইফতারি পাঠানোও দরকার। এতে আত্মীয়তার বন্ধন আরো দৃঢ় হয়।
তিনি বলেন, সামর্থ্য অনুযায়ী ইফতার করানো অবশ্যই পুণ্যের কাজ। তবে এর জন্য লালায়িত থাকা, বায়না করা বা চাপ প্রয়োগ অবশ্যই পরিত্যজ্য।

সিলেটে এটি একটি পুরানো সামাজিক প্রথা। কারো যদি সংগতি থাকে আর স্বত:প্রবৃত্ত হয়ে মেয়ের বাড়িতে নিজ সাধ্যমতো ইফতারি দেয়, তাহলে দোষের কিছু নেই বলে মনে করেন লেখক ও সাংবাদিক আ.ফ.ম সাঈদ।
তিনি বলেন, একশ্রেণির লোভী প্রকৃতির মানুষ মেয়ের বাড়ি থেকে ইফতারি পাঠানোকে আবশ্যিক কর্তব্য বলে মনে করছে। পিত্রালয় থেকে ইফতারি না এলে অথবা পরিমাণে কম এলে অনেক গৃহবধূকে নিগৃহীত হতে হয়। তাই এই ইফতারি এখন কুপ্রথায় রূপ নিয়েছে। তাই এটি নির্মূলের জন্য সামাজিক সচেতনতা একান্ত প্রয়োজন।

‘ইফতারি খাওয়ানো পূণ্য হাসিলের কাজ। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী নিয়ে ইফতারি সম্পন্ন করলে সম্প্রীতি বাড়ে। তবে, একটি বাধ্যতামূলক কাজ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। জোরজবরদস্তি আরোপ করে ইফতারি গ্রহণ এবং এই চর্চাকে উৎসাহিত করা অবশ্যই সমর্থন যোগ্য নয় বললেন উৎস প্রকাশন-এর সত্ত্বাধীকারী মোস্তাফা সেলিম।

সাংবাদিক ছামির মাহমুদ মনে করেন, মেয়ের বাড়ি ইফতার পাঠানো এক ধরনের ‘জুলুম প্রথা’ । যা বন্ধ করা প্রয়োজন। এরকম অদ্ভুত প্রথা অসহায়-দরিদ্র বাবাদের সমাজে হেয় করছে। ইফতার করানো অত্যন্ত পুণ্যের কাজ। তবে ইফতারি কেউ যদি বাধ্য হয়ে পাঠান, তাহলে তা পুণ্যের বদলে গুনাহের কাজে পরিণত হবে। মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ইফতার পাঠানোর প্রথা কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন এই সাংবাদিক।

স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর.কে লাইসিয়াম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ইকবাল আহমেদ জানান, যদিও আমাদের সিলেট অঞ্চলে ‘পুড়ির বাড়ির ইফতারি’ একটা ঐতিহ্য। কিন্তু নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য একটা অত্যাচার। তাই পুড়ির বাড়ির ইফতারিকে আমরা না বলি।

মেয়ের বাড়ীর ইফতারি, এটা সামাজিক বন্ধন নয়, সামাজিকতার নাম নিয়ে মেয়ের বাবার উপর এক নিরব অবিচার-অত্যাচার। আর এটাই আমাদের সমাজে প্রচলিত রেওয়াজ ও ঐতিহ্য হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন কবি সুমা জায়গীরদার। তিনি বলেন, যুগ-যুগ ধরে অত্যাচারের বলি হচ্ছেন মেয়ের বাবা এবং তার পরিবার। ভুক্তভোগী পরিবাররা জানেন এই কুসংস্কারে তারা কতটা জর্জরিত। আমি কখনো এই ইফতার দেয়া প্রথাকে সমর্থন করিনা।

ব্যাংকার আজিজুল ইসলাম বলেন, শুধু ইফতারি কেন, যে-কোনো পিতা তার মেয়ের বাড়িতে কিছু দিতে পারলে আনন্দিত হবে। কিন্তু বর্তমানে ইফতারি প্রদান যেভাবে বাধ্যতামূলক এবং প্রেস্টিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে সেরকম প্রচলিত ইফতারি প্রথার সম্পূর্ণ বিপক্ষে আমার ব্যক্তিগত অবস্থান। কোনো পিতা না খেয়ে অথবা ধারদেনা করে মেয়ের বাড়ি ইফতারি দিতে হবে এই প্রথার বিলুপ্তি কামনা করি। কিন্তু রোজা, ইফতার, ইফতারি এসব যেহেতু ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই এক্ষেত্রে রাসুলের (সা.) প্রদর্শিত বিধানকে আমাদের অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। আমাদের নবী অমানবিক কোনো বিষয় প্রতিষ্ঠা করে যাননি। আমরা অপব্যবহারের মাধ্যমে এরকম অনেক বিষয়কে অমানবিক করে তুলেছি। ইফতারি আদান-প্রদানের মাঝে যেমন সওয়াব রয়েছে তেমনি আত্মীয়তার সম্পর্কও শানিত হয়। তাই স্বেচ্ছায় কেউ দিতে চায় এমন ইফতারি চালু থাকুক। তবে ইফতারি দিতেই হবে এরকম বাধ্যবাধকতাকে আমাদের নিরুৎসাহিত করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: