সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET
Fapperman.com DoEscorts

তাহিরপুরে বাড়ছে পানি, বাঁধ ভাঙার শঙ্কায় হাওরবাসী

বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নামা অব্যাহত থাকায় হাওরে বাঁধ ভেঙে ফসলডুবির শ’ঙ্কা বাড়ছে। বাঁধের কানায় কানায় এখন পানি। যেসব হাওরে বাঁধ এখনও টিকে আছে সে বাঁধগুলোও ঝুঁ’কির মুখে রয়েছে। অনেক বাঁধেই উপচে পানি পড়ার উপক্রম হয়েছে আবার অনেক বাঁধে ধস ও ফাটল দেখ দেয়ায় সেখানে বালি ও মাটির বস্তা ভরে বাঁধে দিযে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজে’লার কৃষকরা। এদিকে শ’ঙ্কা ও ভ’য়ের মধ্যেই হাওরে হাওরে হাজার হাজার কৃষক ও তাদের পরিবারে সকল সদস্যরা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ধান কে’টে খলায় শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছে।

অন্যদিকে পিআইসির নামে প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রকল্প নিয়ে সরকারি টাকা লুটপাট করেছে এমন অ’ভিযোগের পাহাড় হাওরাঞ্চলের সর্বত্রই ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজে’লার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চিলাইন তাহিরপুর গ্রামের পাশে নাদিয়ার, পালই ও ছিড়ারগাও হাওরের ২ হাজার ৫০০ একর জমি পানি তলিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। এছাড়াও নাদিয়ার হাওরের এই বাঁধটি ভেঙে গেলে মাটিয়ার হাওর এদিনের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে যাবে। এখানে পানি উন্নয়নের কোনো বাঁধ নেই। তাই সেখানে বালি ও মাটির বস্তা ভরে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছে কৃষক বলে জানান, চিলাইন তাহিরপুর গ্রামের কৃষক হাদিউজ্জামান।

এদিকে, মাটিয়ান, শনি, মহালিয়া হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একদিকে হাওরে পানি প্রবেশ করছে, অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে পারছেন না। টিকে থাকা বাঁধগুলোরও কানায় কানায় নদীর পানি। বাঁধ ভেঙে বোরো ধান তলিয়ে আশ’ঙ্কায় শ্রমিকদের দ্বিগুণ পারিশ্রমিক দিয়ে ধান কাটছেন অনেকেই। আবার অর্থের অভাবে অনেকেই এক মণ ধানের দামেও মিলাতে পারায় নিজেরাই ধান কাটছেন।

শনির হাওরের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ১০ কিয়ার বোরো জমি চাষ করেছি। দু-কিয়ার বোরো জমি কে’টেছি। হাওরে এখন ধান পাকতে সা’প্তাহ সময় লাগবে। অনেকেই বাঁধ ভেঙে এক ফসলি বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়া ভ’য়ে আধা পাকা ধান কাটছেন।

মাটিয়ান হাওরের কৃষক শরিফ মিয়া জানান, হাওরের অনেকেই ধান কে’টেছেন তবে বেশিরভাগ জমি এখনও কা’টা হয়নি, কারণ ধান এখনও পুরোপুরি পাকেনি।

মহালিয়া হাওরের সোলাই’মানপুর গ্রামের কৃষক তানবির আহমেদ জানান, অনেক পরিশ্রম করে ধার দেনা করে টাকা আইন্না জমি করছি, যদি হাওরের বাঁধ ভাইঙ্গা যায় তাহলে আগামী এক বছর কী’ভাবে চলমু। এখন বাঁধ ভাঙার ভ’য়ে আধা পাকা ধান কাঠছে হাওর পারের কৃষকরা।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহম’দ মোরাদ জানান, আমা’র ইউনিয়নের পানিতে ডুবে বোরো ধানের ক্ষতির পরিমাণ বেশি। বাঁধ রক্ষায় এখনও দিনরাত পড়ে আছি। আগাম ব’ন্যার আশ’ঙ্কায় পুরোপুরি বোরো ধান পাকার আগেই কৃষকদের ধান কে’টে ফেলার পরাম’র্শ দিচ্ছে প্রশাসন ও কৃষি অফিস। হাওরে হাজার হাজার কৃষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা কাচা ও আধা পাকা ধান কাটছে।

তাহিরপুর উপজে’লা কৃষি কর্মক’র্তা মো. হাসান উদ দোলা জানান, আমাদের হাওরে শ্রমিক সংকট নেই। শ্রমিক সংকট মেটাতে হাওরে ৪৮টি ধান কা’টার মেশিন হাওরে কৃষকদের ধান কাটছে। তিনি আরও জানান, এবার ছোট বড় ২৩টি হাওরে বোরো জমি চাষ করেছেন কৃষকরা ১৭,৪৯৫ হাজার হেক্টর। এখনও পর্যন্ত হাওরে ৫ হাজার ১৫ হেক্টর ধান কা’টা হয়েছে। আর কা’টার উপযোগী আছে হাওরে ১২৮০ হেক্টরের বেশি। আশা করছি কৃষকরা তাদের ক’ষ্টের সোনালী বোরো ধান কে’টে গো’লায় তুলতে পারবে।

তাহিরপুর উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা রায়হান কবির জানান, এখনও হাওরের প্রতিটি বাঁধ রক্ষায় সতর্কতার সঙ্গে কঠোর নজরধারী রাখছি। প্রতিটি বাঁধে লোকজনকে সতর্ক থাকতে বলেছি। যে বাঁধের সমস্যা হচ্ছে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: মকিস মনসুর আহমদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ৯/আই, ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
ফোন: ০৮২১-৭২৬৫২৭, মোবাইল: ০১৭১৭৬৮১২১৪
ই-মেইল: [email protected]

Developed by: